ফলন ভাল দাম কম, খরচ উঠছে না ধান চাষীদের
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৬
আমন মৌসুমের শুরুতে খরা, শেষে উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ছাড়াও কিছু কিছু এলাকায় বাদামি গাছ ফড়িংয়ের (কারেন্ট পোকা) আক্রমণসহ কোন বাধাই দমাতে পারেনি কৃষককে। সোনারঙা আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে এখন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তাদের বুকে বাজছে ঘাম ঝরিয়ে ফলানো ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বেদনা। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। যে দরে হাট-বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে তাতে কৃষক হতাশ। চড়া দামে বীজ, সার ও কীটনাশক কিনে ফলানো ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিন্তায় তারা।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জের কৃষক জিয়াউর রহমান জানান, তার প্রতি কেজি ধানের উত্পাদন খরচ পড়েছে ১৬ থেকে ১৭ টাকা। এই হিসেবে প্রতি মণ ধান ৬৪০ থেকে ৬৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলে আসল টাকাটা ঘরে উঠতে পারত। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকায়। ফলে তাদের প্রতি মণ ধানে গচ্চা দিতে হচ্ছে ১শ’ থেকে দেড়শ’ টাকা।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার পুরানো লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক আছির উদ্দিন বলেন, ধানের চাষ করে লাভ কি? এবার ৩ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করে ৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। নিজের জমি ফেলে রাখা যায় না। তাই লোকসান হলেও ধান চাষ করছি। তবে আগামী মৌসুমে অন্য ফসলের চাষ করব বলে ভাবছি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মৌসুমেও কৃষক তার কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়নি। ফলে অনেক কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এবারও যদি ন্যায্যমূল্য না পাওয়া যায়, তাহলে তারা ধান চাষে পুরোপুরি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তাই সরকারের উচিত, মৌসুমের শুরুতেই আমন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ও মূল্য ঘোষণা করা। যাতে বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এদিকে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, নানা অজুহাতে তাদের কাছ থেকে ধান কেনা হয় না। যদি সরকার তাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনত, তাহলে হয়তো কিছুটা হলেও তারা ন্যায্যমূল্য পেতেন।
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বলেছে, কিছু প্রতিকূলতা সত্ত্ব্বেও চলতি অর্থবছরে সারাদেশে আমনের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। গত অর্থবছরে এক কোটি ৩৩ লাখ টন আমন ধান উত্পাদন হয়েছিল এবার আরো বেশি হবে।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে দেশে প্রায় ৫২ দশমিক ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে রোপা ও দেশীয় প্রজাতির বোনা আমন চাষ করা হয়েছে।
শেরপুরের কৃষকদের হাল :শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, দাম কম থাকায় সেখানেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে আমন ধান কাটা প্রায় শেষ। কৃষি বিভাগের তথ্যানুয়ায়ী শতকরা ৮০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। কিন্তু উত্তরাঞ্চলের ধান-চালের অন্যতম মোকাম শেরপুরের হাটগুলোতে তেমন ধান উঠছে না। কারণ, কৃষকরা প্রয়োজনের বেশি ধান বিক্রি করতে আগ্রহী নন। এমনই কথা জানালেন, গতকাল শেরপুর বারোদুয়ারী হাটে ধান নিয়ে আসা খানপুর ইউনিয়নের হুসনাবাদ এলাকার কৃষক শাহ আলম। তিনি জানান, সাংসারিক প্রয়োজনে ২ মণ ধান হাটে এনেছি পাইকাররা ছয়শ’ টাকার বেশি দাম বলছে না। তিনি বলেন, ৪ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করে ৬২ মণ ধান পেয়েছি। বাজার অনুযায়ী ৬২ মণ ধানের দাম প্রায় ৩৭ হাজার টাকা। তার দেয়া হিসাব অনুযায়ী জমির খরচ ও তার নিজের মজুরি বাদে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। জমির খরচ ও তার মজুরি ধরলে উত্পাদন খরচ কোনরকমে উঠলেও লাভ হবে না। প্রায় একই রকম কথা জানালেন শাহবন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া গ্রামের কৃষক হবিবর রহমান।
শেরপুর উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবছর আমন মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে।
বিঘায় দুই হাজার টাকা লোকসান
গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলার কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ। সাদুল্লাপুর উপজেলার পুরানো লক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল মান্নান বেপারী জানান, তার মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১২ বিঘা। চলতি মৌসুমে তিনি তার মধ্যে মাত্র ৭ বিঘা জমিতে বিআর-১১ ধান চাষ করেছেন। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক মিলিয়ে বিঘাপ্রতি উত্পাদন খরচ পড়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। ফলন হয়েছে বিঘাপ্রতি ৯ মণ। বাজারে প্রতি মণ ধান ৫০০ টাকা। সেই হিসাবে তার বিঘায় দেড় হাজার টাকা করে ৭ বিঘায় সাড়ে দশ হাজার টাকা লোকসান।
একই গ্রামের কৃষক আছির উদ্দিন (৫২) বলেন, ধানের চাষ করে লাভ কি! এবার ৩ বিঘা জমিতে আমন চাষ করে ৫ হাজার টাকা লোকসান দিয়েছি। নিজের জমি ফেলে রাখা যায় না। তাই লোকসান হলেও ধান চাষ করছি। আগামী মৌসুমে অন্য ফসলের চাষ করব বলে ভাবছি। এছাড়া যারা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছেন তাদের অবস্থা আরো করুণ। জেলার গাইবান্ধা সদরের তালুক মন্দুয়ার গ্রামের আব্দুল লতিফ জানান, তিনি অন্যের দুই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে গুটি স্বর্ণা রোপণ করেন। সব মিলিয়ে তার প্রায় ১০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। ধান উত্পাদন হয়েছে প্রায় ২৫ মণ। অর্ধেক জমির মালিককে দেয়ার পর তার ভাগে আছে সাড়ে ১২ মণ। মণ ৫৫০ টাকা দরে যার বাজার মূল্য ৬ হাজার ৮৭৫ টাকা।
সাদুল্ল¬াপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামের কৃষক নবীর মিয়া বলেন, সরকারি মূল্য নির্ধারণে আমাদের লাভ কি ? আমরা তো সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারি না। নানা অজুহাতে আমাদের ধান কেনা হয় না। সরকারি গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা ও এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী যোগসাজশে ধান-চাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই প্রতি বছর সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ করে।
রায়গঞ্জে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, রায়গঞ্জে চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান চাষের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। গত বছরের তুলনায় এবার রোপা আমন চাষের জমি কমে গেছে প্রায় ৪শ হেক্টর। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার উত্পাদন (চাউলে) প্রায় ১ হাজার টন কম হতে পারে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ আশংকা করছে। রোপা আমন ধান চাষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার কারণ হিসাবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মৌসুমে কৃষক ধানের দাম কম পেয়েছে। ফলে ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমে গেছে।
দিনাজপুরে কৃষকের মাথায় হাত
দিনাজপুরের স্টাফ রিপোর্টার জানান, মোটা ধানের দাম না থাকায় এই জেলার অধিকাংশ কৃষক এবার কাটারী ও স্বর্ণকাটারী জাতের ধানের চাষ করেছে। এছাড়াও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান ৩৯/৪১ চাষ করেছে কেউ কেউ। তবে এক সময়ের এ অঞ্চলের জনপ্রিয় ধান শীলকমর, সাপাহার, মাগুরশাল, আইরোট, বিআর ১১, কাতিশাল, সন্ধ্যা ও ঐতিহ্যবাহী বেগুনবিচি ধান চাষ করতে কাউকে দেখা যায়নি। কৃষকেরা জানায়, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ করতে শুরু করায় এই ধানগুলোর বীজ তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও এখন আর ঐ সকল ধান চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের ঠনঠনিয়াপাড়ার কৃষক সাব্বীর আলী জানায়, তার মোট আবাদ ১৫ একরের মধ্যে ১২ একর জমিতে কাটারী ও স্বর্ণকাটারী চাষ করেছে, যার প্রতি একরে ফলন হচ্ছে ৫০ মণ। যার বাজারমূল্য ৫০ হাজার টাকা। অথচ ঐ জমিতে অন্য জাতের ধান চাষ করলে ফলন ৫০ মণ হলেও বাজারমূল্য হত ১৫ হাজার টাকা।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ার-উল-আলম ইত্তেফাককে জানান, জেলায় এবার আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৩৮ হাজার ১শ’ ৫০ হেক্টর জমি। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২ লাখ ৫১ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৩ হাজার ১শ’ ৫০ হেক্টর বেশি। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এ বছর বেশি আবাদ হওয়ায় এবার ৬ লাখ ২৯ হাজার ৩শ’ ৮৫ টন চাল উত্পাদন হবে।
