রেলগাড়ি চলাচলের কথা

বাংলার মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণির কথা বলতে গেলে কয়েকটি বিষয় না বলে পারা যায় না। এই বিষয়গুলোর মধ্যে কৃষির বিকাশ একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। তবে তার আগে বলা দরকার এদেশে রেললাইন স্থাপন এবং রেলগাড়ি চলাচলের কথা। রেলপথ প্রথম বসানো হয়েছিল ব্রিটেনে, ১৮২৫ সালে। সেখানে বাষ্পীয় ইঞ্জিন দিয়ে প্রথম রেলগাড়ি চলেছিল স্টকটন থেকে ভারটিংটন পর্যন্ত। তবে প্রথম দিকে রেল চালানো হতো খনি থেকে কয়লা নিয়ে যাওয়ার জন্য। আসল যাত্রীবাহী রেল প্রথম চালু হয় ১৮৩৬ সালে। তখন এ গাড়ি চলতো লন্ডন থেকে গ্রিনিচ পর্যন্ত। বাংলায় প্রথম রেলগাড়ি চলাচল শুরু হয়েছিল ১৮৫৪ সালের ১১ আগস্ট। এটি ছিল যাত্রীবাহী রেলগাড়ি। এদিন গাড়ি চলেছিল নিয়মিত চলাচল শুরু করার প্রস্তুতি হিসেবে। গাড়িটি গিয়েছিল হাওড়া থেকে চুঁচুড়া পর্যন্ত। নিয়মিত রেল চলাচল শুরু হয় আরো চারদিন পর, ১৫ আগস্ট। তখন রেলগাড়ি ছিল বেসরকারি একটি কোম্পানির হাতে। কোম্পানির নাম ছিল ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কোম্পানি। তবে এই উপমহাদেশে রেলরাস্তা খোলা হয়েছিল প্রথম বোম্বাইয়ে। নিয়মিত প্রথম রেলগাড়ি চলা শুরু হয় বোম্বাই থেকে থানা পর্যন্ত, ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল। তবে ঐ রেললাইন দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম রেলগাড়ি চালানো হয় ১৮৫২ সালের ১৪ নভেম্বর। বাংলায় তখনকার পূর্ববঙ্গের দিকে রেললাইন বসানো হয় হাওড়ায় রেললাইন বসানোর কয়েক বছর পরে। এই লাইনটি শুরু হয়েছিল কলকাতার শিয়ালদহ থেকে। শিয়ালদহ থেকে লাইন গিয়েছিল দুটি। একটি কলকাতা থেকে ক্যানিং পর্যন্ত। অপর লাইনটি দর্শনা হয়ে গিয়েছিল কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত। এ দুটি চালু হয়েছিল ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর। তবে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেল চলাচল শুরু হয় ১৮৬৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি। গড়াই সেতু তৈরি হবার পর রেললাইনটি চলে আসে কুমারখালী ও পাংশা হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত। গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রেল চলাচল শুরু হয় ১৮৬৭ সালে। এই রেললাইন বসিয়েছিল ইরেজ সরকার। তাই এর নাম ছিল তখন ‘ইস্টার্ন বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে’ (E.B.S.R.)। রেলপথ বসানোর প্রায় একই সময়ে বাংলায় পাটকলও বসানো হয়। ১৮৫৫ সালে শ্রীরামপুরের কাছে রিষড়ায় বসানো হয়েছিল প্রথম পাটকল। জর্জ অকল্যান্ড এই পাটকলটি নিয়ে এসেছিলেন ইংল্যান্ডের ডান্ডি থেকে। এরপর আরও পাটকল চালু হয় কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ইত্যাদি এলাকায়। এর কারণ ছিল—কলকাতা বন্দর দিয়েই পাটকলে তৈরি জিনিস রপ্তানি করা হতো। প্রথম পাটকলটি বসানোর পর মাত্র ২০ বছরের মধ্যে পাট শিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটে। অনেক নতুন কোম্পানি গঠিত হয় পাট ব্যবসার জন্য। বিভিন্ন পাটজাত পণ্যের রপ্তানিও বেড়ে যায়। এই সময়ে তখনকার পূর্ববাংলার সিরাজগঞ্জে স্থাপিত হয় একটি পাটকল।