কুষ্টিয়ার সন্ত্রাসীর লাশ কলকাতার হিমঘরে

তিন বছর আগে ভারতের কলকাতায় খুন হওয়া জাসদ গণবাহিনীর কুষ্টিয়া অঞ্চলের নেতা আজিবর রহমান ওরফে আজিবর আলী চেয়ারম্যানের লাশ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে ভারত সরকার। কিন্তু তার মরদেহ নিকট আত্মীয়রা নিজ খরচে দেশে আনবেন কিনা, না আনলে মরদেহ নিজ ধর্মমতে ভারতে দাফন করতে রাজি কিনা তা জানতে চেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ ব্যাপারে গত ১৬ নভেম্বর তাদের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্র্রণালয় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপারকে একটি চিঠি দিয়েছে। ক্রসফায়ারের হাত থেকে বাঁচতে কলকাতায় আশ্রয় নিয়েছিলেন আজিবর রহমান ও তার সহযোগী ওবায়দুল্লাহ, কালু এবং আয়নাল। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে আয়নাল আলাদা দল গঠন করে। কলকাতায় আজিবরের হাতে খুন হন ওবায়দুল্লাহ ওরফে লাল। এর জের ধরে ২০০৯ সালের ১৬ নভেম্বর আয়নাল গ্রুপের সদস্য কালু কলকাতায় আজিবর চেয়ারম্যানকে হত্যা করে। এরপর থেকে আজিবরের লাশ কলকাতায় একটি হিমঘরে রাখা আছে। প্রথমে ভারত আজিবরের লাশ দিতে সম্মত ছিল না। কিন্তু তিন বছর পর তারা লাশ ফেরত দিতে রাজি হয়। আজিবরের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার চরমপন্থিদের মাঝে ধাক্কা লাগে । চরমপন্থি সংগঠন জাসদ গণবাহিনীর প্রধান হিসেবে আজিবর দীর্ঘ দুই যুগ ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন । ১৯৯৮ সালে সে ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে অস্ত্র জমা দিয়ে কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামে আত্মসমর্পণ করেন। জেল থেকে বের হয়ে এসে তিনি আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ২০০১ সালে বড় ভাই খয়বার চেয়ারম্যান প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন আজিবর। ২০০২ সালের ৩ জানুয়ারি ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জেলে থাকাবস্তায় অংশগ্রহণ করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।