সোহরাওয়ার্দীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৯
আজ ৫ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের মানসপুত্র, উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। বরেণ্য এ নেতা ১৯৬৩ সালের এই দিনে সুদূর বৈরুতের একটি হোটেল কক্ষে নিঃসঙ্গ অবস্থায় মারা গেছেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের শান্তিপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি মুসলিম লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন। তত্কালীন পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শহীদ সোহরাওয়ার্দী এদেশের জনগণকে সোচ্চার করেছিলেন। তিনি তাদেরকে বিভিন্নভাবে সংগঠিত করেছিলেন। কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই নন, তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কও। তার প্রচেষ্টায় ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর যে বাঙালির জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল তার নেতৃত্বও দিয়েছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ফল ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট এবং অবিস্মরণীয় বিজয়।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এক উজ্জ্বলতর নাম। একজন সফল জননেতা ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে ব্রিটিশ ভারতে তিনি অবহেলিত মুসলমান সমাজের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার আদায়ে নেতৃত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জীবন ও আদর্শ জাতিকে প্রেরণা জোগাবে। উপমহাদেশের মুসলমান সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার সংগ্রামে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। তার দক্ষ পরিচালনায় গণমানুষের সংগঠন আওয়ামী লীগ আরো বিকশিত হয়। তার সুযোগ্য উত্তরসূরী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের বাণী
জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেছেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আদর্শ ছিল গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও সাংবিধানিক ধারাকে চালু রাখা। দেশ ও জাতির কল্যাণে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের মহান পথিকৃত্ ছিলেন এই নেতা। সংগ্রামী চেতনার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশের নাম হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এই মহান নেতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিবৃতিতে বলা হয়, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। আমৃত্যু তিনি এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন।
তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। জাতীয় পার্টি (জেপি) আজ সকাল ৮টায় মরহুমের মাজার জিয়ারত ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে।