মরিচ তুলে জীবিকা নির্বাহ হয় ওদের
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩৪
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিক থেকে চৌগাছা উপজেলা একটি অবহেলিত এবং পশ্চাত্পদ জনপদ হলেও জীবনজীবিকার তাগিদে চৌগাছার হতদরিদ্র নারীরা এখন অতীতের তুলনায় অনেক কর্মমুখী এবং স্বাবলম্বী। অর্থনৈতিক সংকট এবং দৈনন্দিন জীবন-যাপনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের দরিদ্র নারীরা বসত-বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল পালনসহ কুটির শিল্প, মাছ চাষ, খাল খনন, রাস্তা মেরামত, নির্মাণ কাজ ইট-পাথর ভাঙ্গা, হেটেল-রেস্তোরাঁ সহ কৃষি কাজের মত কঠিন পরিশ্রমও করছে। কাকডাকা ভোরেই মরিচ পোড়া দিয়ে পান্তাভাত খেয়ে নিত্যদিনের কাজের সন্ধানে ছুটছে ওরা। এদের অধিকাংশ স্বামী পরিত্যক্তা, বিধবা অথবা অসচ্ছল পরিবারের। উপজেলার টেঙ্গুরপুর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা বুলু, জুুলেখা, খাদিজা ও ছহিরুন বিবি সকাল থেকে ঝাল তুলছে আন্ধার কোটা মাঠে। কোনদেকে খেয়াল নেই। মরিচের ঝাঁজে চোখ দিয়ে পানি ঝরছে আর মাঝে মধ্যে পরনের কাপড় দিয়ে চোখ মুছছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৫ থেকে ৪০ কেজি ঝাল তোলে। ২ টাকা কেজি হিসেবে ৭০ থেকে ৮০ টাকা সারাদিনের আয়। মরিচের ঝাঁজে জ্বলতে থাকে সারা শরীরটা। তার পরও এতটুকু ফুরসত নেই। সন্ধ্যায় বড়ি ফিরে সন্তানদের জন্য খাবার তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হয়। এইভাবে সংসার চালায় ওরা। তারা আরো জানায়, শুধু মরিচ তুলে নয় যখন যে কাজ পায় তখন সেই কাজ করি। তবে সারাদিন কাজ করলে একজন পুরুষ পায় ২শ’ থেকে ২শ’ ৩০ টাকা সেখানে মেয়ে মানুষ বলে মালিকরা আমাদের দেয় অর্ধেকেরও কম মজুরি। এ ব্যাপারে ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক জানান, বেশিদিন ঝাল তুললে ঝালের ঝাঁজে চোখের দৃষ্টি শক্তির মারাত্মক অসুবিধাসহ এলারজি দেখা দিতে পারে। তাছাড়া এসব গ্রামীণ হত দরিদ্র নারীরা আর্থিক সচ্ছলতার জন্য এ অঞ্চলের ব্র্যাক, আশা, বাঁচতে শেখা, জাগরণী চক্র, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে স্বল্প মেয়াদে ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করছে।