অজয় রায়ের জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে

প্রয়াত নেতা অজয় রায় বাংলার মাটিকে ভালোবাসতেন। তাই তাঁর অন্তিম ইচ্ছে অনুয়ায়ী তাকে কটিয়াদীর নন্দীপুর গ্রামে সমাধিস্থ করা হয়। বাঙালির জাতিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ এবং মেহনতি মানুষের মুক্তি- এই দুটি কাজ বাস্তবায়িত হলে অজয় রায়ের আত্মা শান্তি পাবে। তাকে হারিয়ে আমরা রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়েছি।

গতকাল শনিবার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার নন্দীপুর গ্রামে প্রয়াত নেতা অজয় রায় স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন। এর আগে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচন এবং পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। তিনি বলেন, অজয় রায় একজন মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তিনি মানবিকতায় বিশ্বাস করতেন এবং মানুষের ভালো-মন্দের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে যা যা করণীয় সবাইকে নিয়ে তা করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, মানবতাবাদী নেতা প্রয়াত অজয় রায়ের স্মৃতিফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। অজয় রায় এই মাটির সঙ্গে মিশে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি যে ভূমির সন্তান তার সঙ্গেই তার দেহ মিশে আছে। উনি সারা জীবন দেশের জন্যই কাজ করেছেন। নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। তাদেরকে আমাদের নৈতিক শিক্ষা দিতে হবে। সত্যিকারের মানুষ হতে হলে, সত্যিকারের সম্মান পেতে হলে অজয় রায়ের জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে। এই দায়িত্ব শুধু অজয় রায়ের পরিবারেরই নয়- প্রতিটি মানুষকেই এই দায়িত্ব নিতে হবে।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, অজয় রায় ইতিহাসের উপাদান ধারণ করে আছেন। তিনি ছিলেন বাতিঘর। তাঁর বুকটা ছিলো বাংলাদেশের মানচিত্র। সতেরো কোটি মানুষ তাঁর বুকের মধ্যে ছিল। তিনি প্রথাবিরোধী বিপ্লবী ছিলেন বলে মাটির সঙ্গে মিশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। আমরা তাঁর শেষ ইচ্ছে পূরণের কাজটা সমাধান করেছি।

অ্যাডভোকেট অশোক সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারেক আলী, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহম্মেদ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী ও স্থপতি রবিউল হোসাইন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা শেখর দত্ত, প্রয়াত অজয় রায়ের পুত্র ড. অমিতাভ রায় প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পরে ঐতিহ্যবাহী বনগ্রাম আনন্দকিশোর স্কুল এন্ড কলেজে আয়োজিত অপর এক অনুষ্ঠানে কৃতি ১৪ জন ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে ‘অজয় রায় স্মৃতি বৃত্তি’ প্রদান করা হয়। এখানে অতিথিবৃন্দ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন প্রয়াত অজয় রায়ের সহধর্মিণী জয়ন্তী রায়।