সিরাজদিখানে লালনের গানে বিমোহিত দর্শক-শ্রোতা
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২১:০০
‘মিলন হবে কত দিনে আমার মনের মানুষের সনে, খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়, সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন -এমন সব জনপ্রিয় লালন সঙ্গীতে ইছামতির তীরে হাজার হাজার দর্শক মাতিয়ে তোলেন লালন কন্যা ফরিদা পারভিন। প্রথমেই লালন গান পরিবেশন করেন কুষ্টিয়া থেকে আগত দরবেশ নহির শাহ। এরপরই আসেন ফরিদা পারভিন। তারপর একে একে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাউল শিল্পী সুমি আক্তার, মহরম শাহ, সামসুল ফকির, বুড়ি ফকিরানী, রব ফকির, ওয়াচ শাহ, রওশন ফকির, হূদয় শাহ, টুনটুন বাউল, রাজ্জাক বাউল, এনামুল শাহ, আরিফ বাউল, গোলাপী, ছমির বাউল, পাগলা বাবলু, তকাবর বাউল, রিংকুসহ ৩০ জন বাউল শিল্পী।
বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার দোসরপাড়ার লালনসাঁই বটতলায় রাতভর চলে লালন সঙ্গীতের আসর। দুই বাংলার মোট ৩০ জন সাধুগুরু ও বাউল শিল্পী লালন সঙ্গীত পরিবেশন করে প্রায় ১০ হাজার দর্শককে বিমোহিত করে তোলেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে চলে লালন বিষয়ক বয়ান ও তার বাণী।
লালন শাহ বটতলা সাধুসঙ্গ ও পদ্মহেম ধামের আহবায়ক কবির হোসেন জানান, প্রতিবছর আমরা বাংলা ভাদ্র মাসের মধুপূর্ণিমা রাতে সিরাজদিখানের দোসরপাড়াতে লালনশাহ্ বটতলায় সাধুসঙ্গের আয়োজন করে থাকি। দুইদিনব্যাপী পালন করি লালনের এই উত্সব। দেশের খ্যাতনামা সাধুগুরু, বাউল শিল্পরা ছাড়াও ভারত, জাপান থেকে লালন সঙ্গীত শিল্পীরা এখানে এসে গান পরিবেশন করেন। লালনের যে মতবাদ, ‘লালন বলেছেন মুক্তির একমাত্র পথ হচ্ছে মানব ধর্ম।’ এই বাণী সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্যই প্রতিবছর তারা এই সাধুসঙ্গের আয়োজন করেন ।
শিল্পী ফরিদা পারভিন বলেন, এখানে এসে আমি মুগ্ধ। আমার বিশ্বাস সিরাজদিখানের এই দোসরপাড়া একদিন কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াকে ছাড়িয়ে যাবে।
সমপানী দিন শুক্রবার জেলা প্রশাসক মো. আজিজুল আলমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই আয়োজনে অংশ নেন।