যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রেখেছে আসামিপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল- ১-এ আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। যুক্তি উপস্থাপনকালে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সাক্ষীর নামে তদন্ত কর্মকর্তা নিজে জবানবন্দি লিখে তা জমা দিয়ে ট্রাইব্যুনালকে বিভ্রান্ত করেছেন। একজনের জবানবন্দির সাথে আরেকজনের জবানবন্দি মিলে যাচ্ছে। সরকার পক্ষ দাবি করেছে— সাঈদীর সন্ত্রাসীদের ভয়ে সাক্ষীরা নিখোঁজ। অথচ আমরা ডকুমেন্ট হাজির করে দেখিয়েছি অনেক সাক্ষী তাদের হেফাজতেই সেফ হাউসে ছিল। কিন্তু সাক্ষীরা তাদের কথামতো অসত্য সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ তাদের হাজির করেনি। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী গণেশের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া জবানবন্দিতে লেখা আছে— অনেকে বলেছে তার মায়ের হত্যার ব্যাপারে পাড়েরহাটের রাজাকার সাঈদীর প্রত্যক্ষ হাত ছিল। কিন্তু এখানে এসে তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন— তার মায়ের হত্যার ব্যাপারে সাঈদী জড়িত নন। সরকার পক্ষ সাক্ষী নিয়ে যে কেলেঙ্কারির আশ্রয় নিয়েছে, তা ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিকেও ছাড়িয়ে গেছে।’ যুক্তি উপস্থাপন অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম রবিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। মুজাহিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ আগামী ৫ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সপ্তম সাক্ষী রঞ্জিত কুমার নাথকে জেরা শেষ করেছে আসামিপক্ষ। আসামিপক্ষের আইনজীবী মুন্সি আহসান কবির ও মিজানুল ইসলাম তাকে জেরা করেন। জেরা শেষে পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৫ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন। কাদের মোল্লার পক্ষে করা আবেদন খারিজ জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার পক্ষে দাখিল করা দুটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ শুনানি শেষে আবেদন দুটি খারিজের আদেশ দেয়। আবেদন দুটি হলো— কাদের মোল্লার পক্ষে ছয়জন সাক্ষী অন্তর্ভুক্তি করে ট্রাইব্যুনালের দেয়া আদেশের পুনর্বিবেচনা এবং রাষ্ট্রপক্ষের ছয়জন সাক্ষীকে ফের জেরা করা। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। অন্যপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী।