খুলনার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় বাংলাদেশ দল
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪৬
সুযোগ দিলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা হয়তো খুলনা ছেড়ে আসতে চাইতেন না। এত সুখস্মৃতি খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে! এর আগেও খুলনাতে দুটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টির সবগুলোতে জয় ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে যেভাবে তুলোধুনো করেছে বাংলাদেশিরা; তা যেন রীতিমত রূপকথা। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই দুটি দিন স্বর্ণালী অক্ষরে লেখা থাকবে। এমন ‘পয়মন্ত’ ভেন্যু ছেড়ে কারই বা আসতে ইচ্ছা করে!
কাল যখন খুলনা থেকে বাসে চড়ে যশোরের বিমানবন্দরে এসে থেমেছে মুশফিকরা; এইসব স্মৃতি বার বার নাড়া দিচ্ছে তাদের। এখন তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ, খুলনার এই সুখস্মৃতিগুলো ঢাকায় টেনে আনা। ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগামীকাল বুধবার সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের চোখ এখন প্রথমত সিরিজ জয়ের দিকে। তারপর তারা নিশ্চয়ই ৪-০ ব্যবধান করতে চাইবে। কারণ, ন্যূনতম চার ম্যাচের ব্যবধানে সিরিজ জিতলে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে সপ্তম স্থানে চলে যাবে তারা। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এখনই হোয়াইট ওয়াশ বা ৪-০ নিয়ে ভাবছেন না; তবে মাহমুদউল্লাহ বা নাসির হোসেনরা এখন খুবই আত্মবিশ্বাসী যে, সিরিজটা তারা নিজেদের করে নিতে পারবেন।
কাল রাতে ঢাকা পৌঁছানো বাংলাদেশ দল আজ মঙ্গলবার মিরপুর স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নামবে। একদিন বাদেই তৃতীয় ওয়ানডে। জিতলেই সিরিজটি বাংলাদেশের। তবে এ ছাড়াও খেলোয়াড়দের মনে উঁকি দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড সিরিজের পুনরাবৃত্তি করার আশা। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। ২০১০ সালে ৪-০ ব্যবধানে বাংলাদেশ হোয়াইট ওয়াশ করে ব্লাক ক্যাপসদের। আফসোস ছিল বৃষ্টির জন্য। একটি ম্যাচ ভেসে গিয়েছিল বেরসিক বৃষ্টির কারণে। না হলে কে জানে সিরিজটি ৫-০ হতে পারতো! এবারো সেই সম্ভাবনা দুয়ার খুলে বসে আছে বাংলাদেশিদের সামনে।
যদিও এসব নিয়ে আগে-ভাগে কিছু বলতে নারাজ দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় নাসির হোসেন, ‘হোয়াইট ওয়াশ নিয়ে এখুনি কিছু ভাবছি না। দুটি ম্যাচ জেতায় আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, আমরা এই আত্মবিশ্বাস থেকে পরের ম্যাচটি জিততে চাই’।
বাংলাদেশ দলটি ‘আত্মবিশ্বাস’-এর অভাবে ভোগে বলেই এতোকালের আফসোস ছিল। খুলনার দু’ ম্যাচের পর এই ব্যাপারটার আর অভাব হচ্ছে না। সবার কণ্ঠে এখন আত্মবিশ্বাসের কথা। নাসির হোসেনের মতো সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের কণ্ঠ থেকেও বেরিয়ে এল আত্মবিশ্বাসের কথা, ‘দুটি ম্যাচ জেতায় আমাদের ভিতরে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। আমরা পরের ম্যাচগুলো জেতার ব্যাপারে আশাবাদী’।
১৬০ রানের ব্যবধানে ক্যারিবীয়দের হারিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন খেলোয়াড়রা। রাতে টিম মিটিংয়ে ম্যাচ পরিকল্পনা ছাড়াও গল্প-গুজব করেছেন। হাসি-ঠাট্টা করেছেন কিন্তু সেগুলো কারো সাথে ভাগ করতে চান না খেলোয়াড়রা। নাসির তো বলেই ফেললেন, ‘তেমন কিছুই হয়নি। প্রতিদিনের মত যা হয়েছে তাই। বেশি কিছু হয়নি’।
আর রিয়াদ বললেন, ‘টিম মিটিংয়ে ম্যাচ নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তবে অন্যদিনের তুলনায় সবার ভিতরে একটা পরিবর্তন দেখা গেছে। ম্যাচটি জেতায় সবাই তৃপ্ত- এই পরিবর্তনটাই ছিল উল্লেখ্যযোগ্য’।
বেশিকিছু হলেই বা বলবেন কেন? কারণ সমস্ত আনন্দ-উল্লাস জমিয়ে রাখা হচ্ছে সিরিজ জয়ের জন্য। একটি বিষয় নিয়ে খেলোয়াড়দের কপালে ভাঁজ পড়তেও পারে। খুলনার যে উইকেটে এতটা স্বাচ্ছন্দ্য খেলেছে তারা, মিরপুরে কি সেটি পাবে? প্রথম টেস্টের মত উইকেট পাবে তো? এসব প্রশ্ন নিয়ে কাল যশোর থেকে ঢাকায় এসেছে খেলোয়াড়রা। যারা উইকেট নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, তাদের জন্য সুখবরের ডালা নিয়ে এসেছেন কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। কাল উইকেট সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করতেই একগাল হেসে উত্তর দিলেন, ‘আমি তো আগেই বলেছি, মিরপুরে কেউ আউট না হলে তাকে আউট করা কঠিন। রান যেমন হবে, তেমনি স্পিনারদের জন্যও কাজটি সহজ হতে পারে’।
কিউরেটরের এই কথার পর স্বাগতিকরা স্বস্তিতে, ঠিক উল্টো চিত্র হতে পারে সফরকারীদের। প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশি স্পিনাররাই নাচিয়েছেন তাদের। দুই ম্যাচে ২০ উইকেটের মধ্যে ১৬ উইকেট নিয়েছেন স্পিনাররা। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে স্পিনারদের নিয়ে ক্যারিবীয়দের ভয়ের পাল্লাটা কত ভারি।
এই পরিসংখ্যানটা ধরে রাখাই এখন স্পিনারদের কাজ।