জানুয়ারিতেই উত্তপ্ত হতে পারে রাজনীতির মাঠ
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১২, ২২:২২
দেশের রাজনীতি উত্তপ্ত ও সংঘাতময় হয়ে উঠতে পারে। সরকারের শেষ বছরে এসে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ডিসেম্বর মাসজুড়ে প্রধান বিরোধী দলের কর্মসূচি কিছুটা শিথিল হলেও আগামী জানুয়ারি মাসে সর্বশক্তি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তারা মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া এ সময়ে সরকারি দলও পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরস্পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো স্ব-স্ব অবস্থান সংহত করার পাশাপাশি নিজেদের সাফল্য ও ব্যর্থতা তুলে ধরার জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে পারে। সব মিলিয়ে জানুয়ারি মাসেই রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন বিশ্লেষকরা।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার পল্টনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের সমাবেশ থেকে বিরোধী দলীয় নেতা এক মাসের যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তা সাময়িক। এটি আগামীতে চূড়ান্ত আন্দোলনের ‘ওয়ার্ম-আপ’। এই কর্মসূচি শেষ হবার পরই হরতাল-অবরোধের মত কঠিন এবং টানা কর্মসূচি আসতে পারে। বর্তমান সরকারের শেষদিকে এসে নানা কারণে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলা হলেও উন্নয়নের সূচকগুলো আশানুরূপ নয়। গার্মেন্টস শিল্পে একের পর এক দুর্ঘটনা অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন এ পেশায় জড়িত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। বিদেশি ক্রেতারাও উদ্বিগ্ন।
শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির নায়করা এখন পর্যন্ত ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। হলমার্ক ইস্যুতে সরকার কঠোর অবস্থান নেয়ায় তাদের ইমেজ খানিকটা বৃদ্ধি পেলেও এ নিয়ে গুজবের শেষ নেই। পদ্মা সেতু নিয়ে নানা অঘটনের পরও সরকার হাল ছাড়েনি। এই সরকারের আমলেই এ সেতুর কাজ শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী তারা। ডিসেম্বরেই পদ্মা সেতুর দুর্নীতি অনুসন্ধানে বিশ্বব্যাংকের দ্বিতীয় প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে। এসব ইতিবাচক খবরের পাশাপাশি সরকারের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। অসমাপ্ত প্রকল্পগুলোর অনেকটাই আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়। বিরোধী দল সরকারের এসব দুর্বলতা প্রকাশ করার আগেই সরকারি দলও তাদের (বিএনপি-জামায়াত জোট) অতীত ব্যর্থতাগুলোকে ফলাও করে প্রচার করার চিন্তা-ভাবনা করছে। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার আমলের আলোচিত দুর্নীতি মামলাগুলো নিষ্পত্তি কিংবা সেগুলোকে প্রচারণায় আনা হতে পারে।
বর্তমান সরকারের হাতে থাকা কর্মসূচির মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যু অন্যতম। দেশের রাজনীতি এ ইস্যুতে উত্তপ্ত। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, জামায়াত নিষিদ্ধ করার কোন পরিকল্পনা সরকারের নেই। আবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একবার জামায়াতকে নিবন্ধন দেয়ার পর সেটা বাতিল করার কোন সুযোগ নেই। ধারণা করা হচ্ছে, জামায়াত ইস্যুতেও সরকারের কৌশলে পরিবর্তন আসছে। দীর্ঘদিন পর আগামী ৩ ডিসেম্বর জামায়াত প্রকাশ্যে সমাবেশ ডেকেছে। সরকার তাদেরকে সমাবেশ করতে দিলে সেটি রাজনৈতিক ময়দানে চলে আসা উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও পানি ঢালতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিরোধী দলের আগামী দিনের কর্মসূচির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ গতকাল ‘ইত্তেফাক’কে জানান, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। কোন রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের ব্যাপারে আমাদের কোন বক্তব্য নেই। কিন্তু গণতান্ত্রিক কর্মসূচির নামে যদি দেশে সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনজীবন অস্থিতিশীল করে তোলা হয় তাহলে জনস্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বিরোধী দলের যে কোন ধরনের নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা ব্যাপারে আমরা জনগণকে সচেতন করে তুলবো। যাতে জনগণই তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।