২২ পোশাক রপ্তানিকারকের ৪০ কোটি টাকা আটকে দিয়েছে ভারতীয় ক্রেতা

বাংলাদেশের ২২টি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ লাখ ডলার (৪০ কোটি টাকা) আটকে দিয়েছে ভারতীয় একটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে ওই ২২টি প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ক্রেতা লিলিপুট কিডস্ওয়্যার লিমিটেডের কাছে ওই পরিমাণ অর্থের পণ্য রপ্তানি করেছিলো। ভারতের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের ভারতীয় দূতাবাসের কাছে অভিযোগ করেও এ অর্থ আদায় সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে গতকাল রবিবার তৈরী পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ ভারতীয় হাইকমিশনার পংকজ শরনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১১ সালে তারা লিলিপুটের দেয়া এলসির বিপরীতে পণ্য রপ্তানি করেন। রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে, ওভেন, নীটওয়্যার, জিন্স এবং স্যুয়েটার। কিন্তু ভারতীয় ক্রেতা পণ্য বুঝে পেলেও সেখানকার সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ওই অর্থ ছাড় করেনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতীয় ইয়েস ব্যাংক, এলাহাবাদ ব্যাংক, এক্সিস ব্যাংক, আইসিআইসিআই স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক এবং এইচডিএফসি ব্যাংকের এলসির বিপরীতে ওই পণ্যগুলো রপ্তানি করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, সেখানকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, দিল্লীতে বাংলাদেশি হাইকমিশন এবং বাংলাদেশের ভারতীয় দূতাবাসের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। এদিকে রপ্তানিকারকদের পাওনা আদায় করে দিতে দিল্লীতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করেছেন। সেখানে লিলিপুট কিডসওয়্যারের কর্মকর্তারা গত জুলাই থেকে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যে কিস্তির মাধ্যমে পাওনা পরিশোধের অঙ্গীকার করলেও তারা তাদের কথা রাখেননি। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের সাথে গতকালের বৈঠক সম্পর্কে বিজিএমইএ সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, রপ্তানিকারকরা যাতে তাদের অর্থ দ্রুত পেতে পারে সেজন্য পংকজ শরন ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। রপ্তানি করা পণ্যের বিপরীতে অর্থ পাননি এমন প্রতিষ্ঠান জেমিনি গার্মেন্টস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান ইত্তেফাককে বলেছেন, স্থানীয় ব্যাংক টাকা না পাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করা তাদের জন্য মুশকিল হয়ে পড়েছে। কোন ব্যাংক নতুন এলসি খুলতে চাচ্ছে না। তিনি বলেন, পণ্য উত্পাদনের জন্য আমরা যেসব স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করেছি ব্যাংক সেসব প্রতিষ্ঠানকে তাদের পাওনা পরিশোধ করে দিয়েছে। এ অর্থ রপ্তানিকারকদের নামে ফোর্স লোন হিসাবে রেখে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভারতীয় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান লিলিপুট যেসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ পরিশোধ করেনি সেগুলো হচ্ছে মাজকান জিন্স লি:, ভারটেক্স অ্যাপারেল লিমিটেড, বারাত স্যুয়েটার লি:, জেমিনি গার্মেন্টস লি:, এ প্লাস স্যুয়েটার, সিনহা উল ওয়্যারস লি:, সিনহা ফেব্রিকস লি:, অনুপম ফ্যাশন্স লি:, পানসি নীট (প্রা:) লি:, কেন্ট ফ্যাশন্স (প্রা:) লি:, আনিসা স্টাইল লি:, হাইপয়েড লিংগারিস লি:, ডেফোয়িন ডিজাইন (প্রা:) লি:, নিউ জেনারেশন ফ্যাশন্স লি:, উত্তরন ওভেন এন্ড লি:, ডিএনএস স্যুয়েটার লি:, আয়েশা এন্টারপ্রাইজ, আই পি জ্যাক নিটিং লি:, টি-মার্ট কম্পিউটারাইজ্ড স্যুয়েটার লি:, হলমার্ক ডিজাইনওয়্যার লি:, অ্যাপারেলস কনসেপ্ট লি:, আলিফ অ্যাপারেলস লি:, এন. ডি. অ্যাপারেলস লি:।