টাকা ছাড়া ময়লা নেয় না চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা

 শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস

নগরীর আউটার স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফুটপাত একসময় ছিল ময়লা আবর্জনার বিশাল ভাগাড়। একবছর আগেও দুর্গন্ধে ওই এলাকা দিয়ে হাঁটাচলা করা যেত না। আশপাশের বাসাবাড়ি, রেস্টুরেন্ট ও ভাসমান দোকানের সমস্ত ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো ফুটপাতের ওপর। কিন্তু আউটার স্টেডিয়ামের চিত্র এখন আমূল পাল্টে গেছে। ময়লা-আবর্জনার পরিবর্তে এখন সেখানে শোভা পাচ্ছে সবুজ গাছগাছালি। একই অবস্থা ছিল চট্টেশ্বরী মোড়েও। ময়লা আবর্জনা ফেলা হতো তিন রাস্তার মোড়ে। ডাস্টবিনের পরিবর্তে এখন সেখানে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন জহুর-মান্নান চত্বর।

নগরীতে উন্মুক্ত স্থানে ময়লা ফেলার বেশ কয়েকটি পয়েন্টকে ইতোমধ্যেই আমূল পাল্টে ফেলা হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও এই কার্যক্রম এখনো চলমান রেখেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এর পাশাপাশি নগরীকে ‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী’ হিসেবে গড়ে তুলতে এক বছর আগে ‘ঘরে ঘরে গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ কার্যক্রম’ শুরু করেছে সংস্থাটি। প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে শুরু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় গত বছরের ২ এপ্রিল থেকে। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ময়লা সংগ্রহের কাজ চলে। প্রতিটি বাসাবাড়িতে ময়লা রাখার জন্য এ পর্যন্ত ৯ লাখ ডাস্টবিন সরবরাহ করা হয়েছে। চসিকের পরিচ্ছন্নতা সেবকরা প্রতিটি ঘর, বাসা, অফিস, দোকান হতে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহ করেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা পরে বর্জ্য ও আবর্জনা ডাস্টবিন বা অন্য কোথাও না ফেলতে অনুরোধ করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে চসিকের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

তবে ঘরে ঘরে গিয়ে ময়লা আবর্জনা সংগ্রহের মাধ্যমে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার এই উদ্যোগ গত এক বছরে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভ করেনি বলেই অনেকে দাবি করছেন। এর কারণ হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ফাঁকিবাজি ও নগরবাসীর অসচেতনতাকেই মূলত দায়ী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে অসহযোগিতার। ইত্তেফাকের বেশ কয়েকজন পাঠকের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, আবর্জনা সংগ্রহের জন্য টাকা নেওয়ার নিয়ম না থাকলেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা প্রতিটি পরিবার থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেয়। টাকা না দিলে ওই বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করে না। ফলে ওই পরিবারগুলো রাস্তা কিংবা আশপাশের নালানর্দমায় ময়লা ফেলে। এছাড়া ফুটপাতের ভাসমান দোকান, বালি বহনকারী ট্রাক, বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী বাজারের কারণে রাস্তাঘাট আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। সকালে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করলে দুপুর থেকেই আবার ভাসমান বিক্রেতাদের দখলে চলে যাচ্ছে ফুটপাত। নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তা নোংরা ও পাইলিংয়ের কাদায় নালানর্দমা ভরাট হচ্ছে। রাতে শত শত বালিবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে দিনভর রাস্তা ধুলাবালিতে নোংরা হচ্ছে। ফলে মানুষ শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। জানতে চাইলে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী বলেন, প্রত্যেকদিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে প্রায় ২ হাজার টন ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করতে হচ্ছে যা খুব চ্যালেঞ্জিং কাজ।