হোঁচট খেয়েও অর্থনীতির স্প্রিন্টে এগিয়ে বাংলাদেশ
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ১৯:৫৬
বাংলাদেশকে নিয়ে কিছুদিন ধরে বিশ্বের নামকরা গণমাধ্যম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থার করা প্রশংসাসূচক মন্তব্য দেশ, সরকার ও জনগণের জন্য খুবই তৃপ্তিদায়ক। এসব উচ্ছ্বসিত গুণগান হয়ত অব্যাহত থাকতো যদি আশুলিয়ার তাজরীন পোশাক কারখানায় মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড না ঘটতো। যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহত্ শ্রমিক সংগঠন আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার এন্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্গানাইজেশন (এএফএল-সিআইও) কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম অধিকার সংগঠন “ক্লিন ক্লোথস ক্যাম্পেইন”সহ কয়েকটি গণমাধ্যমও এ ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়েছে। এখানে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে না- এ অভিযোগে তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রতিযোগী দেশগুলোকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলেছে। টমি হিলফিগার, গ্যাপ, সিএন্ডএ, ওয়ালমার্ট, ক্যাফোর মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানিতে নিরুত্সাহিত করতে তারা সবকিছুই করেছে। এএফএল-সিআইও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির শ্রমিক সংগঠন হিসেবে সমধিক পরিচিত। তাই এ সংগঠনটির এদেশীয় এজেন্ট আশুলিয়া অঞ্চলের স্বঘোষিত শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের হত্যার বিচার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ঢাকায় এসে দাবি করে গেছেন। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মিসেস ক্লিনটন সতর্ক করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, বিভিন্ন অজুহাতে তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রসারকে বিঘ্নিত করতে অত্যন্ত তত্পর রয়েছে। অগত্যা সফল না হয়ে কয়েকমাস পূর্বে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি বায়ারদের শরণাপন্ন হয়েছিল। বিদেশি ক্রেতাদের সংগঠনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচার করা হয়েছিল যে, তারা বাংলাদেশ থেকে আর গার্মেন্টস অর্ডার নেবে না। কারণ এখানে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা হয় না। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ চাউর হতে থাকে। কয়েকদিন পর ইউরোপ-আমেরিকার বায়াররা ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন যে, তারা আগের চেয়ে বেশি অর্ডার দিতে আগ্রহী। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতে তারা গার্মেন্টস মালিকদের সাথে একযোগে কাজ করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। পরবর্তী চার মাস চুপচাপ ছিল। কোথাও শ্রমিক উত্তেজনা-সহিংসতা ছিল না। উত্পাদন ও রপ্তানি নির্বিঘ্নে হয়েছে।
হঠাত্ করেই আগুন লাগার ঘটনা নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়েছে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতায়। তিনি বলেছেন, “এটি দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত।” এ ঘটনার পরদিন সাভারের ডেবোনেয়ার পোশাক কারখানায় আগুন লাগিয়ে চলে যাওয়ার সময় এক নারীশ্রমিক ও তার অপর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদি তাজরীন গার্মেন্টসেও ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকে তাহলে তা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অশনি সংকেত। আর এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টা বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধীদের দল জামাত-শিবির এককভাবে করেছে তাও গ্রহণযোগ্য নয়। এর সঙ্গে দেশি-বিদেশি চক্র জড়িত থাকতে পারে। যারা চায় না যে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত সমৃদ্ধ হোক। বাংলাদেশ সমপ্রতি তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে চীনের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তা অনেকেরই পছন্দ না। গরীবদের এত সামর্থ্য থাকতে নেই। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্মরণ করিয়ে দেন যে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের একমাত্র রপ্তানি খাত পাটশিল্পকে ধ্বংস করার জন্য পাটের গুদামে আগুন লাগানো হয়েছে। তখনও বাংলাদেশ প্রতিবেশীসহ বৃহত্ শক্তির রোষানলে পড়েছিল। তখনও স্বাধীনতা বিরোধী ও সুযোগ-সন্ধানীরা এসব দেশবিরোধী অপকর্মে মদদ দিয়েছে। সমর্থন করেছে। এখনো অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে জঙ্গী, সন্ত্রাসী ও ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির অভাব নেই।
আগুন লাগার কারণ নাশকতা কিনা তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। প্রশ্ন হচ্ছে, যেকোনো কারণেই আগুন লাগলে এত মানুষ মারা যাবে কেন? ১৯৯০’র দশক থেকেই গার্মেন্টস পল্লী গড়ে তোলার কথা সরকার বলে এসেছে। এদিকে রপ্তানি চাহিদা প্রায় ১৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। কিন্তু তা হয়নি। ফলে ফ্ল্যাট ও বাসাবাড়ীকে কারখানায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এসব বাসাবাড়ীতে কারখানায় ব্যবহূত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুত্ পরিবহন উপযোগী বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় না। ফলে কারখানাগুলোতে শর্টসার্কিট নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ জাতীয় পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরই অবহেলিত থেকেছে। পণ্য চুরি হওয়ার ভয়ে তারা শ্রমিকদেরকে একরকম বন্দী অবস্থায় ঘরে কাজ করায়। আগুন লাগলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। গেট বন্ধ। বিকল্প সিঁড়ি নেই। এমন মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েই গ্রাম থেকে আসা নারীকূল শ্রম দেয়। দুটো নগদ পয়সা আয় করে। সংসারের অভাব দূর করে। এই নিরাপত্তাহীনতাকে গার্মেন্টস মালিকরা খুব যে পাত্তা দেয় এমন নজির নেই। এসব পর্যবেক্ষণ করা যাদের দায়িত্ব অর্থাত্ বিজিএমইএ এবং শ্রম অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা তারাও দায়িত্ব পালন করে না। এনজিওকর্মীরা আন্দোলন করার জন্য শ্রমিকদের ক্ষেপিয়ে তুলতে যতো বেশি তত্পর তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে করণীয় সম্পর্কে শ্রমিকদেরকে সচেতন করতে ততোটাই অনাগ্রহী। সর্বত্রই একটা গা-ছাড়া ভাব। দায়িত্বহীনতার ছড়াছড়ি। এর খেসারত্ দিচ্ছে নিরীহ শ্রমিকরা। গত ২০ বছরে গার্মেন্টসে আগুনে পুড়ে এক হাজারের বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছে । তারপরও সরকার ও মালিকপক্ষ কারো টনক নড়ছে না। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার প্রচার-প্রচারণার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, বিশ্বব্যাপী শ্রম অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত সংগঠনগুলো এবার এর শেষ দেখে ছাড়বে। তারা দুর্ঘটনার জন্য দেশের পোশাক কারখানায় দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা, অনিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও এক রুমে অনেক বেশী মানুষকে কাজ করতে বাধ্য করাকে দায়ী করেছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট তাজরীন ফ্যাসনসের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে। একই চাপ শ্রমিক সংগঠনগুলো অন্য কোম্পানির ওপরও দিচ্ছে। এ অগ্নিকাণ্ডের খেসারত্ দেশের গার্মেন্টস খাত ও রপ্তানি আয়কে কত বেশি দিতে হবে তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, রপ্তানি না কমলেও এবার আমদানিকারকরা কমপ্লায়েন্স বা পণ্য উত্পাদনের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি নিশ্চিত করেই কেনার অর্ডার দেবে। তাজরীনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকার, বিজিএমইএ ও গার্মেন্টস মালিকদের একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানেও দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনা হলেও যাতে যানমালের ক্ষয়ক্ষতি কম হয় তার পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে বর্তমান ক্ষতটি দ্রুতই শুকাবে। আমদানিকারকরা আস্থা ফিরে পাবে। তৈরি পোশাক রপ্তানি ঝুঁকিমুক্ত হবে।
সামগ্রিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অর্জন একটি নীরব বিপ্লব হিসেবে ধরা পড়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়ার কাছে। অথচ দেশটির সম্পদ বলতে তেমন কিছুই নেই। সামান্য প্রাকৃতিক গ্যাস যা আগামী ১৫ বছরেই নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর আছে উদ্যমী ১৫ কোটি মানুষ। যার ৬০ শতাংশই পূর্ণ কর্মক্ষম। এদের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। এই কর্মক্ষম বিশাল জনশক্তিই বাংলাদেশের বড় সম্পদ। শ্রমিকদের কর্মদক্ষতাও বেড়েছে। দেশের উন্নয়নে দৃঢ়সংকল্প রাজনৈতিক নেতৃত্ব ধারাবাহিকভাবে এ জনশক্তিকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবেই। তারই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশের সামপ্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূয়সী প্রশংসা দেখে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩-এ বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে যে অল্প কয়েকটি দেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন-উভয়টিতেই সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অগ্রগণ্য। যদিও এখনো কেউ কেউ এ অর্জনকে মেনে নিতে পারছে না। তাই কার্পণ্য করে দেশের এ অগ্রগতিকে “অমীমাংসিত ধাঁধা”, “উন্নয়নের পরীক্ষাগার” বলে অভিহিত করেছে। আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন