সুন্দরবনে ডাকাতি রোধে ট্রলারে
আনসার নিয়োগের দাবি
নাসিম আলী ও এইচ এম দুলাল, সুন্দরবন থেকে ফিরে
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০২
জলদস্যুদের বেপরোয়া অত্যাচারের মধ্যে দুবলারচরসহ সুন্দরবন উপকূলে শীতকালীন শুঁটকি মাছ আহরণ চলছে। মত্স্যজীবীরা ডাকাতের কবল থেকে বাঁচতে নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব ব্যয়ে মাছধরা ট্রলারে ট্রলারে সশস্ত্র আনসার নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, দেশের যাত্রীবাহী লঞ্চে স্বাধীনতার পর থেকে আনসার নিয়োগ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের কাছে হাজার হাজার অব্যবহূত ৩০৩ রাইফেল রয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত আনসার রয়েছে কয়েক হাজার। যাদের বেশিরভাগই বেকার বসে থাকে বছরের দুই-চারদিন বাদে। মত্স্যজীবীদের চাহিদা অনুযায়ী ট্রলার প্রতি ৩/৪ জন করে সশস্ত্র আনসার দেয়া হলে ডাকাতরা আর হামলা চালাবে না। ট্রলারে সশস্ত্র আনসার নিয়োগ দিলে নিয়মানুযায়ী তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে রাজি আছেন বলে দুবলা শিফারমেন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক জানান। বর্তমানে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ সুন্দরবনে বা বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু মোকাবিলায় ব্যর্থ কি না এ প্রশ্নে কামাল উদ্দিন জানান, অসংখ্য নদী-খাল প্রবাহিত সুন্দরবনে ডাকাতদের প্রতিহত করা এসব বাহিনীর পক্ষে কঠিন। ছোট ছোট খালে বা গহীন বনে ডাকাতরা একবার লুকাতে পারলে তাদের খুঁজে বের করা সম্ভব হয় না। যদিও গত দুই বছরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কয়েক কুখ্যাত ডাকাত সর্দারসহ অর্ধশতাধিক জলদস্যুর মৃত্যু হয়েছে; কিন্তু এখনো ৪/৫টি গ্রুপ সক্রিয়। জলদস্যুরা সশস্ত্র আনসারবাহী ট্রলারে হানা দিলে যদি পাল্টা বন্দুকের গুলির মুখে পড়ে তাহলে দেখা যাবে সুন্দরবনে ডাকাতি বহুলাংশে কমে যাবে।