শেরপুরে আমনের আশাতীত ফলন : বাজারমূল্যে চাষিরা হতাশ
শেরপুর প্রতিনিধি জানান, এবার আমন আবাদের শুরুতে খরা পরবর্তীতে বন্যায় ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও শেরপুর জেলায় এবার আশাতীত ফলন হয়েছে। কিন্তু আমন ধানের বর্তমান বাজারমূল্যে চাষিরা হতাশ।
জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক সুভাষ চন্দ্র দেবনাথ জানান, জেলায় এবার ৮৮ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশি। শেরপুর জেলায় বর্তমানে পুরোদমে আমন কাটা শুরু হয়েছে। অবশ্য সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য কার্তিক মাসেই ঐ অঞ্চলের চাষিরা আমন ধান কেটে নিয়েছে। কৃষকরা জানায়, এক মণ ধান আবাদে এখন উত্পাদন খরচ হয় প্রায় পৌনে ছয়শ’ টাকা থেকে ৬০০ টাকা। তার ওপর নিজেদের শারীরিক-মানসিক পরিশ্রম তো রয়েছেই। কিন্তু বর্তমানে বাজারে ধানের দাম মিলছে প্রতিমণ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। চাষিরা জানায়, গত বছর বোরো ধানেরও তারা ধানের ন্যায্য দাম পায়নি। এবার আমনেও একই দশা। বাজারে সব জিনিসের দাম বেশি। খালি দাম নাই ধানের। তারা সরকারিভাবে ধানের দাম প্রতিমণ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা করার দাবি জানায়।
গফরগাঁওয়ে আমন কাটার ধুম
গফরগাঁও সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের এই উপজেলায় মাঠের পর মাঠে এখন ধান কাটার ধুম পড়েছে।
উপজেলার চরআলগী গ্রামের কৃষক জামান মিয়া জানায়, এ বছর ধার-দেনা করে ৬০ শতাংশ জমিতে আমন আবাদ করেছে। সার, বীজ, দিনমজুর খরচসহ তার মোট ব্যয় হয় প্রায় ৭ হাজার ৫শ টাকা। তার আশা এবার সে প্রায় ২০ মণ ধান পাবে। এই ধান বাজারে বিক্রি হবে কমপক্ষে ১১ হাজার টাকা। ধান বিক্রি করে লাভের মুখ দেখবে বলে সে আশা করছে।
জামালপুরে বাম্পার ফলন
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, চলতি মৌসুমে জামালপুর জেলায় রোপা-আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উত্পাদন খরচের তুলনায় ধানের বাজারমূল্য কম হওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। এ অবস্থায় মেলান্দহ উপজেলার সদারবাড়ী গ্রামের কৃষক ফিরোজ আলী, আজিমউদ্দিন, কাজিমদ্দিন জানায়, ধানের দাম না বাড়লে সার, বীজ, তেলের দাম কমিয়ে উত্পাদন খরচ কমাতে হবে। অন্যথায় কৃষকরা দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পথে বসবে, এমনকি ধান উত্পাদনে উত্সাহ হারিয়ে ফেলবে বলে তারা জানায়।
এদিকে খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, কৃষক ধানের মূল্য না পাওয়ায় সরকার আমন ধান সংগ্রহের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে, যাতে কৃষক তার কষ্টার্জিত ফসলের নায্যমূল্য পায়। এ প্রসঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহমেদ হোসেন খান গতকাল বলেন, ২ ডিসেম্বর খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধান কমিটির সভায় ধান সংগ্রহের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
চাল রপ্তানি ছাড়া উপায়
দেখছি না : খাদ্যমন্ত্রী
এই মুহূর্তে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, খাদ্যে আমাদের কোন সংকট নেই। খুব ভালো অবস্থানে আছি আমরা। এটা বর্তমান সরকারের অনেক বড় সাফল্য। কিন্তু গত মৌসুমেও কৃষক তার ফসলের নায্যমূল্য পায়নি, এবারও আমন বিক্রি করে কৃষকের উত্পাদন খরচ উঠছে না। এ অবস্থায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে কিনা—এমন প্রশ্নে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকের দাম না পাওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে আমরা ভাবছি। সরকার চলতি আমন মৌসুমেও ২ লাখ টন ধান-চাল কিনবে। তবে এভাবে ধান-চাল কিনে কৃষককে খুব বেশি সহায়তা দেয়া যাবে বলে আমি মনে করি না। এছাড়া গুদামে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় খুব বেশি পরিমাণ ধান-চাল সরকার কিনতেও পারবে না। যাতে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
বর্তমানে গম আমদানি করা হলেও চাল আমদানি করা হয় না উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষককে সহায়তা দিতে এই মুহূর্তে চাল রপ্তানি করা ছাড়া দাম বাড়ানোর আর কোন উপায় দেখছি না। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে ৪/৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করা যায় কিনা ভেবে দেখা যেতে পারে। যদি দেখা যায়, রপ্তানির সুযোগে একশ্রেণির ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে তখন প্রয়োজনে রপ্তানি বন্ধ করা যাবে।