অবহেলিত বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৬
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিজয়ের ঊষালগ্নে পাকিস্তানি হানাদার ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর বাহিনীর বাঙালি-বুদ্ধিজীবী নিধনের স্থান রায়েরবাজারের বধ্যভূমি। এখানেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক— এ মাটির শ্রেষ্ঠ সন্তান— বুদ্ধিজীবীদের। এখানে আকাশ থমকে আছে, বাতাস ভারী, পত্রপল্লব অনড়, শোক ভাষাহীন। এ নির্বাক শোক আর বেদনারই বিমূর্ত প্রতীক এ স্মৃতিসৌধ।
কিন্তু এই ঐতিহাসিক বধ্যভূমি আজ বড়োই অবহেলিত। প্রবেশের মূল ফটকে ‘ভেতরে ফেরিওয়ালা প্রবেশ নিষেধ’ লেখা থাকলেও ভেতরে যেতেই চোখে পড়বে বাদাম, বেলুন, ঝালমুড়ি বিক্রেতা এমনকি সিগারেট বিক্রেতাদেরও পাঁয়চারি। বধ্যভূমির পেছন দিকে রয়েছে বখাটের উত্পাত। সিগারেট-গাঁজার আসর। বিভিন্ন জায়গায় সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে— বধ্যভূমির দেয়ালে বসা নিষেধ। কিন্তু অনেকেই এই দেয়ালে পা তুলে শুধু বসেই নয় শুয়ে। ছোট ছোট মাঠগুলোর মাঝে বসেছে ক্রিকেটের আসর। এতে করে দর্শনার্থীরা সুবিধামতো চলাফেরা করতে পারে না। বিভিন্ন জায়গায় মলমূত্রের বিকট গন্ধ পাওয়া যায়। মলমূত্র ত্যাগের জন্য দুটি টয়লেট থাকলেও ঝুলছে তালা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে বধ্যভূমির ভেতরে দেখা যায় না। বধ্যভূমির দেয়ালে বসে অনেকেই সিগারেট ফুঁকে। এ অবস্থায়, কর্তৃপক্ষীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আমাদেরও বধ্যভূমির সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এগিয়ে আসা উচিত।
খন্দকার এনামুল হক,
জাকির হোসেন রোড, মোহাম্মদপুর,
ঢাকা।