বিএনপির কাউন্সিল হচ্ছে না এ বছর

দলের অভ্যন্তরে নানা সমস্যা ও প্রস্তুতির অভাবে বিএনপির বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় কাউন্সিল এ বছর হচ্ছে না। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ-আরপিও অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের কিছু বাধ্য-বাধকতা থাকায় আগামী বছরের শুরুতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে এ কাউন্সিল হতে পারে। কাউন্সিলের আগে ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই সভায় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রসঙ্গত, আগামী ৮ ডিসেম্বর বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। কারণ আরপিও অনুসারে ৩ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অর্থাত্ ওই তারিখের মধ্যে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল করার বাধ্য-বাধকতা রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেখানে কাউন্সিল কবে হবে সেটা নির্ধারণ করা হবে। বিএনপির আরো কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গত ২৮ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন ডিসেম্বর জুড়ে যে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, এসব কর্মসূচিতে যারা অংশ নেবেন তাদেরকে জানুয়ারিতে কাউন্সিলের মাধ্যমে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। কাউন্সিল সম্পর্কে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কাউন্সিল নিয়ে এখনো প্রস্তুতি শুরু না হলেও কাউন্সিল হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে আরো ৬ মাস সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও সরকারের শেষ সময়ের আন্দোলনের বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন নেতৃত্ব আনতে কাউন্সিলের কোনো বিকল্প নেই। আরপিওর বাধ্য-বাধকতায় দলে নির্বাচিত কমিটি রাখার বিধানটি ছাড়াও আন্দোলন ও ভবিষ্যতে তরুণ নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কাউন্সিল করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে বিএনপির হাইকমান্ড। এছাড়া মহাসচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের কথাও ভাবা হচ্ছে। বিএনপির এবারের জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নিয়োগ ছাড়াও স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবসহ জাতীয় নির্বাহী কমিটির বেশ ক’টি পদে রদবদল হতে পারে। মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাবন্দি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুপস্থিতি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, সারোয়ারী রহমান ও এম শামসুল ইসলাম পর্যাপ্ত সময় না দিতে পারায় এসব পদে পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া দলের আগামীর কাণ্ডারী তারেক রহমান সম্পর্কে কটু মন্তব্য করার কারণে ওয়ান ইলেভেনে ’বিতর্কিত’ লে.জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমানের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে। মহাসচিব পদে মির্জা ফখরুলকে রাখা হবে না অন্য কাউকে আনা হবে তা কাউন্সিলে আলোচনা সাপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন খালেদা জিয়া। ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে খালেদা জিয়া চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। পরে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে মহাসচিব নিয়োগ দেয়া হয়। গত বছর ১৬ মার্চ বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যান। এর পর ৬ এপ্রিল দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করা হয়।