শ্রীলঙ্কায় জঙ্গিবিরোধী যৌথ অভিযান, ১৫ লাশ উদ্ধার

শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলে তল্লাশি অভিযানে কোনঠাসা হয়ে পড়া তিন আত্মঘাতী হামলাকারী নিজেদের উড়িয়ে দিলে ছয় শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার রাতে কালমুনাই শহরে উগ্রবাদী ইসলামপন্থীদের গোপন আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযানের সময়ে এই ঘটনা ঘটে।

২১ এপ্রিল খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে উদযাপনকালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ও তার আশপাশের তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলসহ আটটি স্থানে হামলা চালানো হয়। এতে ২৫৩ জন নিহত হয়।  হামলার পর সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি জোরালো করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেনা সদস্যদের সহায়তায় পুলিশের চালানো যৌথ অভিযানে বন্দুকধারীদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা গুলিবিনিময়ের পর শনিবার ভোরে বাড়ির অভ্যন্তরে তল্লাশি অভিযানের সময়ে এসব মৃতদেহ পাওয়া যায়। ওই হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে আইএস ঘনিষ্ঠ ১৪০ জনকে খুঁজছে পুলিশ। ইতিমধ্যে ৭০ জন আটক হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, প্রেসিডেন্টের আহ্বান সত্ত্বেও দেশটির পুলিশ প্রধান জয়াসুন্দরা পদত্যাগে রাজি হননি বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে লংকান প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে মতবিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হলো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই গোলাগুলির কয়েক ঘণ্টা আগে অপর একটি বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। তাদরে ধারণা এই বাড়ি থেকেই ইস্টার সানডে’র হামলার দায় স্বীকার করে প্রচারিত ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল। পুলিশ বলেছে, ভিডিও রেকর্ড করতে গ্রুপটির ব্যবহূত ব্যাকড্রপটি খুঁজে পেয়েছি আমরা। দেশটির টেলিভিশনে পুলিশের প্রচারিত ভিডিওতে আইএসের পোশাক ও পতাকা দেখিয়ে ওই বাড়ি থেকে এসব উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। এছাড়াও ওই বাড়ি থেকে ১৫০ স্টিক বিস্ফোরক এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম হিসেবে এক লাখ বল বিয়ারিং উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে। এদিকে দেশটিতে আরও সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে। জনসাধারণকে মসজিদ-গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় আপাতত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে লঙ্কান কর্তৃপক্ষ।