আশুলিয়া ফের অশান্ত
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩১
চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে এবং বকেয়া বেতন ও কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিক বিক্ষোভে ফের অশান্ত হয়ে উঠে আশুলিয়া। সকালে হিউন এপারেলস লিমিটেডসহ আরো কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা টঙ্গী-আশুলিয়া সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এসময় লাঠিচার্জে কমপক্ষে ৩০ শ্রমিক আহত হন। পরে সহিংসতার আশংকায় জামগড়ার কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে জামগড়ায় অবস্থিত এস সুহি নামের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এসময় তাদের সাথে যোগ দেন পাশের হিউন এপারেলস এর চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা। এছাড়া আশপাশের আরো কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে জামগড়া, ইউনিক, গাজির চট, বাইপাইল এলাকায় অবস্থান নিয়ে টঙ্গি-আশুলিয়া সড়ক ংঅবরোধের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক দফা লাঠিচার্জ করে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহসড়ক থেকে পিছু হটে বিভিন্ন সংযোগ সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এর আগে এই অঞ্চলের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে গতকাল আশুলিয়ার বেশির ভাগ কারখানাই চালু ছিল বলে জানা গেছে।
আন্দোলনরত হিউন এপারেলস লি. এর চাকরিচ্যুত শ্রমিক জালাল ও ফিরোজ জানান, তারা বকেয়া বেতনসহ ১৩ দফা দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি-দাওয়া না মেনে গত ২৪ নভেম্বর কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়। গত রবিবার কারখানাটি পুনরায় চালু করলে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে দেখে মূল ফটকের সামনে ১০১ জনকে চাকরিচ্যুত করার নোটিস। এতে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় পুলিশের লাঠিচার্জে অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়েছে বলে তারা জানান।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকপক্ষ ও কারখানার কর্মকর্তারা প্রায়ই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করে। এ ঘটনায় বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাছাড়া কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও প্রাপ্য মজুরি না দেয়ায় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে।
তবে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ বদরুল আলম দাবি করেছেন, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল বর্তমানে শান্ত রয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব-পুলিশের টহলের পাশাপাশি এলাকায় কড়া গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হয়েছে।
বেতনের অপেক্ষায় তাজরীনের কর্মীরা
এদিকে আগুনে পুড়ে যাওয়া তাজরীন ফ্যাশনসের শ্রমিকরা বেতনের আশায় গতকালও নিশ্চিন্তপুর প্রাইমারি স্কুলের মাঠ ও কারখানার আশপাশের এলাকায় জড়ো হন। তাদেরই একজন কারখানাটির অপারেটর লিলি। ভস্মীভূত কারখানার পাশে বসে তিনি প্রতীক্ষার প্রহর গুণছিলেন। এই প্রতিনিধিকে লিলি জানান, চলতি মাসসহ ৪ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে তার। বেতন পেলে বাড়ি ভাড়া, দোকানের বাকি পরিশোধ করবেন। লিলির মতো একই প্রতীক্ষায় রয়েছেন ওই কারখানার শত শত শ্রমিক। বেতনের চিন্তা ছাড়াও নতুন কোথায় চাকরি জুটবে সেটা নিয়েও অনিশ্চিত আশংকার মধ্যে রয়েছেন তারা। তবে তাজরীন কর্মীদের আজ বেতন দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বিজিএমইএ।