সময় এখন বিজয়ের
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৪
বাবা শখ করে নাম রেখেছিলেন এনামুল হক। কিন্তু ১৯৯২ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবসের দিনে তার জন্ম বলে পরিবারের সবাই নাম রেখে দিল ‘বিজয়’। নামকরণের সার্থকতা এমনভাবে খুব বেশি করে কেউ রক্ষা করতে পারে না। সেই বিজয়ই নিজের ২০তম জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে, আরেক বিজয়ের মাসে জাতীয় দলকে এক বিজয় এনে দিলেন সেই এনামুল হক বিজয়!
এই সিরিজেরই প্রথম ম্যাচে অভিষেক হয়েছে এনামুলের; অভিষেকে খেলেছিলেন ৪১ রানের ইনিংস। কাল ছাপিয়ে গেলেন সবকিছু। নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করলেন, সেঞ্চুরির পর ঝড় তুলে দলকে এনে দিলেন বিশাল সংগ্রহ। আর এসবকিছুর ভেতর দিয়ে দেশকে উপহার দিলেন অসামান্য এক জয়।
বিজয়ের আন্তর্জাতিক পথচলা মাত্র শুরু হলেও জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটে তিনি কোনো আগন্তুক নন। ২০০৯ সালে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে অভিষেক। অভিষেকের পর থেকে দুরন্ত ফর্মেই খেলে চলেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। সেই ১৫ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘ইয়ংগার্স টেস্ট’ ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান স্কোরার হয়েছেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৩ ম্যাচে ৪৫.৪২ গড়ে ৭টি সেঞ্চুরিসহ ১৭২৬ রান করেছেন। সর্বশেষ ৩টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ২টি অপরাজিত সেঞ্চুরিসহ ৩৬৬ রান করেছেন।
জাতীয় দলে আসবেন বলে কড়া নাড়ছিলেন অনেকদিন ধরেই। বলা চলে এনামুলকে জাতীয় দলে আনার আগে দারুণ একটা পরিকল্পনার ভেতর দিয়েও গেছেন বাংলাদেশের নির্বাচকরা। গত বছর জিম্বাবুয়ের সফর থেকেই তাকে দলের সঙ্গে রাখা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পর্কে পরিষ্কার একটা ধারণাও হয়েছে। আর এ সবকিছুর ফল পাওয়া গেল এই খুলনায় এসে।
খুলনায় তার খেলা দেখতে আসা তার বাবা মোহাম্মদ জামিল মিয়া বলছিলেন, ‘কুষ্টিয়ার ছেলে হাবিবুল বাশার সুমন ছিলেন দেশের সেরা ব্যাটসম্যান। আমার ছেলেটা ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখত, সুমনের মতো ব্যাটসম্যান হবে। অবশেষে জাতীয় দলে ও সেঞ্চুরি করতে পেরেছে; এর চেয়ে বড় আর কী আছে! এখন আশা করি, ও নিজেকে সুমনের মতো বড় ব্যাটসম্যান করে তুলবে।’