খাতুনগঞ্জে ভোগ্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম ক্রমশ বাড়ছে। গত সপ্তাহের চেয়ে গতকাল শনিবার কয়েকটি পণ্যের দাম কেজিতে ২/৩ টাকা করে বেড়েছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। বিশেষ করে পিঁয়াজ, রসুন, ছোলা ও চিনির বাজারে পরিবর্তন ঘটেছে। তবে সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম আগের চেয়ে মণে ১০০/১৫০ টাকা কম বলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন। কয়েকজন পাইকারি বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন, রমজানে অতি চাহিদাপূর্ণ কয়েকটি পণ্যের বাজারে সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। আজ রবিবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারেও এখনো পর্যন্ত পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রচুর পণ্য আমদানিও হয়েছে। গুদাম ভর্তি ভোগ্যপণ্য। ফলে দাম বাড়ার কোনো যুক্তি নেই। রমজান মাসে ছোলা, মশুর ডাল, মটর, সয়াবিন, চিনির চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। গতকাল শনিবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজানের পণ্যে বেচাকেনা হচ্ছে। খুচরা পাইকাররা পণ্য কিনে সড়ক ও নৌপথে নিতে শুরু করেছে। আগামী এক সপ্তাহ পাইকারি বাজার বেশ ব্যস্ত থাকবে।

এদিকে আজ রবিবার থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। রমজান মাসব্যাপী ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাজার মনিটরিং কাজে নিয়োজিত থাকবেন। তারা পাইকারি ও খুচরা বাজার তদারকি করবেন।

দেখা গেছে পাইকারি বিক্রেতাদের শতশত দোকান ভর্তি পিঁয়াজ, রসুন ও আদা। বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। ভ্যান, ঠেলাগাড়ী ও ট্রাকে করে পণ্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গতকাল পাইকারি দরে পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ভারতীয় কেজি ২০/২১ টাকা, দেশীয় ২৮ টাকা। রসুন চায়না কেজি ৯৫ টাকা , দেশি ৫০/৬০ টাকা ও চায়না আদা ৭৫ টাকা কেজি। এ ব্যাপারে হামিদুল্লাহ খান মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস বলেন, পিঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২/৩ টাকা হারে বেড়েছে। প্রথম রমজান পর্যন্ত বাজার দর বর্তমান অবস্থায় থাকলে খুব বেশি দাম বাড়বে না।’ তবে খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে পিঁয়াজ কেজি ২৫ টাকা, রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানে অতিচাহিদাপূর্ণ পণ্য ছোলা। ছোলা বাজার নিয়ে মানুষের   মধ্যে বেশি কৌতুহল থাকে। পাইকারি বাজারে ছোলার দাম সামান্য বেড়েছে। ইতিমধ্যে মণে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে বলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। পাইকারি বিক্রেতা মো. ইউসুফ জানান, বাজারে কয়েক ক্যাটাগরির ছোলা বিক্রি হচ্ছে। গতকাল ছোলা প্রতি মণ ২৩৫০ থেকে ২৫৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। মশুর ডালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। রমজানে মশুর ডালের চাহিদা কম থাকে। ফলে মশুর ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ১৫৩০ টাকায়। তবে মটরের দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। প্রতিকেজি মটর ২৮/২৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

চিনির বাজার নিয়ে সিন্ডিকেট চক্র পাঁয়তারা করছে বলে পাইকারি বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন। তারপরেও গতকাল প্রতিমণ চিনি ১৭৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ এক মাস আগে ১৭১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাজার নিয়ে সরকারি কঠোর নজরধারী রয়েছে। চট্টগ্রামে খাতুনগঞ্জ কেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী চিনি সিন্ডিকেট রয়েছে। একটি কোম্পানির চিনিই চট্টগ্রামের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে বলে বিক্রেতাদের অভিযোগ। তবে খুচরা বাজারে চিনি কেজি ৫৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সয়াবিন তেলের বাজারও বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। এখনো পাইকারি বাজারে সয়াবিন ও পামওয়েলে দাম বাড়েনি। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে সয়াবিন প্রতিমণ ২৮৩০ টাকা ও পামওয়েল প্রতিমণ ১৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাইকারি বিক্রেতা আলমগীর পারভেজ জানান, সয়াবিনের দাম আরো কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও সয়াবিনের দাম কম। ফলে সামনে দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই’।

টিসিবির উদ্যোগে ডিলারদের মাধ্যমে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি চলছে। ডিলাররা পণ্য নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ তুলেনি। টিসিবি চট্টগ্রাম কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন,  ডিলাররা চিনি কেজি ৪৭ টাকা, মশুরডাল ৪৪ টাকা, সয়াবিন ৮৫ টাকা ও ছোলা ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছে। আগামী ২ এপ্রিল থেকে খেজুর সরবরাহ দেওয়া হবে। দাম নির্ধারণ করা হয়েছে কেজি ১৩৫ টাকা। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১০টি ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে।’