জামায়াতের হরতালে সংঘর্ষ হামলা ভাংচুর অগ্নিসংযোগ
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৯
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও যানবাহনে অগ্নি-সংযোগের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের আটক শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দাবি এবং রাজধানীসহ সারাদেশে রবিবার আহুত সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে এই হরতাল আহবান করে। বিএনপিসহ সমমনা কয়েকটি দল এই হরতালের প্রতি সমর্থন জানায়। কিন্তু বিএনপিসহ ওইসব দলের কোন নেতা-কর্মী হরতালের সময় মাঠে নামেনি। নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় গতকাল সারাদিন ছিল তালাবদ্ধ। হরতাল চলাকালে মহানগরীর মিরপুর, খিলক্ষেত, বনানী, পল্লবী, যাত্রাবাড়ী, মুগদা ও আজিমপুরসহ কয়েকটি স্থানে চোরাগোপ্তা হামলা, যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। খিলক্ষেত এলাকায় মার্কিন দূতাবাসের একটি গাড়িতেও পিকেটাররা হামলা চালায়। নগরীর কয়েকটি স্থানে টায়ারে আগুন ধরিয়ে ভীতির সঞ্চার করা হয়। মগবাজারের একটি হাসপাতালে পিকেটাররা হামলা চালিয়ে কাঁচ ভাঙচুর করে। হরতালের সময় রাজধানীর গাবতলী থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। তবে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে যায়। বিমান, ট্রেন, ও লঞ্চ চলাচল ছিলো স্বাভাবিক। রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকলেও অফিস আদালতে স্বাভাবিক কাজকর্ম হয়েছে। লেনদেন হয়েছে ব্যাংকেও। সচিবালয়েও অন্য দিনের মত কাজ হয়। হরতালকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ছিলো কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হরতালের পক্ষে পিকেটিং, যানবাহনে হামলা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নের অভিযোগে রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৬৯ জনকে আটক করে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০ জন, বরিশালে ১৮ জন, খুলনায় ১৭ জন, রাজশাহীতে ১৪ জন এবং সিলেটে ৪ জনকে আটক করা হয়। পিকেটাররা নগরীতে অন্তত ৪০টি গাড়ি ভাঙচুর এবং ১৩টি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে। বনানী এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগের কাজে গান পাউডার ব্যবহার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। রাজধানীসহ সারাদেশে হরতালকালে পিকেটারদের হামলায় শতাধিক আহত হয়। এর মধ্যে রাজধানীতে আহতের সংখ্যা ৩০। সারাদেশে বিভিন্ন ঘটনায় আটক হয়েছে ২৩৮ জন।
সকালে সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলকারীরা এসময় ভাঙচুর করে মগবাজারের ইনসাফ বারাকাত কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের সামনের দিকের কাঁচ। ছুঁড়ে মারে ইটপাটকেল। ঘটনার সময় ঐ এলাকায় কোন পুলিশ ছিল না। তবে পুলিশ পৌঁছার আগেই মিছিলকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। সকাল সোয়া দশটার দিকে হরতাল সমর্থনকারীরা মিরপুর-১ নম্বরে আনসার ক্যাম্প বাসস্ট্যান্ডের সামনে নিউ ভিশন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুর করে ৬টি বাস। প্রাণভয়ে বাসথেকে নামতে গিয়ে এসময় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। প্রায় একই সময় জামায়াত-শিবিরকমীরা মিরপুর-১০ সেকশনের ফলপট্টিতে জড়ো হবার চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া করে জামায়াতের এক নেতাকে গ্রেফতার করে। মিরপুর থানা পুলিশ সোমবার রাতে ও গতকাল বিকাল পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাসের আগুন নিভিয়ে ফেলেন এবং কিছুক্ষণ পরই গাড়ি চলাচল শুরু হয়।
সকাল পৌনে ৭টার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা কাওরানবাজার ও ফার্মগেট এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালায় ও পাঁচটি যানবাহন ভাঙচুর করে। তারা একটি বাসেও আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। সকাল ছয়টার দিকে হরতাল সমর্থনকারীরা মিরপুরের কাজীপাড়া সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সকাল পৌনে সাতটার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা অর্তকিতে একটি যাত্রীবাহী বাস ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। মিরপুর-পল্লবী এলাকায় সকাল থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত জামায়াত ও শিবিরকর্মীরা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায়।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা ও জনপথ মোড় সংলগ্ন রাস্তায় (ফ্লাইওভারের নিচে) জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সঙ্গে কয়েক দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় ৬টি গাড়ি। হরতাল সমর্থকদের নিক্ষিপ্ত ইট-পাটকেলের আঘাতে আহন হন পুলিশের দুই সদস্য। কাজলা এলাকায় পিকেটাররা টায়ার জ্বালিয়ে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। প্রায় একই সময়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় হরতাল সমর্থকরা ঝটিকা মিছিল নিয়ে অন্তত পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করে। সেখানেও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে।
ওয়ারি থানা পুলিশ দুপুরে টিকাটুলি এলাকায় হরতালের সমর্থনে বের হওয়া মিছিলে বাধা দিলে তাদের উপর হামলা চালায় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় পুলিশ ৬ জনকে আটক করেন।
সকাল ১০টার দিকে শাহজাহানপুরে জামায়াত-শিবিরের হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এবং কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় পুলিশ ৪ জনকে আটক করে। অপরদিকে মুগদার আইসিডি টার্মিনাল সংলগ্ন স্থানে পুলিশের সাথে পিকেটারদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওই স্থান থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
ভোর থেকেই জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে মগবাজার, মালিবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইল ও খিলগাঁও এলাকায় পুলিশের থেমে থেমে ধাওলা পাল্টা ধাওয়া চলে। তবে দুপুরের পর থেকে এসব এলাকা ছিল নিরুত্তাপ।
সকাল ১০টার দিকে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে বিশ্বরোডে এলাকা থেকে হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবির একটি ঝটিকা মিছিল বের করে খিদমা হাসপাতালের দিতে যেতে থাকলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পিকেটাররা বাস ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। সংর্ঘষের একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে জামায়াত-শিবিরের পিকেটাররা। সংর্ঘষে ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৫ ব্যক্তি আহত হয়। পুলিশ ওই এলাকা থেকে ৩ ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে যায়। লালবাগ এলাকার আজিমপুরে সকাল পৌনে নয়টার দিকে হরতাল সমর্থনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংর্ঘষ হয় । এ সময় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে এবং একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করে। সকাল ৯টার দিকে পিকেটারা খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করে।
সকাল ১০টার দিকে মগবাজার রেল গেট এলাকায় যানবাহন ভাংচুর করার চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ জামায়াত সমর্থিত ইনসাফ ডায়গনষ্টিক সেন্টার থেকে ২ জনকে আটক করে। ভাংচুর করার খবর ছড়িয়ে পড়লে হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। এক পর্যায় তারা উক্ত সেন্টারের সামনে গিয়ে ওষুধ বিক্রির স্থান ভাংচুর করে।
সকাল পৌনে ৭টার দিকে পরিবাগ গলি থেকে ২০/২৫ জামায়াত-শিবির কর্মী হঠাত্ করে রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে তিনটি গাড়ি ভাংচুর করে। তারা এ সময় রূপসী বাংলা হোটেলের সামনের পুলিশ বক্স ভাংচুরের চেষ্টা করে এবং একটি বিলবোর্ডে আগুন দেয়। তবে পুলিশ আসার আগেই ভাংচুরকারীরা পালিয়ে যায় ।
সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর খিলক্ষেত ফ্লাইওভারের নিচে মার্কিন দূতাবাসের একটি গাড়িতে হামলা চালায় হরতালকারীরা। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দর সড়কে নৌবাহিনীর সদর দফতরের ফটকের উল্টো দিকে আগুন দেয়া হয় একটি বাসে। দুপুরে বাংলামোটরে একটি বাস পুড়িয়ে দেয়া হয় হরতালকারীরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জামায়াত-শিবির কর্মীরা শান্তিনগর মোড়ে বাস ভাঙচুর করে। সেখান থেকে তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
