জাতিসংঘে ফিলিস্তিন পেল পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছে ফিলিস্তিন। বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মানসময় রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টা) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এ মর্যাদা লাভ করে ফিলিস্তিন। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের পক্ষে ১৩৮টি ভোট এবং বিপক্ষে মাত্র ৯টি ভোট পড়ে। এছাড়া যুক্তরাজ্যসহ ৪১টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলসহ ৯টি দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন জাতিসংঘকে ‘ভর্ত্সনা’ করে এ ভোটাভুটি ‘হিতে বিপরীত’ হবে বলে উল্লেখ করেছেন। ইসরাইলও একই সূরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। খবর এএফপির। সূত্র জানায়, এই উদ্যোগের ফলে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মর্যাদা পর্যক্ষেক পরিচয় থেকে ‘অসদস্য পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রে’ উন্নীত হলো। জাতিসংঘের ভোটাভুটির পরপরই সংস্থার মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ফিলিস্তিনের একটি স্থায়ী স্বাধীন রাষ্ট্র হবার অধিকার আছে। আর ইসরাইলিদের রয়েছে নিরাপত্তা পাবার অধিকার। এই প্রস্তাব গৃহীত হবার মাধ্যমে শান্তি আলোচনা আবারো শুরু হবার বিষয়টি গুরুত্ব পেলো। সাধারণ পরিষদের সম্মেলনস্থলের পাশে টাঙানো স্ক্রিনে ভোটাভুটির ফলাফল ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের পেছনে সেদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার ফলে জর্দান নদীর পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম (পূর্ব বাইতুল মোকাদ্দাস) এবং গাজা উপত্যকা নিয়ে গঠিত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো। এই ঘোষণার পরপরই ফিলিস্তিনে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের বহু-কাঙ্ক্ষিত একটি দাবির স্বীকৃতি পেলো এবং এর ফলে আগামী বছর জাতিসংঘে তাদের পূর্ণ সদস্যপদের দাবি তোলার পথ সুগম হলো। গত বছর ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার একটি প্রচেষ্টা আমেরিকার ভেটোর কারণে পণ্ড হয়ে যায়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের এ বিজয়কে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বিশাল কূটনৈতিক পরাজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে এখন ফিলিস্তিন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার ফলে ফিলিস্তিন ভ্যাটিকানের সমমর্যাদা পেল বলে জানিয়েছে মার্কিন নিউজ চ্যানেল সিএনএন। রাতে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সদস্যপদ পাওয়ার খবর শুনে গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ব্রিটেন ছাড়া ইউরোপের অবশিষ্ট দেশগুলোর বেশিরভাগই পক্ষে ভোট দিয়েছে। ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগে এ সংক্রান্ত ভাষণে সাধারণ পরিষদে উপস্থিত ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে ‘জন্মসনদ’ প্রদান করুন।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেসব দেশ ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক সদস্যের মর্যাদা দেয়ার পক্ষে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একমাত্র ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমেই ফিলিস্তিন সঙ্কটের ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক’ সমাধান সম্ভব।’ মাহমুদ আব্বাসের ভাষণের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত রন প্রসর ভাষণ দেন। তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘে ভোটাভুটির মাধ্যমে নয়, বরং ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিন স্বীকৃতি পেতে পারে। অন্যদিকে, তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সুসান রাইস ফিলিস্তিনের বিপক্ষে তার দেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এ সিদ্ধান্তে শান্তির পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরী হবে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ক্ষীন হয়ে আসবে।