পুরো সিরিজই মাঠের বাইরে সাকিব

ব্যাপারটা আগেই মোটামুটি নিশ্চিত ছিল। প্রথমে দুই ম্যাচের কথা বলা হলেও সাকিব আল হাসান আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পুরো সিরিজেই খেলতে পারবেন না এটা সূত্রগুলোই বলছিল। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবেই বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, চার থেকে ছয় সপ্তাহের জন্য সব ধরনের খেলাধুলা, অনুশীলন থেকে দূরে থাকতে হবে তাকে। রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে গতকাল সাকিবের দ্বিতীয় দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নেন বিসিবির চিকিত্সক। বিসিবির চিকিত্সক দেবাশীষ চৌধুরীকে বিসিবি উদ্ধৃত করেছে, ‘আমরা আজ (গতকাল) আবার সাকিবের ইনজুরি পরীক্ষা করিয়েছি এ্যাপেলো হাসপাতালে। তারপর রেডিওলজিস্ট ও অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ওকে কমপক্ষে চার থেকে ছয় সপ্তাহ সব ধরনের খেলার বাইরে থাকতে হবে। এরপর তার পুনর্বাসন শুরু হবে।’ তার মানে এই সিরিজে একটা ম্যাচও আর খেলা হচ্ছে না এই সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের। উল্লেখ করা যেতে পারে, খুলনার দ্বিতীয় টেস্টে বল হাতে ইনিংসে চার উইকেট নেয়া ও ব্যাট হাতে ৯৭ রানের ইনিংস খেলার পথে কোনো এক সময় তার ডান পায়ের টিবিয়াতে (হাঁটুর নিচের বড় হাড়) আঘাত লাগে। পরে অবশ্য চিকিত্সকরা জানান, এটি প্রত্যক্ষ কোনো আঘাতে আসা ইনজুরি নয়। দীর্ঘদিনের টানা পরিশ্রমের ফলে ‘স্ট্রেস রিঅ্যাকশন’ হয়েছে এই হাড়টিতে। প্রাথমিকভাবে খুলনায় এমআরআই করিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় দুই ম্যাচ তাকে বাইরে রাখা হবে। এরপর গতকাল সিদ্ধান্ত হয় আপাতত সিরিজটাই মাঠের বাইরে বসে দেখতে হবে সাকিবকে। এ ্ব্যাপারটা মোটামুটি জানা থাকলেও অনেক বড় ধাক্কা হিসেবেই ব্যাপারটাকে দেখছেন প্রধান নির্বাচক আকরাম খান, ‘সাকিব আল হাসান একটা ম্যাচেও না থাকা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। সবাই জানে, ও এখন দেশের সেরা পারফরমার। তবে এটাও ঠিক যে, আমাদের ব্যাকআপ প্লান ঠিক আছে। আশা করছি ওর ব্যাকআপ খেলোয়াড়রা এই সুযোগটা কাজে লাগাবে এবং নিজেদের প্রমাণ করবে। সাকিবের ক্ষেত্রে আশা করছি সে যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবে।’ সাকিবের এই ইনজুরির জন্য সামান্য একটু সমালোচনা আছে আকরাম খানদের নির্বাচক কমিটিকে নিয়েও। ইনজুরিটা যেহেতু ক্লান্তিজনিত, তাই বলা হচ্ছে নির্বাচকরা তাকে যথেষ্ট বিশ্রামের সুযোগ দেননি। এই যুক্তি অবশ্য খণ্ডন করলেন আকরাম খান, ‘সাকিব যখনই বিশ্রাম চেয়েছে পেয়েছে। এটা ঠিক যে, তাকে অনেক ক্রিকেট খেলতে হয়। এখনকার সময়ে এটাই তো আসলে নিয়মে পরিণত হয়েছে।’