বায়তুল মোকাররম এলাকায় সকাল থেকেই পুলিশ ছিল সর্তক অবস্থায়। ফলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা সেখানো জড়ো হতে পারেনি।
সকাল ৮টার দিকে মহাখালী এলাকায় শাহীন কলেজের সামনে বাসে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। তারা একটি যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে পেট্রোল ছুঁড়ে দেয়। পরবর্তীতে হরতাল সমর্থকরা ওই বাসে আগুন ছুঁড়লে বাসের একটি সিটে আগুন লেগে যায়। এ সময় যাত্রীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।
রাজধানীর গুলশান, বনানী , উত্তরা, বাড্ডা, ভাটারা, পুরনো ঢাকার কোতোয়ালী, সদরঘাট, বাংলাবাজার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সূত্রাপুর, চকবাজার, বাবুবাজারসহ আশপাশের এলাকায় হরতালের সমর্থনে কোনো তত্পরতা দেখা করা যায়নি।
গণপিটুনির শিকার দশ জামায়াত কর্মী
রাজধানীর মিরপুরে গাড়ি ও দোকানে ভাঙচুরের সময় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের দশ কর্মীকে গণপিটুনি দিয়েছে জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শতাধিক জামায়াত কর্মী বেলা তিনটার দিকে মিরপুরের কালসী এলাকা থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল বের করে। পূরবী সিনেমা হলের সামনে পৌঁছে তারা একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি তারা রাস্তার পাশে থাকা বেশ কিছু দোকানও ভাঙচুর করে। তারা হরতালের সমর্থনে শ্লোগান দিতে দিতে এগোনোর সময় তারা মিছিল থেকে ইট নিক্ষেপ করে। মিছিলকারীরা ১১ নম্বর বনলতা রেস্তোরাঁর সামনে পৌঁছালে স্থানীয় জনতা ও হরতাল বিরোধীরা তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর চেষ্টা করে জামায়াত কর্মীরা।এ সময় জামায়াত-শিবিরের কয়েকজনকে আটক করে পিটুনি দেয় হরতাল বিরোধী ও সাধারণ জনগণ। পরে পুলিশ এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় এলাকায় একজনের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ আহত ১০ জনসহ জামায়াত-শিবিরের ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। সকালের দিকে মিরপুরের আনসার ক্যাম্প বাসষ্ট্যান্ডের কাছে একটি যাত্রীবাহী বাস ভাংচুর করা হয়।
হরতাল বিরোধী মিছিল
সকাল ১০টার দিকে হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। মিছিলটি কলেজের আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরকারি কবি নজরুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ কলেজের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি বাহাদুর শাহ পার্ক, কোর্ট-কাচারি ও রায় সাহেব বাজার মোড় ঘুরে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ করে।
এছাড়া পৌনে ১১টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে মিছিল লক্ষ্মীবাজার-শাঁখারীবাজার মোড়-জনসন রোড, রায়সাহেব বাজার মোড় ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় গেটে তারা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সোয়া ১১টার দিকে ঘাট শ্রমিকলীগ ও বিআইডব্লিউটিএ’র শ্রমিকলীগ আলাদা ব্যানারে টার্মিনাল এলাকা থেকে মিছিল বের করে বাংলাবাজার, পাটুয়াটুলী, ইসলামপুরসহ সদরঘাটের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
সকাল সাড়ে সাতটায় রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে শুরু করে হরতালের প্রতিবাদে ছাত্রলীগের একটি মিছিল শুক্রাবাদ, কলাবাগান ঘুরে আবার বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভে এসে শেষ হয়।
জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে ভাষানটেক থানা যুবলীগ। এ সময় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে সংগীত পরিবেশন এবং শ্লোগানের মধ্যে দিয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ পালন করা হয়। জামায়াতের ডাকা হরতাল প্রতিহত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ।
বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন গান পাউডার ব্যবহার
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলায় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি ২টি বাসে আগুন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জে মৌচাক ও সানারপাড় এলাকায় ৮/১০টি যানবাহন ভাঙচুর করে হরতাল সমর্থকরা।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভূঁইগড় দেলপাড়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জগামী বন্ধন পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় শিবিরকর্মীরা।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লায় আনন্দ পরিবহনের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় পিকেটাররা। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
ভূঁইগড় এলাকায় বাসে আগুন জ্বালানোর সময় গান পাউডার ব্যবহার করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার শেখ নাজমুল আলম জানান।
পাগলা এলাকায় গাড়িতে আগুন জ্বালানোর সময় পেট্রোল বোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাভার থেকে আমাদের রিপোর্টার জানান, সাভারে ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে হরতাল সমর্থকরা। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। পুলিশ ২ জামায়াত-শিবিরকর্মীকে আটক করেছে।
সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহসড়কের শিমুলতলা নামক স্থানে একটি যাত্রীবাহী বাসে ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভাঙচুর করে শিবিরকর্মীরা। এ সময় তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে ৫ যাত্রী আহত হন। পরে শিবিরকর্মীরা ওই গাড়ীটিতে অগ্নিসংযোগ করে। গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পুলিশ উজ্জল (৩২) ও কালাম (৩০) নামের দুই পিকেটারকে গ্রেফতার করেছে।
গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, ভোরে জামায়াতের কর্মীরা টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টেলিফোন শিল্প সংস্থার সামনে পুরানো টায়ারে আগুন ধরিয়ে পিকেটিং শুরু করে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তারা সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় শিবিরকর্মী টঙ্গী সরকারি কলেজের ছাত্র মো. মুজাহিদ ও মো. আসাদুল্লাহকে আটক করা হয়।
এছাড়া পুলিশ বোর্ডবাজার এলাকা থেকে মাহফিজুর রহমান ও বাবুল হোসেন নামের দুই পিকেটারকে আটক করেছে।
পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমা
রাজশাহী অফিস জানায়, সকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ইটপাটকেল বিনিময়, ককটেল বিস্ফোরণ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফজরের নামাজের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর, কাজলা, কাটাখালি সংলগ্ন দেওয়ানপাড়া এলাকায় হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা লাঠিহাতে রাস্তায় পিকেটিং শুরু করে। কাজলা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিনোদপুর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এ সময় হরতাল সমর্থকরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল ছাড়াও দুইটি শক্তিশালী ককটেল (হাতবোমা) নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় মতিহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে ও পরে আরো ২ জনকে আটক করে। নগরীর অন্যান্য এলাকা থেকে আরো ৬ জনসহ হরতালে মোট ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সানাউল হক বলেন, হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সংবাদপত্রবাহী গাড়ি ভাঙচুর
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, বিক্ষিপ্তভাবে নগরীর কয়েকটি স্থানে গাড়ি ভাঙচুর ছাড়া চট্টগ্রামে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ১০ জামায়াত-শিবিরকর্মীকে আটক করেছে। হরতাল চলাকালে পুলিশের তত্পরতা ছিল নজিরবিহীন। তবে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে কয়েকটি স্থানে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা মিছিল বের করে। কয়েকটি স্থানে সংবাদপত্রবাহী গাড়ি ভাঙচুর চালায় শিবিরকর্মীরা।
