কঠিন বাস্তবতা টের পেয়ে
ঢাকায় ফিরলো হকি দল
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৩৫
কথা ছিল দিল্লীর নেহরু কাপ এবং লালবাহাদুর শাস্ত্রী টুর্নামেন্টে খেলে ঢাকায় ফিরবে বাংলাদেশ হকি দল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে দিল্লীতেই অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড হকির দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ দল পরিকল্পনা করে সেখানে গেলেও একটি টুর্নামেন্টে না খেলেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়। তবে এরপরও ওয়ার্ল্ড হকিতে খেলার আগেই কঠিন বাস্তবতা টের পেয়েছে বাংলাদেশ দল।
প্রথমে জানা গিয়েছিল আন্তর্জাতিক হকি কর্তৃপক্ষের অনুমতি না থাকায় লাল বাহাদুর শাস্ত্রী টুর্নামেন্টে খেলতে পারেনি বাংলাদেশ দল। কিন্তু এখন দল ফেরার পর জানা গেল হকি ইন্ডিয়ার আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বই এর নেপথ্য কারণ। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়রা নেহরু কাপের পর একাধিক ট্রেনে চেপে কলকাতায় এসে জড়ো হয় এবং রবিবার রাতে ঢাকায় ফিরে আসে। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হকি টুর্নামেন্টের ফিকশ্চারও বাংলাদেশ দল হাতে পেয়েছিল দিল্লীতে থাকাকালিন সময়।
একটি টুর্নামেন্ট কম খেলেই কঠিন অভিজ্ঞতা নিয়ে ঢাকায় ফিরলো জাতীয় হকি দল। খেলোয়াড়রাও বুঝতে পেরেছেন ওয়ার্ল্ড হকির দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশকে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে অপর দল ভারতের। ওয়ার্ল্ড হকির গ্রুপে বাংলাদেশের সবক’টি প্রতিপক্ষ চুড়ান্ত না হলেও ভারত থাকছে সেটা নিশ্চিত। দিল্লীতে গিয়ে নেহরু কাপে ভারতের হকির চেহারাটা দেখে এসেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। টুর্নামেন্টে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছেন জিমি, মিমো, নান্নু, জাহিদরা। ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ছেলেরা ম্যাচ জেতার স্বপ্ন দেখেন না। তবে কতটা ভালো খেলে হারের ব্যবধানটা সম্মানজনক স্থানে রাখা যায় সেটাই তাদের ভাবনা। কারণ মাঠের চিত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের হকির পার্থক্য অনেক বেশি। ভারতের মতো শক্তিশালি দলের বিরুদ্ধে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারলে ভুলভ্রান্তিগুলো চোখে পড়তো, প্রতিপক্ষের দুর্বলতাগুলো বের করা যেতো, আর তাতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্সে ক্রমোন্নতির রেখা উন্নতি হতে পারতো।
কিন্তু চাইলেই তো ম্যাচ খেলা যায় না। এয়ার ইন্ডিয়া হকি দলের কোচ সাবেক তারকা খেলোয়াড় ধনরাজ পিল্লাই। হারুন এবং পিল্লাই দু’জনেই এক সাথে ঢাকায় লিগে খেলেছেন আবাহনীর জার্সি গায়ে। পুরোন বন্ধত্বের সুত্র ধরে নেহরু কাপের পর এয়ার ইন্ডিয়া হকি দলের সাথে অনুশীলন ম্যাচের আয়োজন করেন মাহবুব হারুন। যদিও তার দল সেই ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে হেরেছে। তারপরও এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা খেলোয়াড়দের জানিয়ে দিয়েছে অনুশীলনটা আরো কঠিন হতে হবে। কোচ মাহবুব হারুন গতকাল এ ব্যাপারে বলেন, ‘খেলোয়াড়রা আইডিয়া পেয়েছে কিভাবে খেলতে হবে।’
লালবাহাদুর শাস্ত্রী হকি টুর্নামেন্ট সম্পর্কে জানা গেল হকি ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরে নিজেদের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোন্দল থাকায় বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান খেলতে পারেনি। আরো বেশি অনুশীলন ম্যাচ খেলার সুযোগটা নিতে পারেনি বাংলাদেশ। কারণ দীর্ঘ সময়ের জন্য আবাসন ব্যবস্থাটা নিজেদের উদ্যোগে করার মতো সামর্থ্য ছিল না বাংলাদেশের।
আপাতত জাতীয় দলের অনুশীলন হচ্ছে না। জানুয়ারিতে শুরু হবে অনুশীলন। এর মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য বিজয় দিবস এবং অফিস হকি লিগে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষন করা হবে।