বাংলাদেশের অন্য সন্ত্রাসীদের ধরতে কলকাতায় তল্লাশি

বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে লুকিয়ে থাকা অন্য সন্ত্রাসীরা কে কোথায় আত্মগোপন করে রয়েছে। তার সঙ্গে জালনোটের চক্রে কে রয়েছে। আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ইসলাম জয়ই বা কোথায়। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সুব্রত বাইনকে নিয়ে কলকাতাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন কলকাতা পুলিশের এসটি এফ শাখার গোয়েন্দারা। জানা গেছে, সুব্রত বাইনের বক্তব্য ঠিক হলে বাংলাদেশের আরো কয়েকজন সন্ত্রাসী ধরা পড়তে পারে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে কী করে মাওবাদীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ গড়ে উঠল। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ৩ মাস আগে মাওবাদীদের সহায়তায় কেন নেপালের জেল ভেঙে সুব্রত বাইন পালালো। সুব্রতর ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায় ভারত এবং ঢাকার কে কে যুক্ত তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নেপালের জেল ভেঙে পালিয়ে সুব্রত বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। আর তা করতে গিয়েই ভারতীয় পুলিশের নজরদারিতে পড়ে যায় সুব্রত। নেপালের জেল থেকে পালিয়ে কিছু দিন লুকিয়ে ছিল উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্মৌয় জাল নোট চক্রের আস্তানায়। তারপর ওঠে বিহারের পূর্ণিয়ায়। সেখান থেকে কুষ্টিয়ায় ঢোকার জন্য আসে মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায়। এরপরই গোয়েন্দাদের নজরদারিতে পড়ে যায়। মাঝে একবার মাওবাদী প্রভাবিত বাঁকুড়া জেলায়ও গিয়েছিল। এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, ফারাক্কা হয়ে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় প্রবেশের চেষ্টা করার সময়ই সুব্রতর পিছু নেন গোয়েন্দারা। বিপদে পড়েছে দেখে ফারাক্কা থেকে নলহাটির লোহাপুর গ্রামের একটি মাজার সংলগ্ন এলাকায় যায় সে। সেখানেও তার পিছু নেয় পুলিশ। গত ১৯ নভেম্বর রাতে হাড়োয়ার কাছ থেকে আটক করা হয়েছিল বাংলাদেশের ছাত্র শিবিরের এক নেতাকে। তার কাছ থেকেই সুব্রতর অবস্থান সম্বন্ধে আরো নিশ্চিত হয়ে বীরভূমে নলহাটির কাছে মাওবাদীদের একটি আস্তানায় হানা দেন গোয়েন্দারা। সেখান থেকে পালিয়ে সুব্রত উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া হয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা চালায়। ব্যর্থ হয়ে চলে যায় কলকাতায়। যোগাযোগ শুরু করে তার নেটওয়ার্কে থাকা লোকজনের সঙ্গে। নেপালের জেল ভেঙে যে ১৩ জনের সঙ্গে সুব্রত পালিয়ে ছিল তাদের মধ্যে ৬ জন উত্তরপ্রদেশের জালনোট ব্যবসায়ী। এদের সঙ্গে সুব্রতর আগে থেকে যোগাযোগ ছিল। বাকি ৭ জন মাওবাদী। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভারতের মাওবাদীদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ ছিল। সুব্রত বাংলাদেশে চাঁদাবাজির পাশাপাশি অস্ত্র কেনাবেচার ব্যবসা করত। শুধু কি সেই কারণেই মাওবাদীদের সহায়তা, না অন্য কোন কারণ রয়েছে। হেফাজতে নিয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। নেপালে ধরা পড়ার আগে কয়েকবার চীন গিয়েছিল সুব্রত। শুরু করেছিল ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসা। চীন থেকে কেনা সে সব পণ্য পাঠানো হত ঢাকার বাজারে। এই ব্যবসায় জড়িয়ে রয়েছে ভারত এবং বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী। জিজ্ঞাসাবাদে জেরায় সুব্রতর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এদিকে ইন্টারপোলের নোডাল এজেন্সি হিসেবে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই কলকাতার স্পেশাল টাস্কফোর্সের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছে। তাতে জানানো হয়, সুব্রত বাইন সম্পর্কে তথ্য বাংলাদেশ সরকার জানতে চায়। স্পেশাল টাস্কফোর্স সূত্রে খবর, আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে জেরা করে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তা বাংলাদেশকে জানানো হবে।