এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:১৩
জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র
অলোক কুমার মিস্ত্রী
বন্যপ্রাণী গবেষক
(প্রভাষক) জীববিজ্ঞান বিভাগ
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রাণিকোষ ঃ গঠনবৈশিষ্ট্য ও কাজ ( Animal Cell ঃ Structure & Function)- বিষয়ের ওপর রচনামূলক প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করব, যা ফাইনাল ২০১৩ সালের (বোর্ড) পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ঃ কোষ পর্দার গঠনে ফ্লুইড মোজাইক মডেল বর্ণনা কর।
উত্তর ঃ ফ্লুইড মোজাইক মডেল ঃ
প্লাজমামেমব্রেনের গঠন সংক্রান্ত ব্যাখ্যা প্রদান করতে গিয়ে বিজ্ঞানী সিঙ্গার ও নিকলসন কোষের যে মডেল প্রস্তাব করেন তা ফ্লুইড মোজাইক মডেল নামে পরিচিত। এটি সর্বজনগ্রাহ্য আধুনিক মডেল নামে পরিচিত।
বিজ্ঞানীদ্বয়ের বর্ণানা অনুসারে, প্লাজমামেমব্রেন ফসফোলিপিড ও প্রোটিন অণু নিয়ে গঠিত। আর এই ফসফোলিপিড সাধারণতঃ দুটি স্তরে বিন্যস্ত থাকে। প্রত্যেক স্তরের ফসফোলিপিড অণুগুলো দুইপ্রান্ত বিশিষ্ট। একটি প্রান্তকে পানিগ্রাহী মস্তক ( hydrophilic head) এবং অন্যটিকে পানিবিদ্বেষী লেজ
( hydrophobic tail) বলে। ফসফোলিপিড অণুগুলোর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টরল অণু । ফসফোলিপিড ও কোলেস্টরল অণুর মধ্যে ভাসমান থাকে স্ফীতকায় অনেক প্রোটিন অণু। অণুগুলো থাকে অনিয়ত বিন্যস্ত। বিন্যাসের ভিত্তিতে প্রোটিন অণু তিন ধরনের হয়ে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ঃ
প্রান্তীয় প্রোটিন - এগুলো ফসফোলিপিড স্তরের বহিঃ বা অন্তঃতল সংলগ্ন প্রোটিন ।
অন্তর্নিহিত প্রোটিন - এগুলো ফসফোলিপিড স্তরের আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রবিষ্ট থাকে এবং
আন্তঃ ঝিল্লি প্রোটিন - এগুলো ফসফোলিপিডের দুই স্তর জুড়েই থাকে।
ফসফোলিপিড অণুগুলো সব সময় সচল থাকে, কাঁপে এবং পরস্পরের সঙ্গে ঠোকাঠুকি করে লাফিয়ে ওঠে। তারপর স্তরের মধ্যেই স্থান পরিবর্তন করে। ঝিল্লিকে তখন তরল পদার্থের মতো মনে হয়। অন্যদিকে, ঝিল্লিকে পৃষ্টতল থেকে দেখলে প্রোটিন অণুগুলোকে মোজাইকের মতো দেখায়। আর এ অবস্থাকে এক কথায় বোঝানোর জন্য ঝিল্লির মডেলের নাম হয়েছে ফ্লুইড মোজাইক মডেল। অনেক ফসফোলিপিড অণু এবং অধিকাংশ প্রোটিন অণুর সংঙ্গে ক্ষুদ্র কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খল যুক্ত থাকে। তখন এগুলোকে যথাক্রমে গ্লাইকোলিপিড ও গ্লাইকোপ্রোটিন বলে। কার্বোহাইড্রেট শৃঙ্খলগুলো সব সময় ঝিল্লির বর্হিতলে অবস্থান করে মাত্র।