‘মঙ্গল করিবার শক্তিই ধন বিলাস ধন নহে।’
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:১৪
অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির উপযোগী আজকের
ভাব-সমপ্রসারণ করেছেন প্রভাষক
মোঃ আব্দুর রহিম
মানুষ মঙ্গলের জন্য একে অপরের প্রতি যে ইতিবাচক সহযোগিতা প্রদান করে, তাই হচ্ছে সত্যিকারের ধন। অপর দিকে বিলাসিতায় যে তার সম্পদ ব্যয় করে তা সত্যিকার অর্থে সমাজে ধন হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায় না।
পৃথিবীর সকল রূপ-রস, সৃষ্টি-সৌন্দর্যের সুষ্ঠু ব্যবহারের প্রাণশক্তি মানবকুল। পৃথিবীর আলো-বাতাস, গ্রহ-উপগ্রহ, প্রকৃতি-পরিবেশ, পাহাড়-পর্বত, গাছ-পালা, প্রাণিবৈচিত্র সকল কিছুই মানব জাতির কল্যাণে সৃষ্ট। অর্থাত্ মানব কল্যাণে সৃষ্ট সকল কিছুই পৃথিবীর ধন-সম্পদ। এই ধন-সম্পদ যখন কোন মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে ব্যবহার করেন এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি মোকাবেলায় অন্যের কল্যাণে নিবেদন করেন, তখনই ওই ব্যক্তি, সমাজের নিবেদিত মানুষ হিসাবে পরিচিত হন। ঐশ্চর্য বা ধন-সম্পদের অহমিকায় যে বা যারা বিলাসিতা দেখায়, তাদের ধন সম্পদের প্রদর্শনী ঘটে বটে। কিন্তু ওই সম্পদ কোন মানুষের কল্যাণে আসে না। এক কথায়, অঢেল সম্পত্তির মালিক যখন তার প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ধন-সম্পদ, ঐশ্চর্য মানবের কল্যাণে ব্যয় করেন, তখন তিনি পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসাবে প্রতিষ্ঠা পান। একজন মানুষকে পরিচ্ছন্নভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু সম্পদের প্রয়োজন রয়েছে, তা তিনি ব্যবহার করার পর, যখন বাকী ধন-সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেন; তখনই তিনি পরিবার, ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের শক্তিশালী মানবপ্রাণ হিসাবে খ্যাতি অর্জন করে। স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানবকুল একে অন্যের নিকট দায়বদ্ধ। এ দায়বদ্ধতায় যে ব্যক্তি মানুষ অন্যের কল্যাণে নিজের ধন-সম্পদ ঐশ্চর্য, শক্তি সামর্থ নিস্বার্থ ভাবে ব্যয় করেন। তিনিই সমাজের নিবেদিত প্রাণ এবং মানব সমাজের শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী এবং শক্তিশালী মহামানব।
এক কথায়, মানবের কল্যাণে যে ব্যক্তি নিজেকে নিবেদন করতে পারেন তিনিই তাঁর প্রকৃত শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন। এই শক্তিই মানবকুলের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ। বিলাসিতার জন্য যে ধন-সম্পদ ব্যবহার হয়, তা কোন মানবের শক্তি হতে পারে না। মানবকুলের মূল শক্তি অন্যের কল্যানের জন্য ধন-সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার। গুণিদের মতে, ‘মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদন করা ভালো, তবে নিজে পথে বসে অন্যের কল্যাণ করা বোকামীর শামিল।’