পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদীর উত্সমুখ ও গৃহীত প্রকল্পের আওতায় নদী খনন পরিদর্শনকালে নানা অসঙ্গতি ও অনিয়ম প্রত্যক্ষ করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার কৃষি-জীববৈচিত্র্য ও লবণাক্ততা থেকে সুন্দরবন রক্ষায় মিঠাপানির একমাত্র উত্স গড়াই নদী পুনরুদ্ধার ও খনন কাজ সরেজমিন পরিদর্শনে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় প্রকল্প কর্মকর্তারাও প্রতিমন্ত্রীর তোপের মুখে পড়েন।
শুক্রবার দুপুরে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি অসন্তোষ প্রকাশ করে গড়াই নদী খনন আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গড়াই নদী আমি নিজ চোখে দেখেছি, আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। এই গড়াই খনন প্রকল্প যেভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছিলো তা মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয়। এটা এভাবে চলতে দেয়া যায় না।
দৃশ্যত গড়াই নদী ৩০ মিটার চওড়া একটা নালার মতো সংকীর্ণ হয়ে গেছে। নদী পুনরুদ্ধার ও নাব্য রক্ষায় তিনশ মিটার প্রশস্ত খননসহ গড়াই নদীকে পদ্মার পানি প্রবাহে সংযুক্ত করা হবে। এ প্রকল্পের কাজে নির্ধারিত তিনটি ড্রেজারের সাথে আরো দুইটি সংযুক্ত করা হবে। ফলে পাঁচটি ড্রেজারকে একসঙ্গে অবিরাম খনন কাজে নদীকে রক্ষা করা হবে। খনন প্রকল্পের কাজটি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ ও ডিজাইন চেক করার পর আবার কাজ শুরুর আদেশ দেয়া হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
বর্তমানে ৫৯০ কোটি কোটি টাকায় নদী খনন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কাজ চলছে। পাশাপাশি সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন প্রকল্পের কাজে দুর্নীতি-অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং কোনো দুর্নীতি-অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে সর্বপ্রথম ৪২০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়াই নদী খনন করা হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে ২৭৪ কোটি টাকা এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৯৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়। সর্বশেষ ৫৯০ কোটি টাকা ব্যয় ধার্যে চার বছর মেয়াদী গড়াই খনন চলমান প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে ধাপে ধাপে গড়াই খনন, পানির প্রবাহ ও নাব্য রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও মিলছে না কোনো সুফল।
গড়াই নদী পরিদর্শনের আগে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি জেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম গড়াই খনন প্রকল্পে বিস্তর অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। গড়াই ড্রেজিংয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তারা চরম অসত্ ও তাদের দুর্নীতির কারণেই গড়াই খনন প্রকল্প বার বার ভেস্তে গেছে। কয়েক দফায় গড়াই নদীর নাব্য রক্ষায় সরকারের কোটি কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে তিনি অভিযোগ তুলে ধরেন।
এসময় জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন, পানি উন্নয়র বোর্ড কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কুন্ডুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।