‘ডার্বি’ জিতলো রিয়াল মাদ্রিদ

মৌসুমের শুরুটা ভালো না হওয়ায় পয়েন্ট তালিকায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের থেকে পিছিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে মাঠের খেলায় তার আঁঁচ পাওয়া যায়নি। নিজেদের মাঠ স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে অ্যাটলেটিকোকে ২-০ গোলে হারায় তারা। অন্যদিকে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। লিওনেল মেসির দুই গোলে অ্যাটলেটিকো বিলবাওকে তারা হারিয়েছে ৫-১ গোলে। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় কোন হেরফের ঘটেনি। ১৪ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ৩৪। ফ্যালকাওদের থেকে পাঁচ পয়েন্ট কম নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। নিজেদের মাঠে রিয়ালের জয়টা সহজেই এসেছে রিয়ালের জন্য। দলের হয়ে গোলের সূচনা করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ১৬ মিনিটে তার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জার্মান মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল। ১৯৯১-৯২ সালে রিয়াল মাদ্রিদের মৌসুম শুরুর রেকর্ড ছাড়িয়ে বার্সেলোনা এখন ১৪ ম্যাচে ১৩টি জয় ও একটি ড্র নিয়ে লা লিগায় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এছাড়া ১৯৭২ সালে বায়ার্ন মিউনিখ এবং জার্মানীর হয়ে এক ক্যালেন্ডার বছরে জেরার্ড মুলারের করা ৮৫ গোলের রেকর্ড থেকে মেসি এখন আর মাত্র ১ গোল দূরে রয়েছেন। ডিফেন্সে ইনজুরি সমস্যার কারণে পিকের সাথে জেভিয়ার মাসচেরানোকে খেলাতে বাধ্য হয়েছিল কোচ টিটো ভিলানোভা। কার্লোস পুয়োল ইনজুরির কারণে সাইডলাইনে চলে যাওয়ায় সমস্যা আরো প্রকট হয়। এছাড়া ড্যানি আলভেসও ছিলেন না, তাই আদ্রিয়ানোকে রাইট ব্যাক হিসেবে খেলতে হয়েছে। স্বাগতিক দল প্রথম থেকেই জোড়ালো আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নেমেছিল। কিন্তু যখনই তারা অ্যাটলেটিকোকে পিছনে খেলতে বাধ্য করছিল তখনই সফলকারী কোন মার্সেরো বেইলসার উপর আস্থার রেখে তার আক্রমণাত্মক দর্শনকেই মেনে চলার চেষ্টা করছিল। ১২ মিনিটে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার নিচু শটে বার্সা প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিল। কিন্তু গোলরক্ষক গোরকা ইরাইজোজ সহজেই তা রক্ষা করেন। তবে বার্সেলোনা তাদের চাপ অব্যাহত রেখে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। ২২ মিনিটে কর্ণার থেকে অ্যাটলেটিকো লাইনের বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে ইরাইজোজ ফ্যাব্রেগাসের শট ঠেকালেও ফিরতি বলে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন পিকে। তিন মিনিট পরে মেসি দ্রুত তার প্রথম গোল আদায় করে নেন। হাফ টাইমের বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে আদ্রিয়ানো কোরেইরা দলের তৃতীয় গোল পূর্ণ করেন। এরপরের গোলটি আসে সেস ফ্যাব্রেগ্রাসের কাছ থেকে। বিলবাওর পক্ষে ইবাই গোমেজ সান্ত্বনাসূচক গোলটি করার পরে মেসি তার দ্বিতীয় গোল করে পরাজয়ের ব্যবধান বাড়ান। মেসির গোলের পরে বার্স খেলোয়াড়রা তৃতীয় গোলের জন্য আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। ৪৫ মিনিটে ফ্যাব্রেগাসের পাস থেকে ডান দিক থেকে দ্রুততার সাথে এগিয়ে আসা আদ্রিয়ানো জালের উপরের দিকে বল জড়াতে ভুল করেননি। বিরতির পরেও বার্সার আক্রমণে চিড় ধরেনি। ইরোইজোজ মেসির শট ঠেকালেও ৫৭ মিনিটে ইনিয়েস্তার পাস থেকে ডি বক্সের মধ্যে ফ্যাব্রিগাসের গোলটি আর রক্ষা করতে পারেননি। ৬৬ মিনিটে গোমেজের কাছ থেকে যে গোলটি বার্সেলোনা হজম করেছে তাতে তাদের দোষই দিতে হয়। তবে ৭০ মিনিটে মেসি নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোল করে সেই ভুল কিছুটা হলেও শোধরানোর চেষ্টা করেছেন। এদিকে রিয়াল সোসিয়েদাদের কাছে নিজেদের মাঠে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হবার পরে ভ্যালেন্সিয়ার কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে মরিসিও পালেগ্রিনে। দিনের অপর খেলায় গেটাফে ১-০ গোলে হারায় মালাগাকে। -বাসস শনিবারের ফলাফল গেটাফে ১ মালাগা ০ ভ্যালেন্সিয়া ২ রিয়াল সোসিয়েদাদ ৫ বার্সেলোনা ৫ অ্যাটলেটিকো বিলবাও ১ রিয়াল মাদ্রিদ ২ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ০