চট্টগ্রামে রিংরোড প্রকল্প শুরু হয়নি ৫ বছরেও

নগরীর যানজট নিরসনে জাপানের অর্থায়নে গৃহীত সিডিএ’র আউটার রিং রোড প্রকল্প গত পাঁচ বছরেও শুরু করা যায়নি। সিডিএ’র মাস্টার প্ল্যান-১৯৯৫ অনুযায়ী চট্টগ্রাম শহরের ওপর ভারি যানবাহনের চাপ কমাতে আউটার রিং রোড প্রকল্প গ্রহণের কথা বলা হয়। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম শহরের কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর সদরঘাট থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত ১টি, কালুরঘাট থেকে বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত ১টি এবং চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন পতেঙ্গা সমুদ্র উপকূল ঘেঁষে বেড়িবাঁধ হয়ে ফৌজদারহাট পর্যন্ত অপর একটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী আউটার রিং রোড প্রকল্পের স্টাডি চালায়। এর প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালে সিডিএ এবং পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মতিতে প্রথমে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ হয়ে সাগরিকা রোড পর্যন্ত সমুদ্র উপকূল বরাবর ১ম আউটার রিং রোড প্রকল্পের ব্যাপারে স্টাডি রিপোর্ট দেয়। উক্ত আউটার রিং রোড প্রকল্পের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দি ক ভারি যানবাহন যাতে শহরের মধ্যদিয়ে না গিয়ে বাহির দিয়ে গিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠতে পারে। প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কে তিনটি এপ্রোচ রোডও রাখা হয়েছে। কিন্তু সিডিএ, পূর্ত মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ‘গো-স্লো নীতির’ কারণে তা খুঁড়িয়ে চলতে থাকে। জাইকার সাথে চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে প্রকল্পটি ৮৫৬ কোটি টাকায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। সিডিএ’র পক্ষ থেকে আউটার রিং রোড প্রকল্পের ওপর জোর না দিয়ে যানজট নিরসনে নগরীতে ফ্লাইওভার নির্মাণের ওপর জোর দেয়া হয়। মাস্টার প্ল্যানে এ ব্যাপারে কোন দিকনির্দেশনা না থাকা সত্ত্বেও ফ্লাইওভার নির্মাণে সিডিএ উদ্যোগ গ্রহণ করলে নগর পরিকল্পনাবিদরা এর বিরোধিতা করে। সিডিএ ফ্লাইওভার নির্মাণে তার অবস্থানে অনড় থাকে। এমনকি এটি বাস্তবায়নে সরকারের সিদ্ধান্ত দ্রুত পেতে নিজস্ব তহবিলে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার নির্মাণের প্রস্তাব করে। এ ক্ষেত্রে সিডিএ কর্মচারীরা তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ফ্লাইওভারে খরচের বিরোধিতা করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে থাকে। নিজস্ব অর্থায়নে ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও জাইকার অর্থায়নে আউটার রিং রোড প্রকল্পের প্রতি সিডিএ’র গা-ছাড়া ভাব লক্ষ্য করা যায়। আউটার রিং রোড প্রকল্পের জন্য যে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল তার মূল্যও বেড়ে যায়। ফলে প্রকল্প ব্যয় ৮৫৬ কোটি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭২০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। কিন্তু জাইকা প্রস্তাবিত ৬৮৩ কোটি টাকার অঙ্ক আর বাড়ায়নি। অথচ চুক্তি অনুযায়ী অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে বাংলাদেশ অংশের টাকার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। আউটার রিং রোড প্রকল্পের পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শাম্স জানান, বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ১ হাজার ৭২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে অধিগ্রহণের টাকা ও পুনর্বাসনের টাকা প্রদান করা না গেলে এই ব্যয় আরো বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।