‘পরের ম্যাচে ১২০-এর বেশি করতে হবে’
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৫
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই সেঞ্চুরি পেয়ে যাওয়ায় যেমন আনন্দে ভাসার কথা, তেমনই হচ্ছে এনামুল হকের ক্ষেত্রে। তবে ম্যাচ শেষ হতে নিজেকে সামলে নিয়েছেন। এখন লক্ষ্য ঠিক করেছেন, পরের ম্যাচে আরও ভালো করতে হবে এবং আরেকটা জয় এনে দিতে হবে দলকে। নিজের বর্তমান এবং ভবিষ্যত্ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বললেন জাতীয় দলের নতুন তারকা এনামুল হক বিজয়—
এই সেঞ্চুরি কি বিশেষ কিছু?
অবশ্যই। অবশ্যই এটা বিশেষ কিছু।
সেঞ্চুরি করে যখন হেলমেট খুলে লাফ দিলেন; সেই সময়ের অনুভূতিটা কেমন ছিল?
সেটা তো বুঝিয়ে বলা কঠিন। একেবারে অন্যরকম একটা অনুভূতি। আসলে অন্য ফরম্যাটে একটা সেঞ্চুরি করা আর জাতীয় দলের হয়ে সেঞ্চুরি করার মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। জাতীয় দলে অভিষেকের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই সেঞ্চুরি পেয়ে যাব; এটা অসাধারণ এটা ব্যাপার না! একসময় স্বপ্ন দেখতাম। সেটা বাস্তব হয়ে যাওয়ার পর খুব ভালো লাগছে।
জাতীয় দলে আসার আগেও তো নিয়মিত সেঞ্চুরি করছিলেন। সেগুলোর সঙ্গে এটার পার্থক্য কী?
হ্যাঁ, গত ১১ মাসে এটা নিয়ে আমার ১০টা সেঞ্চুরি হলো। আন্তর্জাতিক ম্যাচে পার্থক্য হলো, এখানে অনেক ভালো ভালো বোলার থাকে। এখানে ভালো বল বেশি হয়, বাজে বল কম পাওয়া যায়। বোলিংয়ে বৈচিত্র্যও থাকে অনেক বেশি। এখানে দর্শকের চাপ থাকে, দেশের হয়ে খেলার চাপ। সব মিলিয়ে একটু তো পার্থক্য থাকবেই।
সর্বশেষ সেঞ্চুরিগুলোর কথা মনে করতে পারেন?
হ্যাঁ। ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ জাতীয় লিগ তো খুব কাছাকাছি সময়ে হয়েছে। আগের মৌসুমে জাতীয় লিগে তিনটা, এবার দুইটা; মোট পাঁচটা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুইটা, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুইটা। সবমিলিয়ে হল নয়টা। আর এটাকে নিয়ে দশটা সেঞ্চুরি।
নব্বই থেকে একশ পর্যন্ত যেতে কী একটু নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন?
খুব একটা না। অভ্যাস হয়ে গেছে।
৩৪তম ওভারের পর আবার বাউন্ডারি মারতে পেরেছেন ৪৮তম ওভারে। সেঞ্চুরির জন্য একটু বেশি সতর্ক ছিলেন?
আসলে ফিল্ডাররা যখন বাইরে থাকে, সিঙ্গেল খেলাই ভালো। আর আমার সঙ্গে ব্যাট করছিলেন মুশফিক ভাই, সেখানে আমার বেশি তাড়াহুড়ো করার দরকার ছিল না। কিছুক্ষণ পরপর বাজে বল আসছিল, ডাবল হচ্ছিল, মুশফিক ভাই মারছিল। আমিও এক-দুই নিচ্ছিলাম।
৮০ থেকে ১০০ পর্যন্ত কেমন যেন গুটিয়ে গেলেন...
তা ঠিক বলছেন। আসলে ৫০ ওভারের মধ্যে এমন কিছু সময় আসে, যখন একই রকম বা একই গতিতে রান করা যায় না। আমার ক্ষেত্রে ওই সময়টায় সেটাই হয়েছে।
আপনি তো একটা নিয়মিত উন্নতির মধ্যে আছেন। এটা কিভাবে দেখেন?
আমি সবসময়ই চেষ্টা করি প্রতিদিন উন্নতি করতে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট, ক্লাব ক্রিকেট, টি-টোয়েন্টি, সবকিছুতেই মানিয়ে নিলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও মানিয়ে নেয়া যায়। এই ব্যাপারটাই আমার মাঝে কাজ করেছে। প্রথম ম্যাচে ৪১ করলাম। পরে ভেবেছি সেট হয়ে আউট হওয়া যাবে না। এজন্যই হয়ত আজ বড় ইনিংস গড়তে পেরেছি।
পরের ম্যাচে তাহলে ডাবল করবেন?
(হাসি) চেষ্টা করব ১২০-এর বেশি করার।
২-০তে এগিয়ে বাংলাদেশ, ৫-০ কী সম্ভব?
এভাবে তো বলা যায় না। মিরপুরেও যদি আমরা খুলনার মতো খেলতে পারি, অবশ্যই সিরিজ জিতব। ৫-০ বা ৪-০, এসব আমরা ভাবছি না। আমরা প্রতিদিনই উন্নতি করতে চাই, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।
এমন শুরু আশা করতে পেরেছিলেন?
খুলনায় এমন কিছু করব, এই স্বপ্ন ছিল না। স্বপ্ন দেখতাম মিরপুরে এমন কিছু হবে, প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচে আমার হাত ধরে দল জিতবে। খুলনায় হলো, মিরপুরে হলো না। আশা ছিল।
২১ রানে ২ উইকট পড়ার পর কী খানিকটা চাপ অনুভব করছিলেন?
নাহ, আমাদের তো পরে অনেক ব্যাটসম্যান আছে। এমনকি লোয়ার অর্ডারে মাশরাফি ভাই, সোহাগরাও ভালো ব্যাটিং করে। বাড়তি কোনো চিন্তা তাই ছিল না।
গত ম্যাচে তামিম, এই ম্যাচে মুশফিকের সঙ্গে জুটি হলো আপনার। ওদের সঙ্গে খেলার অনুভূতি কেমন?
গত ম্যাচে তামিম ভাই আসলেই অনেক সাহায্য করেছে। সাহস জুগিয়েছে। আর উনি থাকলে তো আমার কিছু করা লাগে না, উনিই সব করেন। আজকেও মুশফিক ভাই চেষ্টা করেছে আমার ওপর বেশি চাপ যাতে না পড়ে।
২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বাংলাদেশের তিন সেঞ্চুরিয়ান এখন সাকিব, তামিম আর আপনি। পাশাপাশি তিনজনের নাম, ওদের কাছ থেকে কতটা শেখার আছে?
এমনিতে সবসময় তো ড্রেসিংরুমে কথা হচ্ছেই। কী করা যাবে, কী নয়। চেষ্টা করছি শেখার। চেষ্টা করব তাঁদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার।
আপনার নামটা আসলে কি? আনামুল, না এনামুল?
আসলে আমিও কনফিউজড হয়ে গেছি! ইংরেজিতে লেখা হয় MD ANAMUL HAQUE BIJOY. কিন্তু বাংলায় তো ‘এ’ দিয়ে। মানে এনামুল।