সূচকের দিকে তাকালেই তাক লাগানো এ সাফল্যগুলো ফুটে উঠে। শেয়ারবাজারে ধস, হলমার্ক ব্যাংকঋণ কেলেংকারি এবং ডেসটিনির অর্থ লোপাট অর্থনীতির অগ্রযাত্রা হোঁচট খেয়েছে ঠিকই কিন্তু ট্র্যাকচ্যুত হয়নি। বিগত চার বছর ধরে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি হার ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের জনসংখ্যা ১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়লেও সমানুপাতিক হারে চাল, আলু, গম প্রভৃতি দানাদার খাদ্যের উত্পাদন বেড়েছে। তাই বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। শুধু স্বল্পোন্নত দেশ নয়, যেকোনো দেশের জন্যই খাদ্য আমদানি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশকে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে না। সরকারের জন্য এটি অত্যন্ত স্বস্তির। কৃষি বহুমুখীকরণেও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এখন উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশের বাজারেও সারা বছরই সব ধরনের শাক-সবজি পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিপণ্য রপ্তানিও বেড়েছে। ফল উত্পাদন বেড়েছে। মত্স্য ও পোলটি্র খাতেও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। জনসংখ্যার চাপে জলাশয় কমে গেলেও মত্স্য উত্পাদন বেড়েছে। পোলটি্র ও মত্স্য খামারগুলো দেশের প্রোটিন চাহিদা পূরণ করছে। পুষ্টির যোগান বাড়ায় মানুষের কর্মশক্তি বেড়েছে। মেধা বিকাশের সামর্থ্য হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় প্রায় ২,০০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন এশিয়ার মধ্যে চীনের পরই দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। আর বিশ্বের মধ্যে চীন ও ২৭-দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরই তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। প্রবাসী আয়ে প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত বছর রেমিটেন্স এসেছিল ১,২২০ কোটি ডলার। ২০১২ সালে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে রেমিটেন্স এসেছে ১,১৭৮ কোটি ডলার। বছর শেষে তা ১,৪০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে বলেছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সপ্তম শীর্ষ প্রবাসী-আয় অর্জনকারী দেশ। বিনিয়োগ বেড়েছে। ২০১১ সালে ১১৩ কোটি ডলার বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ। সংরক্ষণমূলক মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের ফলে চলতি মূলধনে সন্তোষজনক স্থিতি রয়েছে। রাজস্ব আয়ে প্রায় ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, গ্রামীণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম অব্যাহত বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবেলা করে মূল্যস্ফীতি সাত শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি মাত্র ২ শতাংশ। যদিও কৃষক ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে এমনি ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর টনক নড়েছে। অর্থনীতির এ ভাল অবস্থার সুফল জনগণ ভোগ করছে। মাথাপিছু আয় চার বছরে ৬৩০ ডলার থেকে ৮৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। মানুষের গড়আয়ু ৬৯ বছরে উন্নীত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে প্রায় ১২ শতাংশ দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, উন্নয়নটা ব্যাপকভিত্তিক হয়েছে। এটি ছোট-বড়, ধনী-গরীব, শহর-গ্রাম, সব অঞ্চলে সমভাবে হয়েছে। সুষম উন্নয়নের ফলে পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুত্ উত্পাদনে সাত বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে একটা সহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরপরও বেশ কয়েকটি নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্রও নির্মাণাধীন আছে। ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানি এবং কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। সিদ্ধান্তহীনতাও কম দায়ী নয়। গ্যাসের ক্ষেত্রেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের গতিও বেশ ধীর। চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়েনি। এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে। এমনটাই ভবিষদ্বাণী করেছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। আর তা হলে বাংলাদেশ তার লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে। সামাজিক খাতগুলোর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ স্বপ্লোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। আর্থ-সামাজিক এ অগ্রগতির ধারা বজায় রাখতে দেশের প্রতিটি জনগণকে কাজ করতে হবে। নিজের সেরাটা দেয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।