বিজয়ের ডায়েরি
পাকিস্তানি আর্মি বলছিল, শাবানা কোথায়? -চাষী নজরুল ইসলাম
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২০:৫৬
যুদ্ধে তো অনেক ঘটনা। সবই তো স্মৃতি, কোনোটা একটু বেশি মনে পড়ে কোনোটা কম। এখন আর সেসব স্মৃতি বলতে ইচ্ছে করে না। সেসব দিনগুলোকেই মনে করতে ইচ্ছে করে না। বরাবরই অনেকে প্রশ্ন করে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা বলতে, আর কত বলব। তারপরও বলি, অনেকটা ভয়ের আবার কিছুটা মজার একটা ঘটনা। আমি বিক্রমপুর ছিলাম, বিক্রমপুর থেকে ঢাকায় ফিরছি। তখন মিলিটারেরা যখন যেখানে যাকে পেত, ধরে নিয়ে যেত, কাউকে মেরে ফেলত। করুণ ও ভয়াবহ অবস্থা ছিল। রাস্তায় আমিও ধরা পড়ে যাই মিলিটারদের হাতে। তাদের এক ক্যাপ্টেন খুব ভাব নিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করল, আমি কী করি। আমি যখন ধরা পড়ি তখন থেকেই খুব ভয় পাচ্ছিলাম, ভাবছিলাম আর বোধহয় বেশি সময় পাব না। তো আমি সেই ক্যাপ্টেনের উত্তরে বললাম, আমি চলচ্চিত্র পরিচালক। মূলত আমি তখন চলচ্চিত্র পরিচালক না, সহকারী পরিচালক ছিলাম। কিন্তু সরাসরি পরিচালকই বলে ফেললাম। আমাকে অনেকক্ষণ আটকে রাখল। কতক্ষণ পর গাড়িতে উঠাল, গাড়িতে উঠানোর কিছুক্ষণ পর জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাচ্ছিলেন? আমি বললাম, এফডিসিতে। মূলত আমি এফডিসিতে যাচ্ছিলাম না, আমার বাসা গোপীবাগ, বাসার উদ্দেশ্যেই যাচ্ছিলাম। কিন্তু বাসার ঠিকানাটি জানাতে চাইনি বলে এফডিসির কথা বলি। যাই হোক, গাড়ি চলছে, কতক্ষণ পর আবার বলল, ‘শাবানা কোথায়?’ তখন শাবানা খুব হিট ছিল। কিন্তু তার প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না, চট করে বলে ফেললাম শাবানা এখন লাহোর। তারপর জিজ্ঞেস করল ‘নাসিমা খান কোথায়?’ নাসিমা খানও তখন সুপারহিট ছিলেন। আমি নাসিমা খানরে খবরও ঠিকভাবে জানি না। কিন্তু বললাম, নাসিমা খান পাকিস্তানে। ওই ক্যাপ্টেন কতক্ষণ নাসিমা খানের প্রশংসা করল। তারপর এফডিসির কাছে এসে আমাকে নামিয়ে দিল। গাড়ি থেকেই নেমে আর কিসের এফডিসিতে যাওয়া, তাদের গাড়ি থেকে কোনোরকম আড়াল হয়ে ছুটলাম। সেদিন যখন আমি তাদের হাতে ধরা পড়ি তখন ভাবিনি আমি এভাবে রেহাই পাব।