বিশ্ব ব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দল আবার ঢাকায়

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত পর্যালোচনার জন্য গঠিত বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক প্রধান আইনজীবী লুই গ্যাবরিয়েল মোরেনো ওকাম্পো গতকাল শনিবার বিকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। এর পরপরই দলের অন্য সদস্য যুক্তরাজ্যের সিরিয়াস ফ্রড অফিসের সাবেক পরিচালক রিচার্ড এল্ডারম্যানও ঢাকায় পৌঁছান। রাতে দলের অন্য সদস্য হংকং-এর দুর্নীতি বিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক কমিশনার টিমোথি টংয়ের পৃথক ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আজ রবিবার দুদকের সঙ্গে তাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। গত ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তিন সদস্যের প্যানেল গঠনের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক। নিয়োগ প্রাপ্তির পর গত ১৪ অক্টোবর বিশেষজ্ঞ দলটি প্রথমবারের মতো ঢাকা সফরে আসে। ঐ সময় তারা পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের ইন্টিগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্ট দুদককে গত ১৩ নভেম্বর আরও তথ্য প্রদান করে। মূলত এই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কাজ অনেক এগিয়ে যায় এবং দুদক যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেয়। দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সম্প্রতি বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ পেতে ‘ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্র’ হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন এ ব্যাপারে কিছু প্রমাণ পেয়েছে। দ্রুত অভিযুক্তদের ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে তিনি ইত্তেফাককে জানিয়েছিলেন, বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদল যদি বাংলাদেশে আসে তাহলে তাদের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হবে। উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর অর্থায়নের বিষয়টির সাথে ঊর্ধ্বতন সরকারি ব্যক্তিবর্গ ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সরকারকে একাধিকবার তুলে ধরার পরও সরকারের কাছ থেকে যথাযথ সাড়া না পাওয়ার কারণে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ গত ২৯ জুন, বাতিল করে। পরবর্তীতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করায় বিশ্বব্যাংক পুনরায় সেতু প্রকল্পে সম্পৃক্ত হতে সম্মত হয়।