শেষ রাউন্ডের অপেক্ষায় জাতীয় লিগ

শেষ দিনে অতিলৌকিক পারফরমনন্স করতে পারলে এক রাউন্ড বাকী থাকতেই ১৪তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের শিরোপা নিশ্চিত করতে পারত খুলনা। কিন্তু সেটা হয়নি। গতকাল জাতীয় লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের শেষ দিনের সকালে ৫ উইকেটে খুলনাকে এবারের লিগে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ উপহার দিয়েছে ঢাকা বিভাগ। এই পরাজয়ের ফলে খুলনার এখন পয়েন্ট ৩৪ এবং ম্যাচ জেতা ঢাকা বিভাগের পয়েন্ট ৩০। চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইটা এখন শেষ রাউন্ডেই গড়াচ্ছে। শেষ রাউন্ডে ঢাকা বিভাগের খেলা এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ না দেখা বরিশালের বিপক্ষে। অন্যদিকে প্রথম পাচ রাউন্ডে টানা জয় পাওয়া খুলনার খেলা পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা রাজশাহীর বিপক্ষে। তৃতীয় দিনেই রংপুরের বিপক্ষে ৯ উইকেটে জয় পেয়েছিল ঢাকা মেট্রো। সে জয়-পরাজয় চ্যাম্পিয়নশিপ লড়াইয়ে প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু কাল শেষ দিনে সিলেটের বিপক্ষে রাজশাহীর ১০ উইকেটের জয় আরও জমিয়ে তুলেছে খেলা। কাগজে কলমে শিরোপার লড়াইয়ে এখনও টিকে রইল তারা। ওদিকে শেষ দিনে আরেক অগুরুত্বপূর্ন ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে এবারের লিগের মাত্র দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেল চট্টগ্রাম। খুলনার বিপক্ষে ২১১ রানের লক্ষে শেষ ইনিংস খেলতে নামা ঢাকার কাল জয়ের জন্য দরকার ছিল আর মাত্র ৯০ রানের; আগের দিনই ৩ উইকেটে ১২১ রান তুলে ফেলেছিল তারা। নাদিফ চৌধুরীর অপরাজিত ফিফটিতে সে রান পার হতে আর বেগ পেতে হয়নি ঢাকা বিভাগকে। সকাল আর দুটি উইকেট হারিয়ে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় ঢাকা বিভাগ। খুলনার রবিউল ইসলাম ৪ উইকেট তুলেও জয়ী দলের অংশ হতে পারেননি। দিনের আরেক গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে সিলেটের বিপক্ষে ১০ উইকেটের অনায়াস জয় পায় রাজশাহী। আগের দিনের ৮ উইকেটে ১৮৮ রান নিয়ে সকালে খেলতে নেমেছিল সিলেট। কিন্তু সকালে আর মাত্র ১০.৫ ওভার খেলে ২০২ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। ফলে রাজশাহীর সামনে মাত্র ৩১ রানের জয়ের লক্ষ দাড়ায়। পয়েন্ট তালিকার হিসাবে বরিশাল-চট্টগ্রাম ম্যাচের আর তেমন কোনো গুরুত্ব ছিল না। তারপরও বরিশালের সামনে সুযোগ ছিল টানা হার থেকে ঘুরে দাড়ানোর। কিন্তু ৩ উইকেটে ৯৭ রান নিয়ে খেলতে নামা বরিশাল নূর হোসেনের ঘূর্নি জাদুতে শেষ দিন সকালেই ১৬৩ রানে অলআউট হয়। নূর নেন ২৯ রানে ৫ উইকেট। সংক্ষিপ্ত লক্ষ পাড়ি দিতে চট্টগ্রাম মাত্র ২টি উইকেট হারায়। সংক্ষিপ্ত স্কোর খুলনা-ঢাকা বিভাগ খুলনা: ১ম ইনিংস ১৭১/১০ এবং ২য় ইনিংস ২৬৮/১০। ঢাকা বিভাগ: ১ম ইনিংস ২২৯/১০ এবং দ্বিতীয় ইনিংস ২১৬/৫ (রনি ৫৭, নাদিফ ৫৩*, নাজমুল ২২*; রবিউল ২/৭৩)। ফল: ঢাকা বিভাগ ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোশাররফ হোসেন (ঢাকা)। সিলেট-রাজশাহী সিলেট: ১ম ইনিংস ২১৮/১০ এবং ২য় ইনিংস ২০২/১০। রাজশাহী: ১ম ইনিংস ৩৯০/১০ এবং ২য় ইনিংস ৩১/০ (সাব্বির ২৫*, মাইশিকুর ৬*)। ফল: রাজশাহী ১০ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাব্বির রুম্মন (রাজশাহী)। বরিশাল-চট্টগ্রাম বরিশাল: ১ম ইনিংস ২০৪/১০ এবং ২য় ইনিংস ১৬৩/১০। চট্টগ্রাম: ১ম ইনিংস ২৯৬/১০ এবং ২য় ইনিংস ৭২/২ (ইরফান ৩৬, ইয়াসির ১১*, নাজিম ১৩*)। ফল: চট্টগ্রাম ২ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব ম্যাচ: ফয়সাল হোসেন (চট্টগ্রাম)।