রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

অষ্টম সমাবর্তন ৯ ডিসেম্বর

আগামী ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্বদ্যািলয়ে ৮ম সমাবর্তন। এ উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে প্রায় সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সমাবর্তনকে সামনে রেখে পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে উত্তরাঞ্চলের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ মতিহার সবুজ চত্বর। চলছে চূড়ান্ত মহড়ার আয়োজন-প্রস্তুতি। বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে তৈরী করা হচ্ছে বিশাল সুদৃশ্য মঞ্চ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে। এরপর ১৯৬০, ’৬১, ’৬২, ’৬৫, ’৭০, ৯৮ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম সমাবর্তন। তবে ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর সপ্তম সমাবর্তন ছাড়া আর কোন সমাবর্তনের বিষয়ে বিস্তারিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয়, সেগুলো স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে থাকতে পারে। কারণ দেশের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠকে পাক হানাদার বাহিনী ’৭১ এ পরিণত করেছিল উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত্ বধ্যভূমিতে। এখানে তারা তৈরী করেছিল কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প। স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে ১৯৮২ সাল থেকে অদ্যাবধি তাদের দোসর জামায়াত-শিবির চক্র মতিহারের সবুজ চত্ব্বরে চালাচ্ছে সন্ত্রাস-বর্বরতার নারকীয় তান্ডব। দীর্ঘ সেই রক্তাক্ত ইতিহাসের পথ- পরিক্রমায় আগামী ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অষ্টম সমাবর্তন। অষ্টম সমাবর্তনের মাধ্যমে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত নিবন্ধিত ৭ হাজার ২১ জন পিএইচডি, এমফিল, এমবিবিএস ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের মূল সনদপত্র প্রদান করা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ৬৩৮ জন ডিগ্রীধারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মনোনীত প্রতিনিধি, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন। সমাবর্তন বক্তা থাকবেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটরস ড. আনিসুজ্জামান। নিবন্ধিত সকল পিএইচডি, এমফিল, এমবিবিএস ডিগ্রীধারীদেরকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর থেকে এবং সকল স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীদের নিজ নিজ বিভাগ থেকে ৭ ডিসেম্বর বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা এবং ৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে একাডেমিক কস্টিউম বা সমাবর্তন পোশাক ও আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে সমাবর্তন স্থল বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে ৯ ডিসেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। পূর্বঘোষিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ১৮ দলীয় জোট ঘোষিত দেশব্যাপী সড়ক অবরোধ কর্মসূচীর আওতা থেকে রাজশাহীকে মুক্ত রাখার জন্য ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন। এদিকে দীর্ঘ অগ্রগতির ইতিহাস জড়িয়ে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। মাত্র ১৬১ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল বর্তমানে তার ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। ১৯৫৩ সালে রাজশাহী কলেজ কমপ্লেক্সে যাত্রার পর ১৯৫৮ থেকে ৬৪ সালের মধ্যে রাজশাহী শহর থেকে তিন মাইল পূর্বে পদ্মার অনতিদূরে মতিহার সবুজ চত্ব্বরের বর্তমান ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়। ৭৪৩ একর জমির উপর গড়ে ওঠে অস্ট্রেলীয় ইঞ্জিনিয়ার ড. নোমানী টমাসের মনোরম স্থাপত্য পরিকল্পনা। মাত্র ৭টি বিভাগ নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্র শুরু হলেও বর্তমানে বিভাগ সংখ্যা ৪৭টি। বর্তমানে অনুষদ ৯টি, উচ্চতর গবেষণা প্রতিষ্ঠান ৫টি। শুরুতে অধিভুক্ত কলেজ ছিল ২০টি, সর্বশেষ ২২৫টি। বর্তমানে কলেজগুলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে গেলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৪টি সরকারি ও ১৪টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একাডেমিক ভবন ১১টি, আবাসিক হল ও ডরমেটরী ১৭টি। শিক্ষক প্রায় ১ হাজার ২৫০, অফিসার প্রায় ৫৫০, সহায়ক কর্মচারী প্রায় ৫৫০, সাধারণ কর্মচারী প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন। ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে মতিহার সবুজ চত্ব্বরে যে চারা গাছটি রোপণ করা হয়েছিল তা আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে।