পৈতৃক বাড়ি বেদখলের খবরে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

ইত্তেফাক রিপোর্ট

রাজধানীর লালবাগে রাতের আঁধারে হামলা ভাঙচুর ও বেধড়ক পিটিয়ে এক মুক্তিযোদ্ধার একটি দোকান ও বাড়ির কিছু অংশ দখল করেছে একটি চক্র। এই খবর শুনে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন মুক্তিযোদ্ধা স্ট্রোক করে মারা যান। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেছেন ওই মৃত মুক্তিযোদ্ধার অসহায় পরিবার। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী রেনু বেগমের পক্ষে তার মেয়ে মুক্তা। তিনি বলেন, তার বাবা মো. আমিন উল্লাহ মুক্তিযুদ্ধে ২ ও ৪ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। যার গেজেট নম্বর ১৪১০/৪, ক্রমিক নং ৫৪৯ এবং সনদ নম্বর ম-১৩৬৫৬৪। তিনি সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধা হলেও দেশের সম্মানে কোনো ভাতা বা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেননি। গত ৪০ বছরের অধিক সময় তার পিতা আমিন উল্লাহ পৈতৃক সম্পত্তি লালবাগের ৩০৫ শহিদনগরে আড়াইতলা বাড়ি নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। ১৯৯০ সালে বাড়িটির নিচ তলায় একটি দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি দ্বিতীয় তলায় ৬শ’ বর্গফুটের দুই রুমের বাসা মো. নাজিরের পরিবারকে ভাড়া দেন। ওই বাড়ির এই অংশের নিচতলায় তাদের ওয়ান স্টপ ইলেকট্রনিক্স নামে দোকান রয়েছে। দ্বিতীয় তলার এই অংশের ওপরে কোনো নির্মাণ কাজ হয়নি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আমিন উল্লাহ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে নাজির একটি ভুয়া দলিল করে ওই বাড়ির ৬শ’ বর্গফুটের অংশের মালিকানা দাবি করেন। এরপর থেকে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিতে শুরু করেন। বিষয়টি থানায় গেলেও পুলিশ কোনো অভিযোগ নিতে রাজি হয়নি। পরে এই ঘটনায় আদালতে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ এসে ওই বাড়ির নিচতলার দোকান ও দোতলার অংশ ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এই খবর শুনে গত ১৪ ডিসেম্বর হাসপাতালে আমিন উল্লাহ স্ট্রোক করে মারা যান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের গভীর রাতে নাজির ২০/২৫ জনের একদল সন্ত্রাসী ও পুলিশ নিয়ে বাড়ির নিচে থাকা দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এতে বাধা দিলে পুলিশের সামনেই সন্ত্রাসীরা আমিন উল্লার ছেলে-মেয়ে ও দোকান কর্মচারীদের বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের কাছে বিচার চাইতে গেলে পুলিশ আমিন উল্লাহর বড় ছেলে হামিদ উল্লাহ জনিকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে হামিদ উল্লাহ কারাগারে বন্দি। এ ব্যাপারে বিচারের আশায় দুর্বৃত্তদের কবল থেকে মৃত এই মুক্তিযোদ্ধার পৈতৃক সম্পত্তি ও তার সন্তানদের রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।