সংগঠিত হচ্ছে জেএমবি!

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র ৫ সদস্যকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে গতকাল রবিবার ভোর নাগাদ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন জেএমবির শূরা সদস্য শেখ রহমত উল্লাহ মাসুম, খুলনা অঞ্চলের আমীর এহসার সদস্য শাহিনুজ্জামান ওরফে শাহীন ওরফে শফিক, জেএমবি’র বর্তমান অর্থ সম্পাদক এহসার সদস্য অমিত হোসেন ওরফে আজমির, গায়েরে এহসার সদস্য শরিফুল ইসলাম ওরফে সোহাগ এবং মোঃ সাইদুর। র্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেফতারকৃত ৫ জঙ্গির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজ ও সিডি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব কাগজে সংগঠনটির নতুন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সংগঠনটি যুদ্ধাপরাধের বিচার বানচালের লক্ষ্য নিয়ে সংগঠিত হচ্ছে। এজন্য তারা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও করছে। এছাড়া সরকারের শীর্ষ কয়েক নেতাকে টার্গেট করে নিষিদ্ধ এ সংগঠনটি মাঠে নেমেছে বলে র্যাব সদস্যরা তথ্য পেয়েছেন। গতকাল দুপুরে উত্তরায় র্যাব সদর দফতরে গ্রেফতার জেএমবি সদস্যদের হাজির করা হয় সাংবাদিকদের সামনে। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন (বিএন) মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, র্যাবের কাছে খবর ছিল জেএমবির পলাতক শীর্ষ নেতারা রাজধানীতে গোপন বৈঠকে মিলিত হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ঐ ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। । সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা সোহায়েল বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর যে হামলা চলছে তাতে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো জড়িত বলে তারা প্রমাণ পেয়েছেন। এসব সংগঠন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করা, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে। তিনি আরো বলেন, তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা কাগজপত্র ও সিডি দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জেএমবি জঙ্গিরা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকে টার্গেট করেছে। তাদের টার্গেটে প্রতিবেশী দেশের কয়েকজন নেতাও রয়েছে। তবে নিরাপত্তার কথা জানিয়ে নেতাদের নাম প্রকাশ করেননি র্যাবের ঐ কর্মকর্তা। জেএমবি’র পলাতক আমীর সোহেল মাহফুজ নতুন করে সংগঠনটি সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। গ্রেফতার শেখ রহমত উল্লাহ ওরফে মাসুম সাংগঠনিক কাজ-কর্ম সমন্বয় করে আসছিল। মাসুম ২০০৫ সালে গোপালগঞ্জে ব্র্যাক অফিসে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা রয়েছে। ২০১১ সালে সে জামিনে বের হয়ে ভারতে পালিয়ে যায়। কয়েকদিন আগে দেশে প্রবেশ করে আবারও জেএমবিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল।