পার্বত্য শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অবশ্যই হবে

জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি অবশ্যই সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়নের পথে যে সমস্যা তা সমাধান করছে সরকার। ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। ‘চুক্তির এদিক ওদিক’ হবে না। কারণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে গেছে। এর ব্যত্যয় ঘটবে না। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শান্তিচুক্তির ১৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংলাপ অনুষ্ঠানে সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আদিবাসী জনগোষ্ঠী বিষয়ক সংসদীয় ককাস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি না এলে দেশেও শান্তি আসবে না। আমরা পাহাড়ি এবং বাঙালিরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। সবাই একসাথে আছি। এরপরও কিসের জন্য যেন এটি হয়ে উঠছে না। সেটি আমার কাছে ধাঁধা। পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তবে এবার খুব দ্রুতই শান্তিচুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে। এ বিশ্বাস এবং আস্থা রাখবেন। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, শান্তিচুক্তি কেন বাস্তবায়ন হয় না, এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মনে প্রশ্ন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ চুক্তির বাস্তবায়নের সমস্যা সম্পর্কে এবং চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ার সমস্যা সম্পর্কে জানেন। সংসদের গত অধিবেশনে চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়নে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আগামী সংসদ অধিবেশনে করণীয় বিষয়গুলো পাস করা হবে বলে আশা করছি।’ শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ১৫ বছর ধরে যে সমস্যা জট বেঁধে আছে তা একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। আলাপ-আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। এক বছরের মধ্যেই শান্তিচুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী অধিবেশনের সভাপতির বক্তব্যে আদিবাসী জনগোষ্ঠী বিষয়ক সংসদীয় ককাস’র আহবায়ক রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, গত কয়েক বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ ও সরকারের মধ্যে কিছুটা হলেও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার সে দূরত্ব দূর করার চেষ্টা করছে। এ সংলাপ আমাদের আস্থার সংকট দূর করতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জমি অন্যরা বরাদ্দ নিয়েছে। ডেসটিনিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির নামে বরাদ্দকৃত জমি ফিরিয়ে নিতে হবে। পার্বত্য ভূমি আইন সংশোধন করা জরুরি। সংসদের আগামী অধিবেশনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে তিনি সংসদ উপনেতাকে আহবান জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যতিন্দ্রলাল ত্রিপুরা এমপি, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক নিল ওয়াকার, নাবা বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, জান্নাত-ই-ফেরদৌসী।