সব আসামির নাম বাদ দিয়ে পুলিশের ফাইনাল রিপোর্ট

পুরনো ঢাকার ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ ওয়াজিউল্লাহ নিখোঁজের ঘটনায় তার ছেলের দায়ের করা অপহরণ করে গুমের অভিযোগের মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। মামলায় আসামি হিসেবে যে আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাদের প্রত্যেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার বাদী ওহিদুর রহমান বলেন, তার বাবাকে মার্কেটের মালিকানার দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিপক্ষরা কোন একটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অপহরণ করে গুম করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ টাকার বিনিময়ে আসামিদের নাম বাদ দিয়ে ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই আব্দুল হান্নান বলেন, ব্যবসায়ীকে খুঁজে পেতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। যেসব আসামির নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে তাদের সঙ্গে এ অপহরণ বা গুমের ঘটনার কোন সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও পাওয়া যায়নি। গত ২১ অক্টোবর আদালতে দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘ওয়াজিউল্লাহ নিখোঁজ বা অপহরণের ঘটনাটি সত্য বলিয়া প্রতীয়মান হয়। কিন্তু এজাহারে বর্ণিত আসামিদের উক্ত ঘটনায় কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় নাই।’ তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ‘তদন্তকালে আমি ভিকটিম ওয়াজিউল্লাহকে খুঁজিয়া বাহির করার জন্য/ উদ্ধার করার জন্য গোপনে ও প্রকাশ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করি। কিন্তু কোনো সূত্র না পাওয়ায় সম্ভব হয় নাই। অদূর ভবিষ্যতেও ভিকটিমকে উদ্ধার বা ঘটনার প্রকৃত আসামিদের কোনো তথ্য পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা না থাকায় এবং মামলাটির ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে সত্য প্রতীয়মান হওয়ায় মামলার তদন্ত অহেতুক মূলতবি না রাখিয়া মামলাটির চূড়ান্ত রিপোর্ট সত্য দাখিল করার আদেশ চাহিয়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে সাক্ষ্যের স্মারকলিপি দাখিল করি।’ আরও বলা হয়, ‘অদূর ভবিষ্যতে ভিকটিমকে পাওয়া গেলে বা প্রকৃত সত্য পাওয়া গেলে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আইনগত ব্যবস্থা করা হইবে।’ প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৪ জুলাই রাজধানীর বঙ্গবাজারে কাছে নির্মিত ঢাকা সুপার মার্কেটের স্বত্বাধিকারী ও মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মোহাম্মদ ওয়াজিউল্লাহ নিখোঁজ হন। ওয়াজিউল্লাহ’র স্ত্রী সালেহা বেগম অভিযোগ করেছেন, মার্কেটের মালিকানার দ্বন্দ্বের জের ধরে একটি পক্ষ র্যাবকে দিয়ে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে। তার স্বামী বেঁচে আছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তার স্বামীকে উদ্ধারের জন্য আবেদন করার পর প্রতিপক্ষরা তাকেও গুম করার হুমকি দিয়েছে। র্যাবের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী ওয়াজিউল্লাহর স্ত্রীর অভিযোগ প্রসঙ্গে রাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ক্যাপ্টেন(বিএন) মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, মামলাটি তদন্ত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। সে ক্ষেত্রে তারাই তদন্ত করে দেখেছে যে, এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত। এ ব্যাপারে হাজী ওয়াজিউল্লাহর ছেলে ওহিদুর রহমান বলেন, তার বাবাকে খুঁজে পেতে প্রশাসনের সবার দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু কেউই তার বাবার সন্ধান দিতে পারেনি। ঘটনার পর অর্থাত্ গত বছরের ১৫ জুলাই তিনি বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় আট জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ঢাকা সুপার মার্কেটের মালিকানা নিয়ে মীর আল-মামুন, আব্দুর রহমান, গোলাম মাওলা, জালাল আহম্মদ, রফিকুল ইসলাম, কালা রফিক, কিবরিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম তার বাবাকে অপহরণ করে গুম করেছেন। এ মামলাটি ডিবি তদন্ত শুরু করে। পরে অভিযুক্ত আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তকালে ডিবি আসামিদের সঙ্গে ওয়াজিউল্লাহ নিখোঁজ বা অপহরণ ঘটনার কোন সংশ্লিষ্টতা পায়নি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘ঢাকা সুপার মার্কেটের (বর্তমানে এর নাম ঢাকা মহানগর কমপ্লেক্স) মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয়ে কথিত ভিকটিম হাজী ওয়াজিউল্লাহ ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য ও বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার বাদী সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আসামিদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।’