হরতালের কারণে কর্মজীবী মানুষের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পুলিশ-পিকেটার সংঘর্ষ
খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় হরতাল চলাকালে পিকেটারদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ জামায়াত শিবেরর ১৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর লায়ন্স স্কুল সংলগ্ন কাশেম সড়কে পিকেটাররা রাস্তা অবরোধ করে দুইটি ইজিবাইকে আগুন ধরাতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে । পিকেটারদের ইটের আঘাতে সোনাডাঙ্গা থানার (এসআই) আলমগীর ও কনস্টেবল মেহেদী হাসান আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিবিরকর্মী আজিম ও জামায়াত কর্মী জাহাঙ্গীরকে আটক করে।
শিবির নেতাকে পিটুনি
বরিশাল অফিস জানায়, হরতালের সমর্থনে নগরীর কাকলীর মোড়, বটতলা, সিএন্ডবি রোড, গড়িয়ার পাড়, বিএম কলেজ ও আবহাওয়া অফিস এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সাতমাইল, বাবুগঞ্জের কলেজ গেট এলাকায় গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা। সকাল ১০টায় পোর্ট রোড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে মহানগর ছাত্রশিবির। এরপূর্বে নগরীর বগুড়া রোড এলাকায় মহানগর জামায়াত বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সকালে বগুড়া রোডে একটি রিক্সা ও দুপুরে সিএন্ডবি রোডের বিট টেকটিক্যাল ইনিস্টিটিউটের সামনে একটি অটো রিক্সা ও মাহেন্দ্র ভাংচুর করে পিকেটাররা। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আহসান হাবীবকে পিকেটিংয়ের সময় পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে ছাত্রলীগ। জেলায় মোট ১৭ জন পিকেটারকে আটক করা হয়েছে।
সিলেট অফিস জানায়, দক্ষিণ সুরমায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা ব্যাপক ভাংচুর করেছে। এসময় পিকেটাররা আগুন দিয়েছে পুলিশের একটি মোটর সাইকেলে। সকাল ৭টার দিকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন, হুমায়ুন রশিদ স্কয়ার ও চন্ডিপুল এলাকায় জামায়াত শিবির কর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, সকালে কুমিল্ল¬া-সিলেট মহাসড়কের বাইপাস সড়কের পীর বাড়ী এলাকায় পুলিশের খাবারবাহী গাড়ীতে পিকেটাররা অতর্কিত হামলা চালায়। পরে গাড়ীটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পুলিশ মঞ্জুরুল করীম জুয়েল, জাহিদুল ইসলাম, রফিকসহ ১১ জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম তালুকদার জানান, সোমবার বিকেলে কসবায় জামায়াত-শিবির ও পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ১২৯ জামায়াত শিবির নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শতাধিক ককটেল
বিস্ফোরণ
দিনাজপুর স্টাফ রিপোর্টার জানান, পিকেটাররা গতকাল মঙ্গলবার ভোরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ করেছে। ২৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ভাংচুর করা হয়েছে হানিফ পরিবহনসহ কয়েকটি যানবাহন। সকালে ছাত্র শিবিরের ২০/৩০ জন কর্মী দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে ভাংচুর করেছে।
টঙ্গী সংবাদদাতা জানান, গতকাল হরতালের সমর্থনে ফজরের নামাজের পরপরই টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মীরা মাঠে নামে। ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে পিকেটিং করে, টায়ারে আগুন ধরিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে মহাসড়ক অবরোধ করে। এসময় প্রায় আধা ঘন্টা ধরে পুলিশের সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশের লাঠি পেটায় কমপক্ষে ১০ শিবির কর্মী আহত হয়। এর আগে পিকেটাররা প্রভাতি বনশ্রী পরিবহনের দুইটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে।
জামায়াতের জেলা আমীর আটক
