উপমহাদেশে কলকাতার বাইরে
প্রথম নাট্যমঞ্চ ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠ
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২০:৫০
এক সময় মুক্তাগাছার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। নাটক, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতিতে ছিল মুক্তাগাছার জমিদারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। মুক্তাগাছার নাটকের ঐতিহ্য দীর্ঘকালের। নাট্যমন্ডপে এক সময় ছিল ঘূর্ণায়মান মঞ্চ। জমিদার জগত্ কিশোর আচার্য চৌধুরীর পুত্র কুমার ভূপেন্দ্র কিশোর ছিলেন নাটকপ্রিয়। ভূপেন্দ্র কিশোরের নামানুসারেই ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠ নামে মঞ্চটি তৈরি করা হয়। এটি ছিল তত্কালীন ভারতীয় উপমহাদেশে কলকাতার বাইরে প্রথম এধরনের মঞ্চ। মঞ্চের দুই পাশে ছিল হারমোনিয়াম ও তবলাবাদকের জন্য আলাদা আলাদা দুইটি স্থান, দক্ষিণ দিকে পারফরমারদের বিশ্রামগৃহ, পিছনে গ্রিনরুম। গ্রিনরুমের পাশেই ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ, যাতে রয়েছে লোহার তৈরি ছোট ছোট সিন্ধুক । জমিদাররা শিল্পী নিয়ে আসতেন শহর থেকে এমনকি সুদূর কলকাতা থেকে । পুরো শীতকাল ধরে এখানে বিভিন্ন নাটক মঞ্চস্থ হতো।
ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠের শিল্পীরা প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।
ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠের শিল্পীদের অভিনীত বিখ্যাত নাটকের মধ্যে “বিসর্জন, ব্যপিকা বিদায়, রামের সুমতি, মানময়ী গার্লস স্কুল, সীতা, রমা, বিজয়া, কাশীনাথ, কারাগার, মরি কাশিম, চাঁদ সওদাগর প্রভৃতি নাটক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর ১৯৫৮ সালে ফোরটি ব্রাদার্স নামে একটি সংগঠনের সৃষ্টি হয়। এই সংগঠনের মঞ্চায়িত উল্লেখযোগ্য নাটক ছিল পাহাড়ী ফুল, বেদের মেয়ে, টিপু সুলতান, হায়দার আলী, গায়ের বধূ , মহুয়া, নদের চাঁদ, পথের শেষে ইত্যাদি। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ১৯৮৬ সালে ভূপেন্দ্র রঙ্গপীঠের ধ্বংস স্তূপে শেষবারের মত অনুষ্ঠিত হয় ওরা আছে বলে। এরপর আর কোন নাটক এই মঞ্চে মঞ্চস্থ হয়নি।