এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

অধ্যায় :বাংলাদেশ ক.‘বাংলাদেশ’ কবিতায় প্রতি চরণে কয়টি পর্ব? ১ খ.‘বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ২ প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর বাংলাদেশ কবিতায় প্রতি চরণে দুটি পর্ব। প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর কবি বাংলাদেশকে নানা বর্ণ, ধর্ম ও নৃ-গোষ্ঠীর সমন্বয়ে একটি মিশ্র প্রাণের সংসার নামে অভিহিত করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, ধর্মপ্রচার প্রভৃতির কারণে আদিম কাল থেকে নানা দেশ ও নানা ধর্মের মানুষ বাংলাদেশে এসেছে এবং বসতি স্থাপন করে বংশবৃদ্ধি করেছে। এদের মিশ্রণে গড়ে উঠেছে আরও বিচিত্র এবং সংকর জনগোষ্ঠী। ফলে এ জাতি গঠনের মূল উপাদান ইন্দো-ভূমধ্য নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত বিভিন্ন জাতি। এর সঙ্গে মিশেছে দ্রাবিড়, ডেড্ডিড ও কিছুটা মঙ্গোলীয় রক্ত। আমাদের জাতিত্বে, সংস্কৃতিতে, ভাষায়, আচার-আচরণে, ধর্মবোধ ও বিশ্বাসে এসব জনগোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। এখানে ‘বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে’ বলতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মিশ্রণে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের মানুষকেই বোঝানো হয়েছে। উত্তরের সারবস্তু : এখানে ‘বহু মিশ্র প্রাণের সংসারে’ বলতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মিশ্রণে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের মানুষকেই বোঝানো হয়েছে। ক.‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত? ১ খ.‘অভিন্ন আপন সত্তা’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?ব্যাখ্যা করো। ২ প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। ২ নম্বর প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর ‘অভিন্ন আপন সত্তা’ বলতে সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে বাঙালিত্ব বা বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে বোঝানো হয়েছে। বাঙালি দুর্মর জাতি, কোনো প্রতিকূলতাতেই তারা মাথা নত করে না। হিন্দু-মুসলিম দুটি প্রধান ধর্মাবলম্বী মানুষের বাস এখানে হলেও জাতীয় স্বার্থে তারা অভিন্ন হয়ে যায়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণে বহু প্রাণ হতাহত হয়, শহর-গ্রামে অবাধ লুণ্ঠন চলে এবং হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতিতে ভাঙন ধরাবার চেষ্টা করে। কিন্তু বাঙালি তাতে বিভ্রান্ত হয় নি। পাকিস্তানিরা যতই তাদেরকে আলাদা করতে চেয়েছে ততই এদেশের হিন্দু-মুসলিম সমস্ত সংকীর্ণতাকে পরিহার করে বাঙালি পরিচয়কেই প্রধান করে দেখেছে। বাঙালি জানে তারা জন্ম-মৃত্যুর বন্ধনে আবদ্ধ একটি অভিন্ন সত্তা, একটি জাতিগোষ্ঠী। উত্তরের সারবস্তু : বাংলাদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক মনোভাবের কারণেই দেশকে স্বাধীন করতে সক্ষম হয়েছে। এটা তাদের অভিন্ন জাতিসত্তারই ফল। ক.‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি কার লেখা? ১ খ.‘বাংলাদেশ’ কবিতায় ‘পাপাশ্রয়ী পরজীবী’ কাদের এবং কেন বলা হয়েছে? ২ প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অমিয় চক্রবর্তী-র লেখা। প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর বাংলাদেশ কবিতায় পাকিস্তানি সৈন্যদের কার্যকলাপ দেখে তাদের পাপাশ্রয়ী পরজীবী বলা হয়েছে। কারণ পাকিস্তানি সৈন্যরা নরপশুর মতো বাঙালিদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন চালিয়েছে; বাংলাদেশ তাদের কাছে অলভ্য। পরগাছা যেমন যে গাছে বাস করে সেই গাছের রস চুষে নেয়, পাকিস্তানি সৈন্যরাও তেমনি বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে লুণ্ঠন করে নিয়েছে। উত্তরের সারবস্তু : পাকিস্তানিদের কৃতকর্ম দেখে তাদেরকে ‘পাপাশ্রয়ী পরজীবী’ বলা হয়েছে। ক.অমিয় চক্রবর্তী কত খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন? ১ খ.‘চিরদিন বাংলাদেশ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ২ প্রশ্নের ‘ক’-এর উত্তর অমিয় চক্রবর্তী ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। প্রশ্নের ‘খ’-এর উত্তর ‘চিরদিন বাংলাদেশ’ বলতে বাংলাদেশের এ আবহমান রূপকেই বোঝানো হয়েছে। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বিধৌত, আম-জাম নারকেল গাছে ঘেরা প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা বাঙালির গ্রাম। এ প্রাণ পূর্ণতা পেয়েছে কোরআনে-পুরাণে, শিল্পে, পালা-পার্বণে, আউল-বাউল, খড়ে ছাওয়া ঘরের আঙনে, মাঠে-ঘাটে, কামার-কুমার-জেলে-তাঁতি-কৃষক ইত্যাদি শ্রমজীবী নানাজাতির ধর্মের বসতিতে। উত্তরের সারবস্তু : কবিতায় ‘চিরদিন বাংলাদেশ’ বলতে বাংলাদেশের বয়ে আসা জীবনের রূপকেই বোঝানো হয়েছে।