আমাদের ক্যাম্পাস

বিপুলাসার আহম্মদ উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়

কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার (সাবেক লাকসাম) বিপুলাসার ইউনিয়নের জাওড়া গ্রামের অধিবাসী বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী আবদুল মন্নান মোল্লা অত্র এলাকায় একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন। তিনি ১৯৫৯ সালে স্থানীয় বিপুলাসার বাজারে তার নিজস্ব ছনের ঘরে একটি জুনিয়ার হাইস্কুলের কার্যক্রম শুরু করেন। অর্থ ও জায়গা সংকটে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম ভালোভাবে চলছিল না। তাই তিনি তার এ স্বপ্নের কথা বিপুলাসার গ্রামের অধিবাসী ইব্রাহীম মুন্সীর সুযোগ্য পুত্র শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আহাম্মদ উল্যাহকে জানান। তিনি এ প্রস্তাবটি সানন্দে গ্রহণ করেন এবং অত্র এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শক্রমে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০ শতক ভূমি ক্রয় করে বিদ্যালয়ের জন্য একটি অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন। তার এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় বিপুলাসার আহম্মদ উল্যাহ উচ্চ বিদ্যালয়। এ কাজে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন তার মাতা আলহাজ্ব শোকরেন্নেছা। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তার ভাই আলহাজ্ব আজিজ উল্যাহ, আলহাজ্ব অহিদ উল্যাহ এবং বাবু হেলাল চন্দ্র বসুসহ আরো অনেকে। ১৯৬৪ সালে জাতীয় সংসদ ভবনের নকশা প্রস্তুতকারী আমেরিকান স্থপতি লুই কানকে দিয়ে আহম্মদ উল্যাহ অত্র বিদ্যালয়ের নকশা প্রণয়ন করান। তিনি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করে বিদ্যালয় পরিচালনার ভার জাওড়া নিবাসী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আ,ম,ক, বেলায়েত হোসেনের উপর অর্পণ করেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিদ্যালয়টি ১৯৬৫ সনে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৬৭ হতে মাধ্যমিক সনদ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার পর থেকে অদ্যাবধি সুনামের সাথে সন্তোষজনক ফলাফল করে আসছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্রমোন্নতি ও উত্তরোত্তর পরিসর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যালয়ের মূল দ্বিতল ভবন, অডিটোরিয়াম ছাড়া আরও ২টি ত্রিতল ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সুরম্য অট্টালিকার সামনে একটি বিশাল খেলার মাঠ ও একটি দীঘি মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টির অবকাঠামো ও পরিবেশ যেকোন পথিকের নজর কাড়ে। শুধু বাহ্যিক পরিবেশই নয় বরং বিদ্যালয়টি এস.এস.সি ও জে.এস.সি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার মোট জি.পি.এ-৫ প্রাপ্ত সংখ্যার অর্ধেক এবং জুনিয়র বৃত্তি উপজেলা কোটার অর্ধেক এ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীগণ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। খেলাধুলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে চলেছে। এ বিদ্যালয়ে আছে একটি চৌকস স্কাউট ও গার্লস গাইড দল। বিদ্যালয়ের এ ঐতিহ্যের পেছনে রয়েছে অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর প্রচেষ্টা, পরিচালনা পরিষদ ও এলাকার অভিভাবকদের সহযোগিতা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কৃতিত্বের সহিত দায়িত্ব পালন করছে অত্র বিদ্যালয়ের বহু ছাত্র-ছাত্রী। তাদেরই একজন মো. সাহাব উল্যাহ (বর্তমানে সচিব) কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) থাকা অবস্থায় তার প্রচেষ্টায় ১৯৯৫ সালে অত্র বিদ্যালয়ে এস.এস.সি পরীক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ মজুমদারের পরিচালনায় ২৪ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকার স্নেহের পরশে প্রায় ২ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত আছে। মেহেদি হাসান শোভন ১০ম শ্রেণী, রোল নং-২ প্রায় অর্ধ শতাব্দী ধরে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে অনেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি সামনের দিকে আরো সুনামের সহিত ভালো ফলাফলে অবদান রাখবে এটা আমার প্রত্যাশা। আমি আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। তানভিরুল হাসান ৯ম শ্রেণী, রোল নং-১ বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণ করা খুবই জরুরি। আমি চাই আমাদের বিদ্যালয়ে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হোক। যার মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবাগুলো পেতে সহজ হবে। আমার বিদ্যালয়টি ভালো ফলাফলের ধারা অব্যাহত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমি চাই বিদ্যালয়টি জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মো. আরাফাত হোসেন ৮ম শ্রেণী, রোল নং-১ আমি আমার বিদ্যালয়টি সব দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেখতে চাই। শিক্ষা, বিনোদন, সাহিত্য-সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ সকল দিক থেকে সমভাবে কৃতিত্বের সহিত এগিয়ে যাক এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষার্থীরা অবদান রাখুক এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি এই বিদ্যালয়টিকে কুমিল্লাবাসীর অহংকার হিসেবে দেখতে চাই। আসিফ ইনতেসার ৭ম শ্রেণী, রোল নং-১ ফলাফলের দিক থেকে বিদ্যালয়টি কয়েকবার প্রথম স্থান অধিকার করে উপজেলায় সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থান দখল করেছে। আমরা বিদ্যালয়টিকে সব সময় ভালো ফলাফলের সেরা বিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। সেই সাথে বিদ্যালয়ের সকল ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর প্রভৃতি কর্মকাণ্ড দেখা চাই। শাবনূর আক্তার ৬ষ্ঠ শ্রেণী, রোল নং-১ আমি আমার বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন, ফুল বাগান, পাঠাগার ও বিজ্ঞানাগারের আরো উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে একটি আদর্শ বিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। সেই সাথে বিদ্যালয়টি এই অঞ্চলের সেরা স্কুল হিসেবে গড়ে উঠুক। যাতে করে আমরা আমাদের এই স্কুলকে নিয়ে গর্ব করতে পারি। আব্দুল লতিফ মজুমদার প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত। বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যার তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অপ্রতুল। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন ও সরকারি সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়টি কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে। বিদ্যালয়টির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে একাডেমীক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সাধারণ জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।