বিজয়ের ডায়েরি

মাঝে মাঝে গ্রামের লোক খাইয়েছে

বিনোদন প্রতিদিন প্রতিবছর বিজয়ের এই মাসে তারকাদের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগল্প শুনিয়ে আসছে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম নেই। তবে এ বছরের বিজয়ের ডায়েরিতে থাকছে স্মৃতিকথনসহ তারকাদের বলা দেশ নিয়ে সম্ভাবনার কথা। আজ থাকছে বরেণ্য নজরুল সংগীতশিল্পী শাহীন সামাদ। ১৯৭১ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে। আমাদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী স্মৃতি সংস্থা’ একটি সিদ্ধান্ত নিল যে, মুক্তাঞ্চলে গিয়ে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গান শুনিয়ে আসতে হবে। আমরা অনেকে রওয়ানা হই। কিন্তু আমরা যাব ছোট্ট একটি ট্রাকে করে, আর অতটুকু ট্রাকের মধ্যে সবাই ধরবে না। যাই হোক, সেখানে একজন ক্যামেরাম্যান ছিল, তিনি বললেন, ‘কাউকে বিরক্ত করব না, তোমরা যেখানে যেখানে যাবে আমি সাথে সাথেই থাকব।’ ট্রাকে একের পর এক গ্রাম পাড়ি দিতে হলো, এর মধ্যে ঘুম, খাওয়া-দাওয়ার ঠিক নেই, এরই মধ্যে কত ঘটনা। ট্রাকটিই আমাদের জন্য একধরনের বাড়ি হয়ে উঠেছিল। প্রায় দশ থেকে পনেরদিন পাটশাক খেয়ে থাকতে হয়েছে। মাঝে মাঝে গ্রামের লোক খাইয়েছে। এই ট্রাককেই স্টেজ বানিয়ে গান শোনাতাম। আমরা যখন মুক্তাঞ্চলে গেলাম, তখন আমাদের মধ্যে একটা অন্য ধরনের অনুভূতি এলো, পতাকা নিয়ে, মাটি মাথায় নিয়ে... আরও অনেক কিছু। মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে গাইলাম, সে এক অন্য ধরনের অনুভূতি। তখন দেখলাম, ছোট্ট ছোট্ট ছেলেদের দেশের প্রতি কী দারুণ ভালোবাসা, আমরাতো চাক্ষুস দেখেছি। তাদের রক্ত যে কত গরম ছিল, দেশের জন্য যে ভালোবাসা, জীবন উত্সর্গ করা, এ সবকিছু তখন তাদের চোখে স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলাম। এ এক অন্য অনুভূতি, অন্য অহঙ্কার। সব সময়ই ওই মুখগুলো আমার অনুভূতি ও চেতনার মধ্যে জীবিত থাকবে।