পন্টিংয়ের পরই বিদায়ের হিড়িক পড়বে ক্রিকেটে
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩১
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের অবসর নেয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারতের শচিন টেন্ডুলকার ও দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিসসহ অন্য গ্রেট ব্যাটসম্যানদেরও ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়া শুরু হয়ে যেতে পারে।
টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব সকল খেলোয়াড়ই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অবসরে চলে গেলে ভাল মানের ব্যাটিং ও অভিজ্ঞতাকে হারাবে বিশ্ব ক্রিকেট। আগামী মাসে ৩৮ বছরে পা রাখা পন্টিং গতকালই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া টেস্টের মধ্য দিয়ে নিজের ১৬৮তম ও শেষ ম্যাচে মাঠে নামেন। এরপরই ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর তালিকায় আছেন আগামী এপ্রিলে ৪০ বছরে পা রাখতে যাওয়া টেন্ডুলকার। গত বছরের প্রথম দিক থেকে এখনো কোন টেস্ট সেঞ্চুরি পাননি তিনি। অতীতে অসাধারণ পারফরমেন্স করলেও ক্যালিস, ওয়েস্ট ইন্ডিজের শিভ নারায়ণ চন্দরপল এবং শ্রীলংকার অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনেও নিজেদের ক্যারিয়ারের শেষটা দেখতে শুরু করেছেন।
সর্বকালের সেরাদের তালিকায় স্থান পাওয়া ১০ জনের মধ্যে মাত্র পাঁচ কিংবদন্তী খেলোয়াড়ই টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজার বা ততোধিক রান করতে সক্ষম হয়েছেন। এদের মধ্যে ইতোমধ্যেই অবসরে গেছেন রাহুল দ্রাবিড়, ব্রায়ান লারা, এ্যালান বোর্ডার, স্টিভ ওয়াহ ও সুনীল গাভাস্কার।
ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী ও ১০০টি সেঞ্চুরির মালিক টেন্ডুলকার বলেছেন, ২৩ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন তিনি। গত অক্টোবরে এক টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বয়স এখন ৩৯। ক্রিকেটকে দেয়ার মত আমার মধ্যে আর খুব বেশি কিছু আছে বলে আমি মনে করি না।’ অবসরের চিন্তা করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। আমি চিন্তা করছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার বয়স ৩৯’র বেশি এবং অবসরের চিন্তা করাটা আমার জন্য অস্বাভাবিক নয়। আমার মন যখন বলবে তখনই আমি চলে যাব। এই মুহূর্তে আমার মন বলছে আমি ঠিক আছি। তবে এজন্য আপনাকে সিরিজের পর সিরিজ দেখতে হবে।’সেবারই প্রথমবারের মত নিজের অবসরের কথা বলেন টেন্ডুলকার এবং সামপ্রতিক বাজে পারফরমেন্স তার বিদায়কে আরো ত্বরান্বিত করেছে। রেকর্ড ৫১টি সেঞ্চুরি করা টেন্ডুলকার ২০১১ সালে কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৪৬ রান করার পর গত ২৮ ইনিংসে পাঁচ দিনের ম্যাচে আর তিন অংকের দেখা পাননি।
২০১২ সালে সাত টেস্টে ২২.৮৩ গড়ে তিনি মোট ২৭৪ রান করেছেন। অথচ খেলোয়াড়ী জীবনে ৫৪.৬০ গড়ে ১৯২ টেস্টে ১৫,৫৬২ রানের সঙ্গে তুলনা করলে খুবই বেমানান। নিজের ভবিষ্যত্ নিয়ে টেন্ডুলকার নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে সমপ্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও তার এক ঘনিষ্ট বন্ধু এ খবর অস্বীকার করে।
ক্যালিস এবং চন্দরপল অবশ্য রান পেয়ে ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টানার শংকা থেকে মুক্ত আছেন। বার বার ইনজুরিতে পড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্যালিসকে নিয়ে এখনো খুব বেশি কথা ওঠেনি। হ্যামস্ট্র্রিং ইনজুরির কারণে তিনি বোলিং করতে পারছেন না। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অ্যাডিলেড টেস্টে ক্যালিস মাত্র তিন ওভার বোলিং করতে পেরেছেন। তবে ৩৭ বছর বয়সী এ তারকা খেলোয়াড় রানের মধ্যে থাকায় তাকে নিয়ে এখনই তেমন একটা আলোচনা দেখা দেয়নি।
ক্যালিস শুধুমাত্র এবছরই ৭৫.৪১ গড়ে আট টেস্টে মোট ৯০৫ রান করেছেন। এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ২২৪ ও নভেম্বরে ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে করা ১৪৭ রানসহ সেঞ্চুরি রয়েছে চারটি। সমপ্রতি অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যথাকে উপেক্ষা করেও দু্টি ইনিংসে তার করা ৫৮ ও ৪৬ রানে ভর করে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে ড্র করতে সমর্থ হয় প্রোটিয়াসরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ভাল রান পেয়ে অবশ্য সমালোচকদের জবাব দিচ্ছেন চন্দরপল।
গত নয় টেস্টে ৯৮.৭০ গড়ে ৩৮ বছর বয়সী এ ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান করেছেন ৯৮৭ রান। যার মধ্যে নভেম্বরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২০৩ ও ১৫০ রানের দু’টি ইনিংস ছিল উল্লেখ করার মত।
অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক ও শ্রীলংকার কুমার সাঙ্গাকারার পরই টেস্ট র্যাংকিং ব্যক্তিগতভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে গায়নার এ ব্যাটসম্যান। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভংগুর ব্যাটিং লাইন আপে এখনো মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হন তিনি। শ্রীলংকার দু’জন জয়াবর্ধনে ও সাঙ্গাকারা উভয়ের বয়সই ৩৫। ডিসেম্বরেই অস্ট্রেলিয়ায় তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় খুব শিগগিরই তাদের অবশ্য এ দৃশ্যপটে দেখা যাবে না। দ্বিতীয়বারের মত শ্রীলংকা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জয়াবর্ধনে। অন্যদিকে এ বছর আইসিসি’র বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন সাঙ্গাকারা। বাসস/এএফপি