জামায়াত যে কোন নাশকতা করতে পারে :আশরাফ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করতে জামায়াত-শিবির একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের মতো আচরণ করছে। স্বাধীনতা বিরোধীরা একাত্তর সালে যেমন আমাদের ওপর চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়েছিল এখনও তারা একই কাজ করছে। প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। দেশে তারা যে কোন ধরনের নাশকতা চালাতে পারে। এ কারণে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে রাজনীতি না করে দল-মত নির্বিশেষে সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দিক থেকে মতপার্থক্য থাকলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রশ্নে বিরোধী দলের সাথে আওয়ামী লীগের কোন মতবিরোধ নেই। মতপার্থক্য থাকাও উচিত নয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুধু আওয়ামী লীগের দাবি নয়—এটা এখন সমগ্র জাতির দাবি। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে যুদ্ধাপরাধের বিচার দ্রুতসম্পন্ন এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল আয়োজিত শোভাযাত্রা পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গতকাল রবিবার তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই, পক্ষ নিলে রক্ষা নাই’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’ শ্লোগানে রাজধানীর রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলে একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বয়সে তারুণ্য পেরিয়ে এলেও মিছিলে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বজ্রমুষ্টিতে ছিল অদম্য শক্তির ছাপ। চোখে-মুখে ছিল স্বাধীনতা বিরোধী খুনী, ধর্ষণকারীদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ধিক্কার। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, আমরা সবাই যে স্বাধীনতা ভোগ করছি, তা কারো দানে আসেনি। আমাদের স্বাধীনতা কোনো গোলটেবিল বৈঠক থেকে আসেনি। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা এসেছে। আর এর মধ্যদিয়ে সারা বিশ্ব জেনেছে, আমরা বিশ্বের অন্যতম বীরের জাতি। সমাবেশ শেষে শতাধিক ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাসে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধারা মিছিল বের করে। মিছিলটি সারা শহর প্রদক্ষিণ করে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এসে শেষ হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক, সুলতান উদ্দিন আহমদ রাজা, মহাসচিব ( প্রশাসন) এমদাদ হোসেন মতিন, মহাসচিব (কল্যাণ) মনিরুল হক, যুগ্ম-মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী বীরপ্রতীক। সমাবেশে জানানো হয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এবি তাজুল ইসলাম এমপি রাষ্ট্রীয় কাজে ভারতে অবস্থান করায় সমাবেশে উপস্থিত না থাকলেও তিনি দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এছাড়াও সমাবেশে হেলাল মোর্শেদ খান মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের সামনে মানববন্ধন আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুতসম্পন্ন এবং যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আজ সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন করবে। প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট কমান্ডসমূহের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবে।