ভাঙল মিলন মেলা
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪৪
এতবড় আসর আর কখনোই বসেনি রূপসা পাড়ের শহর খুলনায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ-বাংলাদেশ দলের ক্রিকেট আসরকে ঘিরে গোটা খুলনা মহানগরী পরিণত হয়েছিল মানুষের মিলন মেলায়। এক সময়ের ক্রিকেট পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পর পর দুইটি ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ দল হারানোর পর বিজয়ের মাসে বিজয়োল্লাস করেছে রূপসা পাড়ের মানুষেরা। অবশেষে পক্ষকালব্যাপী সেই মিলন মেলা ভেঙে গেল। অনেক স্মৃতি রেখে এই শহর থেকে চলে গেল বাংলাদেশ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল।
তবে পাখি উড়ে গেলেও থেকে যায় পালক। তেমনই মিলন মেলা ভাঙলেও আনন্দের রেশ যেন কাটছেই না খুলনাবাসীর। এখনও মোড়ে মোড়ে দুই ওয়ানডের কীর্তি নিয়ে আলোচনা। এখনও নেভেনি ক্রিকেট উত্সব আলো করে ফেলা নগরীর রোশনাই বাতিগুলো।
আর এখানকার সংগঠকরা এই সাফল্যকে বৃথা যেতে দিতে রাজি নন। তারা বলছেন, এই সাংগঠনিক ও ক্রিকেটীয় সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে এখানকার ক্রিকেটকে আরো মজবুত করে তোলা সম্ভব। সম্ভব নিয়মিত খেলা আয়োজন করা।
টেস্ট আয়োজনের ভেতর দিয়ে খুলনার দীর্ঘকালের অচলায়তন। ২০০৬ সালের মার্চে বাংলাদেশ-কেনিয়া ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট যাত্রা শুরু করেছিল। গত ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট ম্যাচের মধ্যদিয়ে দেশের সপ্তম টেস্ট ভেন্যু হিসাবে অভিষেক ঘটে আবু নাসের স্টেডিয়ামের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্ট ম্যাচে টাইগাররা হেরে গেলেও ওয়ানডে ম্যাচে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের জয়যাত্রা অব্যাহতই থাকে। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি ওয়ানডে ম্যাচের কোনটিতেই হারেনি টাইগাররা।
দেশের ‘লাকি’ এই গ্রাউন্ডে এখন নিয়মিত খেলা দেখার স্বপ্ন দেখছেন খুলনাবাসী। তারা চান এখানে আরে খেলা হোক। তারা এখনকার মতোই দেশের ও সংগঠকদের পাশে থাকবেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক জনতার এই দাবির সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, ‘এ পর্যন্ত শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে যতগুলো খেলা হয়েছে, সবগুলো খেলাই খুলনাবাসী ভালভাবে আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে। দর্শকেরও দারুণ সমর্থন ছিল। আগামীতেও কোন খেলা হলে খুলনাবাসী সেগুলো আরো ভালোভাবে করতে কোন ধরনের কার্পণ্য করবে না।’