আগুন আতঙ্কের সঙ্গে এবার চাকরিচ্যুতি আতঙ্ক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩১
আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে গত ২৪ নভেম্বর অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে প্রতিদিনই আগুন আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন সাভার ও আশুলিয়া এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গত কয়েকদিন ধরে আগুন আতঙ্কের কারণে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত হচ্ছেন শ্রমিকরা। গতকাল সোমবারও সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আল মুসলিম গ্রুপের একটি কারখানায় আগুন আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে ভবন থেকে বের হতে গিয়ে ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এছাড়া প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার লিমিটেড নামের আরেকটি পোশাক কারখানায় আগুন লাগলে কর্তৃপক্ষ তা দ্রুত নিভিয়ে ফেলেন।
আর গত রবিবার থেকে আগুন আতঙ্কের সঙ্গে যোগ হয়েছে চাকরিচ্যুতির আতঙ্ক। ওইদিন আশুলিয়ার হীয়ন অ্যাপারেলসের ১০০ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করা হয়। শ্রমিকরা বলছেন, এতকিছুর পরও হঠাত্ করে হীয়ন অ্যাপারেলসের কর্মকর্তারা কিছু না বলেই ১০০ জন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করেন। ওই কারখানার শ্রমিকদের ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী তাদের পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। তারা পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করেছে। যা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না শ্রমিকরা। এর জের ধরেই গতকাল সোমবার জামগড়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গতকাল বিকাল পর্যন্ত অবশ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগের দিনের মতো গতকালও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে। আর এ কারণে গতকাল একদিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে অন্তত ৩৫টি কারখানায়। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পরিচালক গোলাম রউফ সাংবাদিকদের বলেন, গতকাল সোমবার সকালে জামগড়া বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দিলে জিরাবো, কাঠগড়া, পুকুরপার, নরসিংহপুর, বেরন, বাইপাইল ও জামগড়া এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে চাইলে বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা ঢিল ছোঁড়ে। শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলাচল দারুণভাবে ব্যাহত হয় বলে জানান শিল্প পুলিশের পরিচালক। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। পুরো শিল্পাঞ্চলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এর আগে রবিবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কয়েক হাজার শ্রমিক। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।’
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বদরুল আলম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক থেকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আল মুসলিম গ্রুপের একটি কারখানায় গতকাল আগুন আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে ভবন থেকে বের হতে গিয়ে ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। শ্রমিক ও পুলিশ জানায়, সকালে আল মুসলিম গ্রুপের একটি কারখানায় আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। খবর পেয়ে সাভার ফায়ার ব্রিগেডের দু’টি ইউনিট কারখানায় যাওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষ আগুন নিভিয়ে ফেলে। ফায়ার এলার্ম বেজে উঠলে কারখানার শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে নামতে গেলে ১৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত দুলেনা বেগমকে সাভার সুপার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের চার, পাঁচ ও ছয়তলায় আল মুসলিম গ্রুপ ও জোভিয়ান সোয়েটার কারখানায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
এছাড়া সকাল ৯টার দিকে সাভারেই প্যাসিফিক ব্লু জিন্স ওয়্যার লিমিটেডের চারতলায় একটি সুইং মেশিনের জয়েন্ট থেকে আগুন বের হলে কারখানায় ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত শ্রমিকরা বের হয়ে যান। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ আগুন নিভিয়ে ফেলেন। অপরদিকে সকাল পৌনে ৯টার দিকে বাইপাইল এলাকার বার্জ গ্রুপের একটি কারখানার নিচতলায় জেনারেটর চালু করলে প্রচণ্ড শব্দ ও ধোঁয়া বের হয়। পাশের ফাহামী গ্রুপের শ্রমিকরা এ সময় ‘আগুন’ ‘আগুন’ করে চিত্কার করতে থাকেন। একপর্যায়ে ফাহামী, বার্জ, হানারু ফ্যাশন, সিজান গ্রুপসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা আতঙ্কে বের হয়ে আসেন। এসব কারখানায় অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করছিলেন।