মুলাডুলি ইউনিয়ন
হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে
বাড়ছে সচেতনতা
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ১৯:৫৭
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলে স্বীকৃত ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইউনিয়নে ট্যাক্স আদায়ের উদ্যোগ এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নের প্রধান উত্স হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য ট্যাক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত্ এখানে ট্যাক্স আদায়ের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকার রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে আছে। ফলে এখানে বিপুল পরিমাণে ঢেঁড়স ও শিম উত্পাদন হলেও রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত না হওয়ায় জনগণ তথা এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমৃদ্ধ হচ্ছে না। প্রায় ৩৬ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত মুলাডুলি ইউনিয়নের আয়তন ৫ বর্গ কিলোমিটার। কৃষিকাজ এলাকার মানুষের প্রধান উপজীবিকা। স্থানীয় সরকার প্রশাসনে অর্থায়ন না হওয়ায় এলাকার প্রায় ৭৫ কিলেমিটার রাস্তাঘাট একদম কাঁচা। এডিবি ও বিশ্বব্যাংক নির্ভর এখানে পাকা রাস্তা রয়েছে মাত্র ২২ কি.মি. এবং সেমিপাকা ১০ কি.মি.। ইতিপূর্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভোট হারানোর আশংকায় স্থানীয়ভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে জানা গেছে। যে কারণে স্বাধীনতা-উত্তর সময়কালে মুলাডুলির অধিকাংশ রাস্তাই কাঁচা এবং পাশাপাশি রয়েছে জলাবদ্ধতা।
মুলাডুলির চেয়ারম্যান সেলিম মালিথাও তার এলাকার প্রধান সমস্যা রাস্তাঘাট ও জলাবদ্ধতা বলে জানালেন। ঊর্বর এলাকা হওয়া সত্ত্বেও গোয়ালবাথান, হাজারিপাড়া ও সরইকান্দি গ্রামে জলাবদ্ধতার কারণে বারোমাস ফসল উত্পাদনে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি জানান। সিভিপিআইসি প্রকল্পের আওতায় হোল্ডিং ট্যাক্স শীর্ষক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ট্যাক্স আদায়ের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা জানিয়েছেন। ইউপি সচিব মো. শহিদুল্লাহ জানান, চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা এবারে মিটিং করে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছেন। ৭ হাজার ২৫৯ জনকে এবারে হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। শতকরা ৭৫ ভাগ আদায়ের মাধ্যমে ৪ লাখ ১ হাজার ২৫০ টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হবে বলে তিনি জানান। পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি হবে বলে জানা যায়।
হোল্ডিং ট্যাক্স ছাড়াও এই ইউনিয়নে ব্যবসায় খাতে ১ লাখ ৩৫ হাজার, লাইসেন্স ফি খাতে ৭ হাজার, স্থাবর সম্পত্তি খাতে ৬ লাখ, বিনোদন খাতে ৫ হাজার, খোয়াড় হতে ৯ হাজারসহ অন্যান্য খাত মিলিয়ে ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৭৫ টাকা এবারে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে চৌকিদার দিয়ে কর আদায় করা হলেও এবারে কর আদায়ের জন্য একজনকে নিয়োগও দেয়া হয়েছে বলে সচিব জানান। আদায়কৃত করের অর্থ জনগণের মতামত নিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিতে রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যয় করা হবে বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। গোয়ালবাথান গ্রামের আবুল কালাম জানান, তিনি ৩ বার গ্রাম চৌকিদারের হাতে ট্যাক্স দিয়েছেন। পরিষদে টাকা জমা হয়েছে কিনা তা জানেন না। ১নং ওয়ার্ডের নাজিমুদ্দিন শেখ ট্যাক্স কেন এবং কাকে দিতে হয় তা তিনি জানেন না। তবে ৭নং ওয়ার্ডের মাদ্রাসা শিক্ষক রহিম এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সকলেরই ট্যাক্স দেয়া উচিত বলে মনে করেন।