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হরতালের নামে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলেসুর রহমানকে (৫৪) আটক করেছে পুলিশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, শহরের আরামবাগ এলাকায় একটি পেট্রল পাম্পের সামনে ২টি পণ্যভর্তি ট্রাকসহ কয়েকটি গাড়ি ভাঙ্গচুর করেছে পিকেটাররা। মহাসড়কের উপররাজারামপুর, বিশ্বরোডের মোড়, শিবতলা ও বীর শ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর টোলঘর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে আতংক সৃষ্টি করা হয়। শিবগঞ্জে পুলিশের এসআই নূরে আলম পিকেটারদের ইটের আঘাতে আহত হন। এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থান থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
জিহাদি বইসহ ১২ শিবির কর্মী গ্রেফতার
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, হরতালের সমর্থনে সাতক্ষীরায় পিকেটিং করার সময় পুলিশ পিকেটারদের লক্ষ্য করে ৮/১০ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ বিকাল পর্যন্ত ৪১টি জিহাদি বই উদ্ধারসহ ১২ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর থানায় ৮ জন, দেবহাটা থানায় ৩ জন ও কালিগঞ্জ থানায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
লক্ষ্মীপুরে ভাংচুর, ডিবির ওসিসহ আহত-১০, গ্রেফতার-৫
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কসহ শহরের বাসটার্মিনাল, বিসিক, আলীয়া মাদ্রাসা, মিয়ার রাস্তার মাথা ও দালাল বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে শিবির কর্মীরা গাছের গুড়ি ফেলে ও ট্রায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে। এসময় বাসটার্মিনালে পুলিশ বাধা দিলে শিবিরের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে ডিবির ওসি অহিদুল হক, এক পুলিশ কনস্টেবল ও শিবিরের ৮ জনসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষুব্ধ শিবির কর্মীরা দুইটি সিএনজি ভাংচুর করে। পুলিশ ৫ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
জ্বালানি তেলের গাড়িতে আগুন
সীতাকুন্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, সীতাকুন্ডে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা প্রায় ১৫টি স্পটে টায়ার জালিয়ে পিকেটিং করে ও ২০টি গাড়ি ভাংচুর করে। এসময় দুপুরে পন্থিছিলা এলাকায় টেকনো ফিলিং স্টেশনের একটি জ্বালানি তেলের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ বাড়বকুন্ড এলাকা থেকে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে।
কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, পিকেটাররা জেলার বিভিন্ন স্থানে বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, সিএনজিসহ ছোট-বড় কমপক্ষে ২৪টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের গ্লাস ভাংচুর করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সময় ১৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখার ছাত্রশিবির সভাপতি ফারুক হোসেন মজুমদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, রূপীহার এলাকায় সকাল থেকেই বগুড়া-নাটোর সড়কে অবস্থান নেয় নন্দীগ্রাম উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তারা সড়কের ওপরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করলে বাধা দেয় স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা যুবলীগ নেতা আলী ইমাম ইনোকী ও বোহাইল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শ্যামল চন্দ্র এবং জামায়াতের ৩ কর্মী আহত হন। ঘটনার পর জামায়াত নেতারা পালিয়ে যাওয়ার সময় শাজাহানপুরের কাবাষট্টি গ্রামের লোকজন ধাওয়া দিয়ে ৪ কর্মীকে আটক করে পুলিশ সোপর্দ করে।
এদিকে সকাল ১০টার দিকে বগুড়া শহরতলীর সিলিমপুর এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে একটি রড বোঝাই ট্রাক আটকিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে বগুড়ার শাহাজাহানপুর থানার ফটকি ব্রিজ এলাকায় পিকেটাররা ২টি গাড়ী ভাংচুর করে।
দুপচাঁচিয়ায় সকালে মিছিল করার সময় পুলিশ দুই জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোখলেছার রহমান ও প্রচার সম্পাদক বেলাল হোসেন।
যশোর অফিস জানায়, যশোরে ঢিলেঢালা হরতাল পালিত হয়েছে। ৪ শিবির কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলা থেকে হরতাল চলাকালে পুলিশ-পিকেটার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে।