একমাসে জরিমানা ১২ লাখ
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ
সংযোগে লোডশেডিং বৃদ্ধি
হাজীগঞ্জ, (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২০:৫৯
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতিতে অবৈধ সংযোগ বেড়েই চলছে। সরকার কর্তৃক বিদ্যুতের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকার পর থেকে এ পর্যন্ত যতো মার্কেট, বাড়ি তৈরি হয়েছে তার কোনোটিতেই বিদ্যুত্ নেই। এ সকল বাড়ি কিংবা প্রতিষ্ঠানে পার্শ্ব সংযোগে বিদ্যুত্ সরবরাহ চালু রয়েছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি গত সেপ্টেম্বরে শুধুমাত্র পার্শ্ব (অবৈধ) সংযোগের কারণে জরিমানা আদায় করেছে ১২ লাখ ১ হাজার ২৭৪ টাকা। এ তথ্য পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির সদর দপ্তরের। পার্শ্ব সংযোগের কারণে এখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা মফস্বল এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। অথচ এখন শীত মৌসুম চলায় বিদ্যুতের চাহিদা কম। আসছে সেচ মৌসুমে ইরি-বোরো চাষের জন্য যা হুমকি হয়ে দেখা দেবে। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির সদর দপ্তর হাজীগঞ্জে। আর এ হাজীগঞ্জেই পার্শ্ব কিংবা অবৈধ সংযোগের পরিমাণ শত শত। এর মধ্যে যে ক’টি পার্শ্ব সংযোগের খবর পল্লী বিদ্যুত্ অফিস অবগত শুধুমাত্র তাদেরকে এ সংযোগের জন্য জরিমানা গুনতে হয়। আর যাদেরকে জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে তাদের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ থাকলেও কোথাও নতুন বাড়ি-ঘর কিংবা মার্কেট নির্মাণ বন্ধ থাকেনি। গত ক’বছরে জেলার আনাচে-কানাচে ও উপজেলা সদরে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার বাড়ি-ঘর কিংবা মার্কেট। এসব বাড়ি কিংবা মার্কেট বিদ্যুিবহীন অবস্থায় নেই। কারণ এরা কোনো না কোনোভাবে পার্শ্ব লাইন তথা অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুত্ ব্যবহার করে আসছে। আর এতে করে দিন দিন সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আয়, বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ হারাচ্ছে তাদের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, আর সাধারণ গ্রাহক ভুগছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে। এই অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুত্ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ব লাইনের বিষয়ে বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ খবর খুব কম রাখে। যেখানে এ জাতীয় সংযোগ রয়েছে সেখানে জরিমানা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জরিমানা দেয়া গ্রাহক যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের অবৈধ সংযোগ বন্ধের বিষয়ে অফিসকে লিখিতভাবে জানাবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ গ্রাহকের মূল বিলের সাথে জরিমানার টাকা আদায় করা হচ্ছে। আর এ আদায়টি কতোকাল চলবে তা কেউ জানে না।
আরেকটি সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ব সংযোগ কিংবা অবৈধ সংযোগের কারণে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কোটি কোটি টাকার সামগ্রী দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ওভার লোডের কারণে। কেননা কোনো এলাকায় একটি ট্রান্সফর্মারের আওতায় ৫০টি মিটার কিলোওয়াট অনুযায়ী সংযোগ দেয়া হয়। এই সংযোগের বাইরে কেউ একই সংযোগ থেকে পার্শ্ব লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুত্ নিয়ে ব্যবহার করলে ঐ ট্রান্সফর্মার এবং উক্ত লাইনের উপর লোড পড়ে। আর তখনই মূল্যবান ট্রান্সফর্মার কিংবা বিদ্যুত্ লাইনটি নষ্ট অথবা বিকল হয়ে যায়। অবৈধ সংযোগ কিংবা পার্শ্ব লাইন বিদ্যুত্ ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। এসব বিষয়ে পল্লী বিদ্যুত্ সদর দপ্তরের এজিএম (কম) একে আজাদ বলেন, পার্শ্ব সংযোগ কিংবা অবৈধ লাইনের বিষয়ে আমরা প্রথমে মিটার মালিককে জরিমানা করে থাকি। এরপর ঐ গ্রাহক তার অবৈধ লাইনটি সচল রাখলে তার মিটারের লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে থাকি। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পার্শ্ব সংযোগের কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুত্ ব্যবহার হয়ে থাকে। আর এ কারণে লোডশেডিং কিছুটা হয়ে থাকতে পারে।