জিয়া হত্যার বিচার যারা করেনি তাদের কাছে যুদ্ধাপরাধ বিচারে সমর্থন আশা করা যায় না

গত শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া হত্যা মামলার বিচার : সময়ের দাবি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের (বিএনএফ) উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনএফের সদস্য সচিব অধ্যাপক আরিফ মাঈনুদ্দীন বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যার পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বললেন, সংবিধান অনুযায়ী উপ-রাষ্ট্রপতি জাস্টিস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তার এ বক্তব্য শুনে শোকবিহ্বল অবস্থায় আমি হতবাক হয়েছিলাম। রাষ্ট্রপতি জিয়া যাকে তুলে এনে স্থায়ী কমিটির সদস্য করলেন তার মধ্যে জিয়ার শাহাদাতের কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করিনি। অধ্যাপক আরিফ মাঈনুদ্দীন বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়ার হত্যার সময় বিএনপি মহাসচিব অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ সার্কিট হাউসে অবস্থানকারী বিএনপি ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের ভূমিকা রহস্যজনকই রয়ে গেল। তত্কালীন গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী জাস্টিস সাত্তার জিয়া হত্যার বিচারের কোনো ব্যবস্থা করেননি। তবে সেনা বিদ্রোহের বিচার করেই মহল বিশেষকে সন্তুষ্ট করেছেন। প্রধান বক্তার ভাষণে ফ্রন্টের চিফ কোঅর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ বলেন, এইচএম এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় দেশবাসী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কণ্ঠে জিয়া হত্যাকারী হিসেবে সামরিক শাসক এরশাদের নাম বলিষ্ঠভাবে উচ্চারিত হলেও ক্ষমতায় গিয়ে বেগম জিয়া এবং তার মন্ত্রিসভা জিয়া হত্যার বিচারের কথা বেমালুম ভুলে গেলেন। সরকার জেলহত্যা মামলা, যুদ্ধাপরাধের বিচারকাজ শুরু করে দাবি করছে যে, তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এই সরকারকে অবিলম্বে জিয়া হত্যা মামলা চালু করে প্রমাণ করতে হবে তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ সময় তিনি বলেন, জিয়া হত্যার বিচার যারা করেনি তাদের কাছ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমর্থন আশা করা যায় না। সভাপতির ভাষণে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট-বিএনএফ-এর যুগ্ম আহ্বায়ক আঞ্জুমান সালাউদ্দীন বলেন, জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের নেতৃত্বে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা জিয়া হত্যার বিচার করে দায়মুক্ত হতে পারি। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ফ্রন্টের নেতা কর্নেল (অব.) নাজমুল আহসান মল্লিক, মোহাম্মদ আলী, এসবি বড়ুয়া, মেহজাবিন ওয়াহেদ, ফিরোজ কবীর, মিজানুর রহমান মিজু, রফিকুল ইসলাম আরজু, মো. শফিউল্লাহ চৌধুরী, মনিরুল ইসলাম মনির প্রমুখ।